close

আন্তর্জাতিক সংবাদ

আন্তর্জাতিক সংবাদ

‘আকামা’ পদ্ধতি বাদ দিয়ে নতুন যে পদ্ধতি আসছে সৌদি আরবে’

Untitled-1 copy

 

সৌদি আরবে প্রবাসীদের জন্য প্রচলিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘আকামা’ (কাজের অনুমতিপত্র) আর থাকছে না। এর পরিবর্তে নতুন পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এটিকে ‘আকামা’র পরিবর্তে ‘পরিচয়পত্র’ (আইডেনটিটি কার্ড) বলা হবে।

 

এ ধরনের পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে সৌদি পাসপোর্ট বিভাগের প্রধান সহকারী পরিচালক কর্ণেল খালেদ আল-সাইখান ‘আরব নিউজে’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানান, ‘আকামা জালিয়াতিসহ তথ্য নিবন্ধন সহজ করার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।’
তিনি আরো জানান, ‘আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ডাকযোগে প্রবাসীরা নতুন এই পরিচয়পত্র পাবে। এতে তাদের সব ধরনের তথ্য থাকবে এবং অন-লাইনের মাধ্যমে নবায়ন করা যাবে।

 

নতুন প্রযুক্তিতে তথ্য জালিয়াতি বন্ধ, তথ্য নিবন্ধন সহজ এবং নবায়ন প্রক্রিয়ার দ্রুততম ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা। এতে তথ্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত থাকবে প্রবাসীর বৃত্তি, কাজের যোগ্যতা, জাতীয়তা, ওয়ার্ক পারমিট সংখ্যা (যদি থাকে), ধর্ম, নিয়োগ কর্তার নাম, সংখ্যা ও তারিখ। এ ধরনের তথ্যসংবলিত নতুন পদ্ধতিটিকে ‘আকামা’র পরিবর্তে ‘পরিচয়পত্র’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

সৌদি আরবে প্রবাসীদের জন্য প্রচলিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘আকামা’ (কাজের অনুমতিপত্র) আর থাকছে না। এর পরিবর্তে নতুন পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এটিকে ‘আকামা’র পরিবর্তে ‘পরিচয়পত্র’ (আইডেনটিটি কার্ড) বলা হবে।

এ ধরনের পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে সৌদি পাসপোর্ট বিভাগের প্রধান সহকারী পরিচালক কর্ণেল খালেদ আল-সাইখান ‘আরব নিউজে’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানান, ‘আকামা জালিয়াতিসহ তথ্য নিবন্ধন সহজ করার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।’
তিনি আরো জানান, ‘আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ডাকযোগে প্রবাসীরা নতুন এই পরিচয়পত্র পাবে। এতে তাদের সব ধরনের তথ্য থাকবে এবং অন-লাইনের মাধ্যমে নবায়ন করা যাবে।

নতুন প্রযুক্তিতে তথ্য জালিয়াতি বন্ধ, তথ্য নিবন্ধন সহজ এবং নবায়ন প্রক্রিয়ার দ্রুততম ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা। এতে তথ্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত থাকবে প্রবাসীর বৃত্তি, কাজের যোগ্যতা, জাতীয়তা, ওয়ার্ক পারমিট সংখ্যা (যদি থাকে), ধর্ম, নিয়োগ কর্তার নাম, সংখ্যা ও তারিখ। এ ধরনের তথ্যসংবলিত নতুন পদ্ধতিটিকে ‘আকামা’র পরিবর্তে ‘পরিচয়পত্র’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

 

 

 

 

read more
আন্তর্জাতিক সংবাদ

বাংলাদেশ কী মিয়ানমারের ফাঁদে পা দিলো ?

Untitled-1 copy

 

আর্ন্তজাতিক চাপের মুখে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে ঢাকায় রোহিঙ্গা শরনার্থী সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকা আসেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের বলেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে মিয়ানমার। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে দুই দেশ একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা উভয়ে সম্মত হয়েছি। এই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কম্পোজিশন কী হবে- সেটা আমরা বাংলাদেশও ঠিক করব, ওরাও ঠিক করবে। সম্মতিটা হয়েছে এই আলোচনায়।”

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য বৈঠকে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলকে ওই চুক্তির খসড়াও হস্তান্তর করা হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ‘নিরাপত্তা সহযোগিতার’ বিষয়েও ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে মাহমুদ আলী জানান।

 

এই বৈঠকের সাফল্য কতটা আসবে তা এখনই বলা সম্ভব না হলেও শরনার্থী প্রত্যাবর্তনে আর্ন্তজাতিক মহলের ভুমিকা কী হবে তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু দ্বিপাক্ষিকভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। কারন মিয়ানমার আগেই জানিয়েছে যাদের নাগরিকত্বের বৈধ কাগজপত্র আছে তারা কেবল ফিরতে পারবে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের আগেই নাগরিকত্ব হরন করা হয়েছে। তারা গনহত্যার মুখে এ দেশে চলে এসেছে ফলে তাদের কাছে তেমন কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। এছাড়া বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ইস্যুটি যে বড় করে দেখানো হয়েছে তা সহজে অনুমান করা যায়।

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারন পরিষদের অধিবেশনে এই সমস্যা সমাধানে যে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন তার এক নম্বরে ছিলো রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করা। এই অভিযান বন্ধ হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য মিয়ানমার সফরে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ইস্যু সামনে এনে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার দিকটি আগের মতো হিমাগারে ফেরত পাঠাতে পারে। ফলে আর্ন্তজাতিক সংশ্লিষ্টতা ও চাপ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের ফাদে হয়তো পা দিলো। আর এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কথিত বন্ধু রাষ্ট্রগুলো সন্ত্রাসের প্রশ্নকে সামনে এনে মিয়ানমারের অবস্থানকে সমর্থন দিতে পারে।

 

কারন এর আগে লাখ লাখ মানুষকে দেশ ছাড়া করতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গনহত্যার পক্ষে প্রবল সমর্থন জানিয়ে দিয়েছে চীন, ভারত ও রাশিয়া। ২৫ আগস্টের এই ঘটনার পর প্রথম দিকে সরকার হতবিহবল হয়ে পড়ে। রোহিঙ্গারা যখন নাফ নদী পারি দিয়ে স্রোতের মতো বাংলাদেশে ঢুকছে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার সফরে যান। সেখানে মিয়ানমারের সেনা অভিযানের পক্ষে ভারতের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে ভারত টু শব্দও করেনি। মিয়ানমারের পক্ষে চীনের অবস্থান অস্বাভাবিক ছিলো না। এ দেশের মানুষ মিয়ানমারের পক্ষে চীনের অবস্থানে খুব অবাক হয়নি যতটা বিস্মিত হয়েছে ভারত ও রাশিয়ার অবস্থানে।

 

রাশিয়া শুরু থেকে মিয়ানমারের পক্ষে শুধু জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে না, রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে চীনের চেয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে চীনের প্রতিনিধি উ হাইতাও যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে তিনি বলছেন “ এই বিরোধ বহুদিন ধরে দানা বেধে উঠেছে এবং রাখাইন পরিস্থিতি শান্ত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার সরকারকে যে অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে তা আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই বস্তনিষ্টতার সঙ্গে দেখতে হবে। মুসলিম জনগোষ্টীর গনপ্রস্থানের কারন চিহিৃত করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনায় সহযোগিতা করতে হবে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে। রাখাইনের পরিস্থিতি ক্রমেই স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। ” রাশিয়ার প্রতিনিধি ভাসিলি এ নেবেনজিয়া চীনের চেয়ে একধাপ এগিয়ে বলেছেন “ সমাধানের অতীত অবস্থানে গিয়ে দাড়িয়েছে পরিস্থিতি।

বিভিন্ন খবর অনুযায়ী আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি বেসামরিক লোকজনকে হত্যার অপরাধে অপরাধী এবং কট্ররপন্থীরা মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকেও বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। কোনো কিছুকে গনহত্যা বা জাতিগত নিধন হিসাবে আখ্যায়িত করার আগে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই সাবধান হতে হবে। আমরা সবপক্ষের প্রতি সহিংসতা ও সহিংসতা উসকে দেওয়া বন্ধের আহবান জানাই।” দেখা যাচ্ছে রাশিয়া সরাসরি এ ঘটনার জন্য দায়ি করেছেন রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের নামে কথিত সশস্ত্র সংগঠন আরসাকে।

একই সাথে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থীরা হিন্দুদের হত্যা করছে অভিযোগ করে পুরো ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছে।
অপরদিকে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র রাজিব কুমারের উদ্ধৃতি দিয়ে রাশিয়ার স্পুটনিক নিউজের খবরে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নয়াদিল্লি শুধু বাংলাদেশকে মানবিক ত্রাণ সাহায্য দেবে। তবে রাখাইনে হিন্দুদের গণকবর পাওয়ার খবরে হত্যাকারীদের শাস্তি দিতে মিয়ানমারের প্রতি দাবি জানিয়েছে ভারত।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বিবৃতি আর রাশিয়ার প্রতিনিধির নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া বিবৃতির মধ্যে আমরা মিল খুজে পাচ্ছি। হিন্দুদের হত্যা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন কিন্তু রোহিঙ্গা মুসলমানদের গনহত্যা ও শত শত নারীকে ধর্ষন নিয়ে দুদেশের কোনো বক্তব্য নেই। আঞ্চলিক পরাশক্তি হওয়ার জন্য ভারত সব সময় উদগ্রিব কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে মধ্যস্থতা করার সুযোগ নিতে রাজি নয়। প্রকৃতপক্ষে ভারত রোহিঙ্গা মুসলিমদের গনহত্যার নীতিকে সমর্থন করছে। বাংলাদেশের কথিত বন্ধ রাষ্ট্রের এ ধরনের সমর্থন পেলে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার মিয়ানমারের এমন আশ্বাস যে বাস্তবে রুপ পাবে না তা সহজেই অনুমান করা যায়। বাংলাদেশ কী আবারো মিয়ানমারের ফাদে পা দিলো? এ পশের উত্তর হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যে পাওয়া যাবে।

read more
আন্তর্জাতিক সংবাদ

বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ৮০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া……..

Untitled-1 copy

 

 

জিটুজি প্লাস মেকানিজমের অধীনে কোম্পানি এবং ফ্যাক্টরিতে লোক নিয়োগের সুযোগ ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে ৮০ হাজার চাহিদাপত্র বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

২০০৯ সালে শ্রম রফতানিতে ধস নামার পর ২০১৬ সালের ১০ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ৯৮ যাত্রী নিয়ে সোর্স কান্ট্রি হিসেবে প্রথম ফ্লাইট মালয়েশিয়ায় আসে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ কর্মী সে দেশে গেছেন।

জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানি শুরু হলেও শ্রমিক যাওয়ার গতি মন্থর অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার একাধিক নেতা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শুরু হওয়ার পর ২০ মাসে মাত্র ৩২ হাজার ৫০০ শ্রমিক যেতে পেরেছে।

 

 

 

সোমবার মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়া সরকার এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে সোর্স কান্ট্রি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। জিটুজি পদ্ধতিতে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার পর হাইকমিশনে এক লাখ কর্মীর নামে ডিমান্ড চলে এসেছে (চাহিদাপত্র)। এসব চাহিদাপত্রের বিপরীতে আমরা প্রতিটি কোম্পানিতে সরেজমিন গিয়ে সুযোগ-সুবিধা দেখে ৮০ হাজারের মতো ডিমান্ড সত্যায়িত করে ঢাকায় পাঠিয়েছি।

 

 

 

তার মধ্যে প্রসেসিং শেষে ঢাকা থেকে ৩২ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় চলে এসেছে। এর মধ্যে একজন কর্মীও হাইকমিশনে অভিযোগ করতে আসেনি। তাই দিন যত যাবে এখানকার মানুষের মনমানসিকতাও তত পরিবর্তন হবে। তখনই শ্রমিক আসার গতি বেড়ে যাবে।

 

 

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশটির বিভিন্ন কোম্পানি থেকে যেসব চাহিদাপত্র হাইকমিশনে জমা পড়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা প্রথমেই যে বিষয়ে জোর দিয়েছে সেটি হচ্ছে- থাকার জায়গা আছে কিনা, মেডিকেলসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঠিক আছে কিনা। সেগুলো নিশ্চিত হওয়ার পরই হাইকমিশন থেকে প্রতিটি চাহিদার বিপরীতে সত্যায়িত করে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ সংখ্যা এখন ৮০ হাজার হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু এখানে কিছুটা ব্যতিক্রম। যাক তার পরও ইদানীং কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। আশা করি কিছু দিনের মধ্যে কমিউনিটির ‘চরিত্র’ও পাল্টে যাবে। তখন শ্রমবাজারসহ সব কিছুতেই নতুন গতি ফিরে আসবে।

 

 

 

এ বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা মালয়েশিয়াগামীদের পরিসংখ্যান দেখে বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রফতানির কাজ এখন সুন্দরভাবেই হচ্ছে। তবে শ্রমিক পাঠানোর কাজটি যদি সব রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক করতে পারতেন, তা হলে কর্মী যাওয়ার গতি আরও বাড়ত।

 

 

 

এদিকে চাহিদাপত্র বাংলাদেশে পাঠানোর আগে দূতাবাসের শ্রম শাখার কর্মকর্তারা সরেজমিন ফ্যাক্টরি ভিজিট করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা, কর্মীদের সাক্ষাৎকার, কর্মস্থল ও হোস্টেল পরিদর্শন এবং নতুন কর্মী নিয়োগ করার সুযোগ, থাকার সুব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, ওভারটাইম, বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে দেয় কিনা ইত্যাদি যাচাই করা হচ্ছে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া বিদ্যমান কর্মীদের পে স্লিপ চেক করা হয়।

 

 

 

কোম্পানিগুলো তাদের কোম্পানির আয়-ব্যয়, শেয়ার, লাইসেন্স, প্রোডাকশন, এক্সপোর্ট ইত্যাদি তুলে ধরে দেখা হচ্ছে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয়ার অনুমতি আছে কিনা।

 

 

 

এ পর্যন্ত ১২৫০ ফ্যাক্টরি ভিজিট করা হয়েছে। যা আগে কখনই করা হয়নি বলে দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর মো. সায়েদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

 

 

সায়েদুল ইসলাম বলেন, এভাবে যাচাই করে আগে কখনই এটেসটেশন করা হয়নি। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোক এনে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছিল এবং এক ধরনের হিউম্যান ট্রাফিকিং করা হয়েছিল। এখন কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। কারণ মালয়েশিয়া কর্মী ব্যবস্থাপনায় উন্নত বিশ্বের মান অর্জন করতে যাচ্ছে শিগগিরই। এ ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে।

 

 

 

জনশক্তি রফতানিকারকরা জানান, গত ২০০৮ সাল পর্যন্ত জনশক্তি রফতানির বড় বাজার ছিল মালয়েশিয়া। বেতন-ভাতা ভালো, মুসলিম দেশ ও পরিবেশ ভালো থাকায় বাংলাদেশের কর্মীদের মালয়েশিয়া যাওয়ার আগ্রহ ছিল শীর্ষে।

 

 

 

কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন জটিলতায় এই বাজারে ধস নেমে কর্মী যাওয়া প্রায় বন্ধই হয়ে যায়।

২০০৮ সালে যেখানে কর্মী গিয়েছিল এক লাখ ৩১ হাজার, সেখানে ২০১০ সালে ৯০০ জনে নেমে আসে। পরে আরও কমে ২০১২ সালে ৮০০ জনে নেমে আসে।

 

 

 

সূত্র জানায়, এরপর ২০১৫ সালে এক বছরে যেখানে কর্মী গিয়েছিল ৩০ হাজার ৫০০ জন, ২০১৬ সালে সেটি বেড়ে ৪০ হাজার জনে উন্নীত হয়। আর ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মালয়েশিয়ায় কর্মী গেছে প্রায় ৩৭ হাজার জন, যা মোট কর্মী রফতানির ৫.৩৫ শতাংশ।

read more
আন্তর্জাতিক সংবাদ

এবার রোহিঙ্গা নির্যাতন সম্পরকে যা বললো অস্ট্রেলিয়া,বিস্তারিত………………………

Untitled-1 copy

 

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন চলতে থাকলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ। শনিবার তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা নির্যাতনকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে বিষয়টিকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার করতে পারে জঙ্গিরা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে এসেছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসায় মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জুলি বিশপ সতর্ক করেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চলমান সহিংসতায় সীমান্ত সমস্যাও বাড়াতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা খুবই উদ্বিগ্ন যে, নির্দিষ্টভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ঘটনাকে আইএস ও অন্যান্য সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হাতিয়ার বানিয়ে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজে লাগাতে পারে’।

 

জুলি বিশপ জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আর এ কারণেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে হবে’। রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে পরিষ্কার অবস্থান না নেয়ায় নোবেলজয়ী অং সান সুচি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক নিন্দার মুখে রয়েছেন। একই কারণে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার ছবি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

 

মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রীয় পরামর্শক সুচি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া ইঙ্গিত দিলেও কবে, কখন, কীভাবে তা করবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো দিক নির্দেশনা দেননি।

read more
আন্তর্জাতিক সংবাদ

সোমালিয়ায় সামরিক ঘাঁটি উদ্বোধন করলো তুরস্ক………………………..

Untitled-1 copy

 

আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে একটি সামরিক ঘাঁটির উদ্বোধন করেছে তুরস্ক। এর মধ্য দিয়ে আফ্রিকায় নিজের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার দিকে এগিয়ে গেলো তুরস্ক। বিভিন্ন দেশের তুরস্কের যেসব সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সোমালিয়ায় চালু হওয়া এই সবচেয়ে বড়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ঘাঁটিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। ঘাঁটিটি তৈরি ৫ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এখানে ১০ হাজার সোমালি সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একসঙ্গে ঘাঁটিতে দেড় হাজার সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুরস্কের সেনা প্রধান হুলুসি আকার বলেন, তুরস্কের বাইরে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। তুরস্ক সরকার ও সেনাবাহিনী আমাদের সোমালিয়ার ভাইদের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

উভয় দেশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ঘাঁটিটির আয়তন ৪ বর্গ কিলোমিটার। গত দুই বছর ধরে এর নির্মাণ কাজ চলছিল।

সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খাইরে বলেন, আমাদের সেনাবাহিনীকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই অ্যাকাডেমি গড়ে তোলা হয়েছে।

১৯৯১ সাল থেকে যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে সোমালিয়া। ওই সময় গোষ্ঠীভিত্তিক মিলিশিয়ারা দীর্ঘদিনের শাসক সিয়াদ বারে-কে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে। এরপর গোষ্ঠীগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।

গত এক দশক ধরে পশ্চিমা সমর্থিত সোমালিয়ার সরকার আল-কায়েদা সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আল-শাবাবের মোকাবিলা করছে। আল-শাবাব দেশটিতে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায়।

সোমালিয়ায় তুরস্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে এটি স্বীকার করা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি হচ্ছে বালিডোগল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে দেশটিতে।

read more
আন্তর্জাতিক সংবাদ

মিশরকে কেনো ইজিপ্ট আর ভারতকে কেনো ইন্ডিয়া ডাকা হয় জানেন? জেনে নিন অবাক করা তথ্য !!

Untitled-1 copy

 

মিশরকে কেনো ইজিপ্ট আর ভারতকে কেনো ইন্ডিয়া ডাকা হয় জানেন? জেনে নিন অবাক করা তথ্য !!মিশরকে কেনো ইজিপ্ট আর ভারতকে কেনো ইন্ডিয়া ডাকা হয় জানেন? জেনে নিন অবাক করা তথ্য !!

ভিডিও নিচে আসবে একটু অপেক্ষা করুন <<

https://youtu.be/elGzpPc6VIs

 

বি: দ্র : ই্উটিউব থেকে প্রকাশিত সকল ভিডিওর দায় সম্পুর্ন ই্উটিউব চ্যানেল এর

এর সাথে আমরা কোন ভাবে সংশ্লিষ্ট নয় এবং আমাদের পেইজ কোন প্রকার দায় নিবেনা।
ভিডিওটির উপর কারও আপত্তি থাকলে তা অপসারন করা হবে। প্রতিদিন ঘটে যাওয়া নানা রকম ঘটনা আপনাদের মাঝে তুলে ধরা এবং সামাজিক সচেতনতা আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ।

আরোও পড়ূনঃ-

জেনে নিন যে ৩টি উপায়ে খাঁটি সোনা চিনতে পারবেন ??

বিয়ে, জন্মদিন কিংবা যেকোনো উৎসবে নিজেকে সাজাতে নারীদের প্রথম পছন্দ হলো সোনার গহনা। তবে শুধুমাত্র নারীর অঙ্গশোভা বাড়াতে নয়- আভিজাত্য এবং সম্পদ সংরক্ষণে যুগ যুগ ধরেই প্রাধান্য পায় সোনা। কিন্তু স্যাকরার দোকানে গিয়ে খাঁটি স্বর্ণ চিনতে না পারায় অনেক সময় ঠকতে হচ্ছে। আসলে সাধারণের পক্ষে খাঁটি স্বর্ণ চেনা কিন্তু সহজ কথা নয়।

জেনে নিন খাঁটি সোনা চেনার উপায়-

 

১। সোনা কিনুন ২৪ ক্যারটের– ২৪ ক্যারট সোনাই আসল খাঁটি সোনা। ২৪ ক্যারট সোনা মানে ৯৯.৯% শতাংশ খাঁটি সোনা। কিন্তু দোকানে সাধারণত ২৪ ক্যারট সোনা দিয়ে গয়না তৈরি হয় না। তাতে সেই সোনার অলঙ্কার বড্ড নরম হয়ে যাবে। তাই দোকানে সাধারণত ২২ ক্যারট সোনা দিয়েই অলঙ্কার তৈরি করা হয়। আপনি সেদিকটা খতিয়ে দেখে নেবেন যাতে ২২ ক্যারট সোনা দেওয়া হয়। ২২ ক্যারট সোনা মানে ৯১.৬% শতাংশ সোনা।

২। BIS চিহ্ন দেখে সোনা কিনুন – সাধারণত, সোনা কেনার আগে হলমার্ক দেখেই মানুষ কেনেন। এটাই নিয়ম খাঁটি সোনা চেনার ক্ষেত্রে। কিন্তু এছাড়াও BIS চিহ্ন দেখে সোনা কিনুন। তাতে আপনি নিশ্চিত থাকবেন যে, আপনার সোনা সত্যিই খাঁটি।

৩। ফ্লুরোসেন্স মেশিনে এক্স রে করিয়ে নিন। যদিও এই পদ্ধতিতে সোনা যাচাই করে নেওয়াটা একটু কঠিন। কারণ সব জায়গাতে সচরাচর এমন সূযোগ আপনি নাও পেতে পারেন। তবুও একবার চেষ্টা করে নেবেন, যাতে এই পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আপনি আপনার সোনাকে যাচাই করে নিতে পারেন।

read more
আন্তর্জাতিক সংবাদ

সুখবরঃ এবার বাংলাদেশী শ্রমিকদের উপর থেকে যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল সৌদি আরব, বিস্তারিত

Untitled-1 copy

 

বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে সৌদি আরব। সৌদি রয়েল কোর্টে এক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় একথা জানানো হয়েছে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো জরুরি এই ফ্যাক্স বার্তায় জানা যায়। সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ডেপুটি মিনিস্টার ডক্টর আহমেদ আল ফাহাইদ গত রোববার সকালে টেলিফোনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলামকে বিষয়টি জানান।

জানা যায়, শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা চূড়ান্ত নিয়োগের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে এক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল শিগগির বাংলাদেশ সফর করবে।

 

 

এ সম্পর্কিত ‘আরব নিউজে’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের শ্রম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেইনের সৌদি আরবে সফরের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সফরে তিনি জানান, শ্রমিক নিয়োগে সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের চাহিদা মোতাবেক বাংলাদেশ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

 

 

এ নিয়ে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও সৌদি আরবের শ্রমমন্ত্রী আদেল ফাকেইর মধ্যে সফল আলোচনা হয়। এতে উভয় পক্ষ থেকে এ অভিমত দেয়া হয় যে, বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা রয়েছে এবং তারা সৌদি আরবের সংস্কৃতি ও শ্রম আইন সম্পর্কেও অবহিত।

 

 

আরব নিউজ পত্রিকায় আরো বলা হয়, বাংলাদেশে একটি জনশক্তি কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। এই কেন্দ্র সৌদি আরবের সঙ্গে জনশক্তি রফতানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

 

এছাড়া বাংলাদেশের রয়েছে প্রায় ২২ লাখ শ্রমিকের ডাটাবেজ। যা বর্তমানে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংসহ অন্যান্য দেশে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় বলে মোশাররফ হোসেইন একথা জানান।

 

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশিদের কাজের ভিসা, আকামা ও পেশা পরিবর্তনসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেয় সৌদি সরকার।

 

read more
আন্তর্জাতিক সংবাদ

বিপদের মুখে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।কি কারণে দেখুন,…………………………

Untitled-1 copy

 

মাস অতিক্রম হয়ে গেল রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যৌক্তিক কোনো সমঝোতায় আসতে পারল না। ইতোমধ্যে চার লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত ডিঙিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানবিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ পড়েছে শরণার্থী ঢলের চাপে।

এ অবস্থায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচআরের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শন শেষে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘সীমান্তের ওপারে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলিম চাপের মুখে আছে। তারা স্থানচ্যুত হয়েছে। সহিংসতা বন্ধ না হলে আবারো তারা দলে দলে আসবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের কোথাও এত দ্রততার সাথে শরণার্থী সঙ্কট প্রকট হয়ে ওঠেনি। তার মতে, এ মুহূর্তে মিয়ানমারের উচিত সহিংসতা বন্ধ করা। একই সাথে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া।’ ফিলিপো গ্রান্ডির আশঙ্কার সত্য প্রমাণ হয়েছে।

 

 

এক দিনের মধ্যে নতুন করে সাত হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আসার কারণ হত্যা, নারী নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাদের আর পালিয়ে থাকার কোনো অবস্থা ছিল না। গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে যে জাতিগত নিধন শুরু করে তাতে মংডু শহরাঞ্চলের বাসিন্দারা তুলনামূলক ভালো অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু নতুন করে আসা শরণার্থীদের প্রায় সবাই মংডুর বাসিন্দা। এতে বোঝা যায় রাখাইনের অবস্থা দিনকে দিন কোন দিকে যাচ্ছে।

 

জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ না দিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। ওই ভাষণে রাখাইন রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সু চি বলেছিলেন, কেন রাখাইন রাজ্য থেকে মানুষ চলে যাচ্ছে সেটা তিনি জানার চেষ্টা করবেন এবং সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে কাজ করবেন। তার ওই টেলিভিশন বক্তব্যের আগে রাখাইনে তিনটি ক্যাম্প করে গৃহহীনদের ত্রাণ দেয়ার খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। সু চি’র বক্তব্য এবং ত্রাণকার্যক্রম কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনে।

 

 

কিন্তু সব কিছুই যে ভণিতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ এড়ানোর কৌশল ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গেলে ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবেশ করা মংডুর মংনির বাসিন্দা গুলবাহার নামে এক শরণার্থীর মুখে। তিনি বলেন, সপ্তাহখানেক আগে ত্রাণ দেয়ার একটা নাটক করে। তাদের ডেকে একটা গেঞ্জি, তিন কেজি চাল, আধা কেজি ডাল দেয়া হয়। ছবি তোলার পর ওই ত্রাণ আবার কেড়ে নেয়া হয়। মানবিক মূল্যবোধ কতটা নিচু হলে এ রকম কাজ করা যায়, সেটা বড় একটি প্রশ্ন।

 

 

এ অবস্থার মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেস রোহিঙ্গা সমস্যার সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরবেন। এ বৈঠক থেকে রাখাইনে দ্রæত সহিংসতা বন্ধ করে সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে পরিষদের কাছে জোরালো পদÿেপের আশা করা হচ্ছে। আজকের আলোচনায় যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছেÑ রাখাইনে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করা, সেখানে বাধাহীনভাবে ত্রাণকর্মীদের কাজ করতে দেয়া এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বা¯Íবায়নে চাপ প্রয়োগ করা। এর আগে ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সবার আগে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে সমালোচনা করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, মিয়ানমারে সামরিক অভিযান বন্ধে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার জন্য জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সাথে কাজ করবেন তিনি।

 

 

মিয়ানমারের সহিংসতাকে তিনি ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইউরোপের কোনো নেতার সম্ভবত এটাই সবচেয়ে কড়া সমালোচনা। ব্রিটিশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ ওঠায় দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিণ দেয়া স্থগিত করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরের রাজারতœাম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক অ্যালিস্টার কুক বলছেন, ইউরোপের অন্য দেশগুলোর উচিত যুক্তরাজ্যকে অনুসরণ করা। তিনি আরো বলেন, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো প্র¯Íাব এলে চীন ও রাশিয়া সেখানে ভেটো দেয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্র¯Íাবের পরিবর্তে ইউরোপের দেশগুলোর সমন্বিত পদপে অনেক বেশি কার্যকর হবে। এসব অবস্থানে এটা সুস্পষ্ট, মিয়ানমারের ওপর দিনকে দিন চাপ বাড়ছে। কিন্তু সময় অনেক গড়িয়ে গেছে, এখন মানুষ দেখতে চায় চাপের প্রয়োগ। যা মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাধ্য করতে পারে বা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের অনেক বড় নেতার মুখে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনো কথা শোনা যায়নি।

 

 

 

আমরা বিস্মিত হয়ে দেখলাম, কানাডা রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিলেও জাতিসঙ্ঘে দেয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ নিয়ে টুঁ শব্দটিও করলেন না। তার মুখ থেকে অন্তত রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কিছু কথা শোনার আশা করেছিলেন অনেকে। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন এই আত্মবিশেøষণ জরুরি যে, এই অধিবেশনের আগে বা চলার সময় আমাদের ক‚টনৈতিক তৎপরতা যথেষ্ট জোরালো ছিল কি? নাকি বাংলাদেশের তরফে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার সুযোগ ছিল।

 

 

 

ইউনাইটেড নেশনস নিউজ অ্যান্ড কমেন্ট্রি ফোরাম, ইউএন ডিসপ্যাচের এক পর্যালোচনায় জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যে পাঁচটি দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তাতে তিন নম্বরে ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু। কিন্তু এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ ইস্যু সেই মাত্রার গুরুত্ব পায়নি। তাই এই জায়গাটায় বাংলাদেশের আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ রোহিঙ্গা সমস্যা দীর্ঘ হলে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়বে। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশের জন্য এই চাপ সত্যিই অসহনীয়। আরাকান রাজ্যের সঙ্কটের কোনো দায় বাংলাদেশের না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় কাজটি বাংলাদেশকে করে যেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য সবচেয়ে হতাশার কথা হচ্ছেÑ কিছু বন্ধুদেশ বাংলাদেশের চাওয়া অনুযায়ী পাশে নেই।

 

 

 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত, চীন ও রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্টতই মিয়ানমারের প।ে জাপান এ নিয়ে তেমন স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। তবে শরণার্থীদের সহায়তায় তারা মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দুই দেশকেই সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী এইচ ই আইওয়া হওরি ২২ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার সফরের সময় বলেছেন, মিয়ানমারকে সাহায্য-সহযোগিতা দেয়ার যে নীতি জাপানের আছে, তা পরিবর্তন হবে না। রাখাইন ইস্যুতে তিনি মিয়ানমারকে ১০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রæতি দিয়ে এসেছেন। অথচ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ইস্যুতে এই দেশগুলোর সমর্থন বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরি।

 

 

 

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, শরণার্থী সমস্যা ও বাংলাদেশের ওপর চেপে বসা সমস্যাটির ব্যাপারে চীন, ভারত, রাশিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো সহানুভূতিশীল হলে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির কাজটি সহজ হতো। এখানেও আবার সেই ক‚টনীতি ও এর সফলতার প্রকট চলে আসে। কারণ আশ্রিত রোহিঙ্গা ইস্যু শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় তা বুঝাতে হবে আন্তর্জাতিক মহলকেও। গণহত্যার শামিল এই নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার এবং রোহিঙ্গাদের নিশ্চিত ও সুরÿিত জীবন ও নাগরিক অধিকার দিতে হবে। না হয় এই সমস্যা সামগ্রিকভবে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়বে। উগ্রবাদী লোকদের সাহস জোগাবে অন্যায়ের প্রতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলো অভ্যন্তরীণ সমস্যা প্রকট হবে। তাই এ সমস্যা অচিরেই সমাধান করতে হবে। যাতে মিয়ানমার নাগরিকরা ও তার অন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র সুরÿিত থাকতে পারে।

read more
আন্তর্জাতিক সংবাদ

এরদোয়ান যেভাবে মুসলিম বিশ্বের নেতা হচ্ছে !!

Untitled-1 copy

 

আর্ন্তজাতিক রাজনীতিতে তুরস্ক এখন গুরুত্বপূর্ন ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের যে কোনো ঘটনায় তুরস্ক এখন সরব। কার্যত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান মুসলিম বিশ্বের নেতায় পরিনত হয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে এসেছে বিরাট পরিবর্তন। সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠে নিন্দা ও সমালোচনা করেছে তুরস্ক। আর তা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান।

একের পর এক বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের আন্তর্জাতিক কণ্ঠে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। জাতিসঙ্ঘেও তিনি সরব ছিলেন। রোহিঙ্গা সংকটসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে তুরস্কের নেতৃত্বস্থানে আসতে চাওয়ার নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ বিশ্লেষণ করে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক অলাভজনক ও গবেষণাধর্মী সংবাদমাধ্যম দ্য কনভারসেশন। এই প্রতিবেদনে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতির কিছু বিশ্লেষন করা হয়েছে।

বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা
বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সরে যাওয়ার ফলে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়ে তা এক্ষেত্রে কিছু ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু মূলত তুরস্কের দীর্ঘদিনের পশ্চিমাপন্থী মনোভাব পাল্টে গেছে। তুরস্ক পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য এবং কয়েক বছর ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য হওয়ার জন্য আগ্রহী ও চেষ্টায় ছিল। কিন্তু এরদোয়ানের নেতৃত্ব ও ক্ষমতাসীন একেপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এখন দক্ষিণমুখী হয়ে পড়েছে নতুন সুবিধা লাভের আশায়।

বিলকেন্ট ইউনিভার্সিটির অ্যাকাডেমিক পিনার বিলজেন ও আলি বিলজিক তুরস্কের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিকে ‘সিভিলাইজেশনাল জিওপলিটিকস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যা সংস্কৃতি ও সভ্যতার মাপকাঠিতে আন্তর্জাতিক আচরণ নির্ধারণের পন্থা।
বিলজিন ও বিলজিক যুক্তি তুলে ধরে বলেন, নতুন এই মতবাদ তুরস্ককে পশ্চিমা ও এশিয়ার বাকি অংশের ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রে স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে এই বৈশ্বিক হস্তক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সেন্ট্রাল এশিয়ান ও অটোমান ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতির এই পরিবর্তন শুরু হয় একুশ শতকের প্রথম দশকের শেষ দিকে। এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছেন ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তুরস্কের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী (২০০৯-১৪) আহমেদ দাভুতোগলু। তুরস্কের বৈশ্বিক জাগরণে ২০১০ সালে নেওয়া পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্ব অপরিসীম এবং এই নীতির মস্তিষ্ক মনে করা হয় তাকে।

দাভুতোগলুর সময়ে তুরস্কের বৈশ্বিক কূটনৈতিক ব্যাপ্তি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকায়। ২০১২ সালে তিনি মিয়ানমারে তুরস্কের প্রথম দূতাবাস চালু করেন। এর মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে গণতন্ত্রের পথে মিয়ানমারের যাত্রা ও রোহিঙ্গা ইস্যু—উভয় সুবিধা আদায় করেন।

২০১৩ সালে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে দাভুতোগলুর একাধিক সফর করেছেন। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এটি ছিল তুরস্কের নতুন পররাষ্ট্রনীতি। বৈশ্বিক মানবিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার দীর্ঘদিনের ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ছিল তুরস্কের। তুর্কি বিশেষজ্ঞ ই ফুয়াত কেইম্যান ও অনুর জাকাক এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ‘মানবিক রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। দাভুতোগলুর নতুন পররাষ্ট্রনীতিতে সেই ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষা’র প্রতিফলন উঠে আসে।

তুরস্কের মানবিকতার প্রতি এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন সাংবাদিক ও সাবেক সোমালি পরিকল্পনামন্ত্রী আবদিরহমান আলি। তিনি তুরস্কের মানবিক সহযোগিতা পদ্ধতিতে পশ্চিমা ও চীনা ত্রাণ সহযোগিতা মডেলের মাঝামাঝি বলে চিহ্নিত করেছেন। পশ্চিমা ও চীনের ত্রাণ সহযোগিতা কঠিন শর্তযুক্ত, আমলাতান্ত্রিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট। যা শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি ও স্বৈরাচার শাসকদের হাতে গিয়ে পড়ে। বিপরীতে আলীর দাবি, তুরস্ক এক্ষেত্রে ‘‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে মানবাধিকার রক্ষা ও দুর্বলকে সহযোগিতা করার ‘নৈতিক’ অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়।”

গত পাঁচ বছরে তুরস্ক নিজেদের এই ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ বাস্তবায়নে সহযোগিতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি এনজিও ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্বে মানবিক সহায়তাকারী দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তুরস্ক। এই খাতে দেশটি ব্যয় করেছে ৬ বিলিয়ন ডলার। শীর্ষ সহযোগিতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহযোগিতায় ব্যয় করেছে ৬.৩ বিলিয়ন।

মুসলমানদের অধিকারের রক্ষায় সরব
রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরদোয়ানের উচ্চকিত কণ্ঠের আরেকটি কারণ হচ্ছে, তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। সত্যিকার অর্থে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরদোয়ানের প্রকাশ্য বক্তব্য অনেকটাই নিজের স্বার্থে। বিশ্বের যেকোনও স্থানের মুসলমানদের জন্য শক্তিশালী তুরস্কের ভাবমূর্তি দেশটির রাজনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তুরস্কের নেতা হিসেবে এরদোয়ানের ১৫ বছরের শাসনামলে একসময় কোণঠাসা হয়ে পড়া মুসলমানরা মিডিয়া, বাণিজ্য ও রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

মুসলিম বিশ্বের বিরাট অংশের জনগণের মতের কথা বাদ দিলেও তুরস্কের অতি-উৎসাহী সমর্থকদের কাছে যেকোনও মুসলমানের অধিকারের জন্য এরদোয়ান প্রধান ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

এরদোয়ান দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও গবেষণায় বিভিন্ন সংকটের মুহূর্তে নিজেরে এই ভাবমূর্তি গড়ে তোলেছেন। যেমন—২০১১-১২ সালে মিসরে মুরসি শাসনামল বা ফিলিস্তিন। ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার কারণে আরবি দৈনিক পত্রিকার ফিলিস্তিনপন্থী কলাম লেখকদের কাছে এরদোয়ান ‘নয়া নাসের’ হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন।

read more
আন্তর্জাতিক সংবাদ

বিশ্ব শান্তিরক্ষায় কাজ করতে গিয়ে বাবার মতো প্রাণ দিলেন মনোয়ারও…..

Untitled-1 copy

 

 

দেশের শান্তিরক্ষায় কাজ করতে গিয়ে ঢাকার লালবাগে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। এবার বিশ্ব শান্তিরক্ষায় কাজ করতে গিয়ে প্রাণ দিলেন তাঁর সৈনিক ছেলে মনোয়ার হোসেন।

দুজনই শান্তির পথের যোদ্ধা হয়ে শহীদ হলেন। গত রবিবার আফ্রিকার মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসীদের হামলায় মনোয়ারের মৃত্যু হয়। বাবা রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে যে দুর্যোগ নেমে এসেছিল পরিবারটিতে, এবার একই বিপর্যয় নেমে এলো মনোয়ারের স্ত্রী-সন্তানদের ওপর। পরিবারটিতে এখন চলছে শুধু আহাজারি। বাবার মতো ছেলেরও একই পরিণতিতে পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে কেউ।

 

 

 

নিহত মনোয়ার বরিশাল নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপাশা এলাকার বাসিন্দা। এখানেই একটি বাসায় বিধবা মা ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মনোয়ারের পরিবার বসবাস করছে। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন গ্রামে। মনোয়ার সেনাবাহিনীর যশোর ক্যান্টনমেন্টে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন।

চলতি বছরের ৩০ মে তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে মালিতে যান। তাঁর সাত ও দেড় বছরের দুই সন্তান রয়েছে।

গতকাল সোমবার ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সাত বছরের ইলমুন ও দেড় বছরের তাসনিম নামের দুই শিশুসন্তান বাবা হারানোর বেদনা উপলব্ধি করতে না পারলেও বাড়িতে থাকা মা রওশন আরা বেগম এবং স্ত্রী ইভা আক্তার শোকের সাগরে নিমজ্জিত। তাঁদের বিলাপে আশপাশের এলাকা শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। কোনো সান্ত্বনাই তাঁদের আশ্বস্ত করতে পারছে না।

read more
1 2 3 16
Page 1 of 16