close

ইসলাম

ইসলাম

পাঁচ উপায়ে দুঃখগুলোকে সুখে পরিণত করুন

faijullah-5-upaye-dukkhoguloke-sukhe-porinoto-korun

আপনি হয়ত কল্পনার জগতের বাইরেও বাস্তব জীবনে এমন অনেক মানুষ দেখেছেন যারা যে কোন ছোট কোন সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বড় কোন সুবিধা লাভ করে থাকে, তারা অনেকটা পরশ পাথরের মত যাদের স্পর্শে একখন্ড পাথরও সোনায় পরিণত হয়। একবার আমি এক ব্যবসায়ীর কথা

 

শুনেছিলাম যিনি এমন এক এয়ারলাইন্স কোম্পানি কিনেছিলেন যা শুধু যে লসের মাঝেই ছিল তা নয় বরং এর সাথে বিরাট অংকের দেনার মাঝেও আটকে ছিল। তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিকে এক মিলিয়ন ডলারে ক্রয় করে দ্রুতই তাকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করেছিলেন। এই গুণাবলি কি

 

মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই পায় না কি সময়ের সাথে সাথে কাজ ও দক্ষতার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়? অন্য যে কোন গুণাবলীর মতই কিছু মানুষ আছে যারা স্রষ্টা প্রদত্ত প্রতিভা লাভ করলেও বিষয়টি এমন না যে আপনি তা লাভ করতে পারবেন না। আসলে আমরা আমাদের জীবনকে মানসিক দ্বন্দ্বে

আবদ্ধ রাখি বলেই সফলতা আমাদের ধরা দেয় না। এই সমস্যা দেউলিয়াত্ব কিংবা শারীরিক ক্ষতির চাইতেও মারাত্মক হয় ফলে তা আমাদের সংকুচিত করে ফেলে এবং আমাদের আচরণের তার প্রভাব দেখা দেয়। আসলেই কি হৃদয়ের এই ক্ষত মুছে তাকে সফলতায় রূপান্তর সম্ভব? পূর্বসূরী জ্ঞানীগণ

বলে গেছেন অবশ্যই সম্ভব তবে তার জন্য প্রয়োজন নিরলস প্রচেষ্টা ও ধৈর্য্য। ১. ধৈর্য্যের চারা রোপণ করুন ধৈর্যের ফলাফল কত মিষ্ট হতে পারে তার পরিমাপ করা সম্ভব নয়। “যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।” (সূরা যুমার:১০) আল্লাহ আমাদের সকলের সাথেই রয়েছেন তবে

যারা ধৈর্যশীল তাদের সাথে আল্লাহর রয়েছে এক নিবিড় সখ্যতা। “এবং ধৈর্যশীল হও ও অধ্যবস্যায় কর, নিশ্চয় আল্লাহর ধৈর্য্যশীলদের সাথেই আছেন।” (সূরা আনফাল :৪৬) সত্য বলতে কি মানুষের সাথে রূঢ় আচরণ করা যতটা সহজ ধৈর্য্য ধারণ করা ততটাই কঠিন। তবে যদি আমরা প্রথম

 

কয়েকটি কঠিন ধাপ পেরিয়ে যেতে পারি তবে অবশ্যই তা আমাদের জন্য সহজতর হয়ে যাবে। আর যে সবর অবলম্বন করে আল্লাহ তাকে রহমতের চাদরে আবৃত করেন, এবং যে তার যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে আল্লাহ তাকে স্ব-নির্ভর করে দেন। ধৈর্য্যের চেয়ে মহামূল্যবান কোন পুরস্কার নেই।

(বুখারী) ২. সহানুভূতির শিক্ষা যখন কেউ আমাদের আঘাত করে এবং আমরা নিজেদের দিকে তাকাই, দেখতে পাই আমাদের অন্তরগুলো ব্যথাতুর হয়ে উঠে, আমরা রাগান্বিত হই। এই অবস্থাটা আমাদের জন্য সর্বাপেক্ষা কঠিন ও সহানুভূতি শিক্ষার অন্যতম উপায়। এভাবেই আমরা নিজের মাধ্যমে

অন্যকে বুঝতে পারি। আমাদের অন্তরগুলো যখন বেদনাহত, আমরা তখন অনুভব করি একই অবস্থানে অন্যের অবস্থা কি হতে পারে। হতে পারে সময়ের চাকা আপনার দিকেও ঘুরতে পারে কিংবা এমনও হতে পারে আপনি নিজের অজান্তেই মানুষকে এমনভাবেই কষ্ট দিয়েছেন। অন্যের কষ্টগুলো

অনুভবের চেষ্টা করুন, তারাও যখন আপনার দ্বারা কখনো আঘাত পেয়েছিল ঠিক এমনি ছিল তাদের অনুভুতিগুলো। যদি এভাবে ভাবতে পারেন তবে নতুন এক শিক্ষা লাভ করতে পারবেন যা পরবর্তিতে আপনার ব্যথাতুর হৃদয়কে শান্ত করতে কাজে দিবে। ৩. আল্লাহতেই পূর্ণতা অন্বেষণ করুন আল্লাহ

 

ছাড়া আর কেউ পরিপূর্ণ নন। প্রতিটি মানুষেরই যেমন কিছু ভাল দিক রয়েছে ঠিক রয়েছে তেমন খারাপ দিক। অনেক সময় দেখবেন মানুষ আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে, যখন অসৎ ব্যক্তিবর্গ পরস্পর মিলিত হয় এ সমস্যা হতে বাধ্য। যিনি সর্বদাই আপনার পাশে থাকেন, আপনাকে সর্বাপেক্ষা বুঝতে পারেন

এবং আপনার মঙ্গল কামনা করেন তিনি একমাত্র আল্লাহ। আঘাত পেলেই বুঝতে পারা যায় মানুষ কতটুকু ত্রুটিপূর্ণ এবং আল্লাহ কত মহান এবং পরিপূর্ণ এক সত্তা, এতে আরও বুঝা যায় কাকে ভালবেসে তার উপর নির্ভরশীল হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ৪. ধৈর্য্যের সর্বোচ্চ স্তর পরিতৃপ্তির শিক্ষা নিন

যখন আপনি আল্লাহর উপর পরিপূর্ণরূপে নির্ভরশীল হবেন। অবশ্যই তখন তিনি আপনার প্রতি রহমত বর্ষণ করবেন এবং আপনার জন্য যা উত্তম তাই তিনি নির্ধারণ করবেন। এমন পরিস্থিতিতে আপনি শুধুমাত্র একজন ধৈর্য্যশীল হবেন না বরং শান্তিতেও থাকবেন। কোন গ্লানি আপনার সুখ কেড়ে

 

নিতে পারবে না। আগে যে কারণে আপনি কষ্ট পেতেন সেই দুঃখগুলোই আজ আপনার আনন্দে রূপান্তরিত হয়েছে। এ হচ্ছে ঈমানের এক উচ্চতম স্তর, তবে তা অর্জন করা অসম্ভব নয়। ৫. আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলুন যখন আপনি কষ্টে থাকেন এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন তখন

সত্যিই দোয়াগুলো হৃদয়ের গভীর থেকে আসে। যদি আমরা নিয়মিত দোয়া করে যাই তবে অচিরেই আমরা সুন্দর অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারব। আমরা অনুভব করতে পারব আমাদের হৃদয়ের ব্যথার উপর ভিত্তি করেই আল্লাহর সাথে আমাদের এক গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠছে যা আমরা আর

কখনো হারাতে চাইনা, এবং চাইনা আল্লাহর সাথে গড়ে উঠা সম্পর্কের ইতি ঘটুক। রাব্বে কারীম আপনার, আমার সহায় হোন।

read more
ইসলাম

বিপদে পড়লে মহানবী (সাঃ) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন

Untitled-1 copy (1)

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন

 

সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন। দোয়া ৩টি হলো– ১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন : লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস) অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা

 

বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০) ২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে

: ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’ অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫) ৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন : আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা

সাহলান ইযা শিইতা। অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

read more
ইসলাম

এই সেই মসজিদ যে মসজিদে আমাদের ৭০ জন নবী নামাজ আদায় করেছেন !

20-21

৭০ জন নবী নামাজ – হজের আনুষ্ঠানিকতার অন্যতম অংশ হলো- শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে কঙ্কর নিক্ষেপ করা। এই কঙ্কর নিক্ষেপের স্থানের খুব কাছে ঐতিহাসিক ‘মসজিদে খায়েফ’ অবস্থিত। এই মসজিদে ৭০ জন নবী নামাজ আদায় করেছেন।

 

সওর পাহাড়ের বিপরীত দিকের পাহাড়ের অদূরে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদের আলোচনা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে।বিশাল মসজিদটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে আসা হাজিদের মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসের অনেক ঘটনাকে। বৃহদাকার মসজিদের উচুঁ মিনারগুলো বেশ দূর থেকে পাহাড়ের চূড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

 

বর্ণিত আছে,হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদে নামাজ আদায় করছেন এবং বলেছেন, এখানে সত্তরজন নবী সমাহিত হয়েছেন। নবী করিম (সা.) বিদায় হজে মসজিদে খায়েফে নামাজ পড়েছেন। এই মসজিদের অনেক ফজিলত হাদিস ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে। পাহাড়ের চেয়ে নিচু এবং

সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু স্থানকে আরবি পরিভাষায় খায়েফ বলা হয়। আবার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকাসম ভূমিকেও খায়েফ বলে আরবরা। অপরদিকে, খায়েফ মসজিদ হচ্ছে মক্কার কাফেরদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের এক স্মৃতিচিহ্ন। ইতিহাসে এসেছে, পঞ্চম হিজরিতে ইহুদিদের

প্ররোচনায় মক্কার কাফেররা মদিনায় হামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ লক্ষ্যে তারা কিছু আরব গোত্রের সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করে। এই সন্ধি চুক্তি করার জন্য মক্কার কাফেররা যে স্থানটি বেছে নেয় পরে সেখানেই খায়েফ মসজিদ নির্মিত হয়। মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফের গোত্রগুলোর ঐক্যের ব্যর্থতার

নিদর্শন হিসেবে মসজিদটি দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত ঘোষণা করছে, ইসলামের বিজয়গাঁথা ইতিহাসকে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়েফ মসজিদের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন ওসমানিয় শাসনামলে সেখানে একটি বড় গম্বুজ ও মেহরাব তৈরি করা হয়। এখন অবশ্য সেটি আর নেই।

ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে, ২৪০ হিজরিতে এক প্রলয়ঙ্করী বন্যায় খায়েফ মসজিদ ধসে পড়ে। তবে বন্যা শেষ হওয়ার পরপরই মসজিদটি আবার নির্মাণ করা হয় এবং এর চারপাশে বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়। সে সময় এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ছিল ১২০ মিটার এবং প্রস্ত ছিল ৫৫ মিটার।

সে হিসাবে এটি ছিল ওই সময় আরব অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এমনকি তখন মসজিদে হারামের চেয়েও বড় ছিল এই মসজিদের আয়তন। ৮৭৪ হিজরিতে মিসরের মামলুকি সুলতান কাইতবা এই মসজিদ পুননির্মাণ করেন। মসজিদের ওই স্থাপনাটি কয়েক দশক আগ পযন্ত বিদ্যমান ছিল। এখন

থেকে তিন দশক আগে ১৪০৭ হিজরিতে এই মসজিদ পরিবধন ও পুননির্মাণের এক বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মসজিদের আয়তন আগের চেয়ে চারগুণ বাড়িয়ে প্রায় ২৫ হাজার বর্গমিটার করা হয়। খায়েফ মসজিদে এখন ৩০ হাজার মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায়

করতে পারেন। মসজিদের চারকোণায় অবস্থিত চারটি সুউচ্চ মিনার মসজিদটিকে দান করেছে অপার সৌন্দর্য। হজের মৌসুমে মিনায় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের সময়টাতে মসজিদটি মুসল্লিদের প্রচুর ভিড় দেখা যায়। মসজিদের সামনে স্থাপিত সাইনবোডে বেশ ৭টি ভাষায় লেখা

রয়েছে মসজিদের নাম। সেখানে বাংলাতেও লেখা আছে- আল খায়েফ মসজিদ।

read more
ইসলাম

এই সেই মসজিদ যে মসজিদে আমাদের ৭০ জন নবী নামাজ আদায় করেছেন !

Untitled-1 copy

৭০ জন নবী নামাজ – হজের আনুষ্ঠানিকতার অন্যতম অংশ হলো- শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে কঙ্কর নিক্ষেপ করা। এই কঙ্কর নিক্ষেপের স্থানের খুব কাছে ঐতিহাসিক ‘মসজিদে খায়েফ’ অবস্থিত। এই মসজিদে ৭০ জন নবী নামাজ আদায় করেছেন।

 

সওর পাহাড়ের বিপরীত দিকের পাহাড়ের অদূরে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদের আলোচনা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে।বিশাল মসজিদটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে আসা হাজিদের মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসের অনেক ঘটনাকে।

 

বৃহদাকার মসজিদের উচুঁ মিনারগুলো বেশ দূর থেকে পাহাড়ের চূড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বর্ণিত আছে,হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদে নামাজ আদায় করছেন এবং বলেছেন, এখানে সত্তরজন নবী সমাহিত হয়েছেন। নবী করিম (সা.) বিদায় হজে মসজিদে খায়েফে নামাজ পড়েছেন।

 

এই মসজিদের অনেক ফজিলত হাদিস ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে। পাহাড়ের চেয়ে নিচু এবং সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু স্থানকে আরবি পরিভাষায় খায়েফ বলা হয়। আবার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকাসম ভূমিকেও খায়েফ বলে আরবরা। অপরদিকে, খায়েফ মসজিদ হচ্ছে মক্কার কাফেরদের

বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের এক স্মৃতিচিহ্ন। ইতিহাসে এসেছে, পঞ্চম হিজরিতে ইহুদিদের প্ররোচনায় মক্কার কাফেররা মদিনায় হামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ লক্ষ্যে তারা কিছু আরব গোত্রের সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করে। এই সন্ধি চুক্তি করার জন্য মক্কার কাফেররা যে স্থানটি বেছে নেয় পরে সেখানেই খায়েফ

মসজিদ নির্মিত হয়। মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফের গোত্রগুলোর ঐক্যের ব্যর্থতার নিদর্শন হিসেবে মসজিদটি দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত ঘোষণা করছে, ইসলামের বিজয়গাঁথা ইতিহাসকে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়েফ মসজিদের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন ওসমানিয় শাসনামলে

 

সেখানে একটি বড় গম্বুজ ও মেহরাব তৈরি করা হয়। এখন অবশ্য সেটি আর নেই। ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে, ২৪০ হিজরিতে এক প্রলয়ঙ্করী বন্যায় খায়েফ মসজিদ ধসে পড়ে। তবে বন্যা শেষ হওয়ার পরপরই মসজিদটি আবার নির্মাণ করা হয় এবং এর চারপাশে বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাও গড়ে তোলা

হয়। সে সময় এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ছিল ১২০ মিটার এবং প্রস্ত ছিল ৫৫ মিটার। সে হিসাবে এটি ছিল ওই সময় আরব অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এমনকি তখন মসজিদে হারামের চেয়েও বড় ছিল এই মসজিদের আয়তন। ৮৭৪ হিজরিতে মিসরের মামলুকি সুলতান কাইতবা এই মসজিদ পুননির্মাণ

করেন। মসজিদের ওই স্থাপনাটি কয়েক দশক আগ পযন্ত বিদ্যমান ছিল। এখন থেকে তিন দশক আগে ১৪০৭ হিজরিতে এই মসজিদ পরিবধন ও পুননির্মাণের এক বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মসজিদের আয়তন আগের চেয়ে চারগুণ বাড়িয়ে প্রায় ২৫ হাজার

 

বর্গমিটার করা হয়। খায়েফ মসজিদে এখন ৩০ হাজার মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের চারকোণায় অবস্থিত চারটি সুউচ্চ মিনার মসজিদটিকে দান করেছে অপার সৌন্দর্য। হজের মৌসুমে মিনায় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের সময়টাতে মসজিদটি মুসল্লিদের প্রচুর

ভিড় দেখা যায়। মসজিদের সামনে স্থাপিত সাইনবোডে বেশ ৭টি ভাষায় লেখা রয়েছে মসজিদের নাম। সেখানে বাংলাতেও লেখা আছে- আল খায়েফ মসজিদ।

read more