close

চলচিত্র জগত

চলচিত্র জগত

দেখুন এই শিশু-অভিনেতা এখন দেখতে কেমন? দেখে নিন…

Untitled-1 copy

মিলেনিয়ামের পরে বাংলা টেলিভিশনে ও ছবিতে ঝড় তুলেছিলেন এই শিশু-অভিনেতা। এখন কেমন দেখতে হয়েছে তাঁকে?

‘তিথির অতিথি’ ধারাবাহিকে প্রথম অভিনয়, তার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি এই অসম্ভব প্রতিভাবান অভিনেতাকে। তার পরে টানা ১০ বছর বলতে গেলে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন বাংলা ছবি ও বাংলা টেলিভিশনের দর্শককে। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘ওয়ান্টেড’, ‘লে ছক্কা’, ‘খোকাবাবু’, ‘লে হালুয়া লে’— রাজ চক্রবর্তী থেকে রবি কিনাগি, রাজা চন্দ— মেইনস্ট্রিম বাংলা ছবির পরিচালকদের অত্যন্ত প্রিয় অভিনেতা অরিত্র।

কিন্তু ২০১৩ সালের পরে একটা লম্বা ব্রেক নিয়েছেন পড়াশোনার কারণে। গত বছর, ২০১৬-তে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন অরিত্র। দারুণ ভাল ফল করেছেন পরীক্ষায়। প্রায় ৯৫ শতাংশ মার্কস পেয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই অরিত্র বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন। ভাল গান করেন, ভাল রান্নাও করেন। তাঁর ক্ষুরধার মেধার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে যখনই টেলিপর্দায় হোস্টের ভূমিকায় এসেছেন তিনি।

 

read more
চলচিত্র জগত

চলচ্চিত্র ফোরামের কার্যকরী কমিটির আংশিক নাম প্রকাশ !!

Capture

 

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে চলচ্চিত্রবিষয়ক নতুন সংগঠন ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ফোরাম’।

এ ফোরামে আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে থাকছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। শাকিব খানকে এক নাম্বার কার্যকরী সদস্য পদে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া নতুন এ সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে চিত্রনায়ক বাপ্পারাজকে।

প্রাথমিকভাবে গঠন করা এ কমিটির সভাপতি প্রযোজক নাসিরউদ্দিন দিলু এবং সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন চিত্রপরিচালক কাজী হায়াৎ।

 

কমিটির বিভিন্ন পদে থাকছেন ওমর সানি, অমিত হাসান, নাদের চৌধুরী, ববি, প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল, জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজসহ আরও অনেকেই।

 

এছাড়াও অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনেরও এ সংগঠনে থাকার কথা শোনা গেছে।

এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিল্পী-কলাকুশলী এ সংগঠনে নাম লিখিয়েছেন বলে জানা গেছে। সংগঠনটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে ২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।

read more
চলচিত্র জগত

জেনে নিন বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ নায়ক জাফর ইকবাল এর জীবন কাহিনি !

Untitled-1 copy

 

বাংলা চলচ্চিত্রের স্টাইলিশ নায়কদের মধ্যে অন্যতম জাফর ইকবালছিলেন বোহেমিয়ান জাফর ইকবালচিরসবুজ নায়ক হিসেবে পরিচিত শহুরে রোমান্টিক  রাগী তরুণের ভূমিকায় দারুণ মানালেও সব ধরনেরচরিত্রে ছিল তাঁর সহজ বিচরণ

অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে চমৎকার গান গাইতে পারা এ অভিনেতা বেশকিছু ছবিতে গায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন।চলচ্চিত্রে তাকে বলা হতো রাজপুত্তর, আবার কখনো কখনো রোমিও। তিনি একাধারে ছিলেন গায়ক, গিটারবাদক ও নায়ক।

দুই যুগ হয়ে গেল বাংলা চলচ্চিত্রের এই ফ্যাশন আইকন চলে গেছেন।তবু কি ভীষন জীবন্ত এখনো।

 

 

জাফর ইকবাল ছিলেন পরিপূর্ণ একজন নায়ক। তবে গানের চর্চাটা করতেন সেই শৈশব থেকেই। ১৯৬৬ সালে বন্ধু তোতা, মাহমুদ ও ফারুককে নিয়ে গঠন করেন ব্যান্ড গ্রুপ ‘রোলিং স্টোন’। এলভিস প্রিসলি ছিল তার প্রিয় তারকা। স্কুলে কোন ফাংশন হলে তিনি গিটার বাজিয়ে প্রিসলির গান গাইতেন।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের (বর্তমানেও ওই নাম) দর্শক-শ্রোতারা বিমোহিত হয়ে শুনত জাফর ইকবালের গান। গান গাইতে গাইতে চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি খান আতাউর রহমানের সঙ্গে পরিচয় ও চলচ্চিত্রে আসা। তবে মৃত্যু পর্যন্ত গিটার ছিল তার সর্বণের সঙ্গী।

তসলিমা নাসরিন তাঁর দ্বিখণ্ডিত নামের আত্মজীবনীগ্রন্থে বলেছিলেন যে, তরুণ বয়সে তিনি দুজন মানুষের প্রেমে পড়েছিলেন একতরফাভাবে। এদের একজন হচ্ছে টেলিভিশনের প্রিয়মুখ আফজাল হোসেন এবং অন্যজন হচ্ছেন রূপালি পর্দার সুদর্শন নায়ক জাফর ইকবাল।

শুধু তসলিমাই নন, সত্তর এবং আশির দশকের বাংলাদেশের কিশোরী এবং তরুণীদের একটা বিরাট অংশই জাফর ইকবালের প্রেমে পড়েছিল। ওই সময়ের মেয়েদের এই গণহারে প্রেমে পড়াতে অবশ্য দোষ দেওয়া যায় না তাদের। এরকম অরূপ রূপবান, কার্তিকের মত কান্তিময়, কেতাদুরস্ত, পোশাকে আশাকে সুবেশী এবং হালনাগাদ নায়ক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আর দ্বিতীয়টি ছিল না।

আমাদের চলচ্চিত্র জগতের প্রথম অত্যাধুনিক, স্মার্ট, গ্লামারাস নায়ক তিনি। শেষও তিনিই।

চলচ্চিত্র জীবনে অনেক ছবিই করেছেন তিনি, তবে তাঁর মেধা এবং সৌন্দর্যের সঠিক ব্যবহার হয় নি কোনোটাতেই। এর জন্য অবশ্য অন্যদের চেয়ে তাঁর নিজের দোষই বেশি ছিল। অত্যন্ত খামখেয়ালী প্রকৃতির মানুষ ছিলেন তিনি। পোশাকে আশাকে কেতাদুরস্ত হয়ে অত্যন্ত দুরন্ত গতিময় একটা জীবন যাপন করতেন তিনি। পেশার প্রতি একনিষ্ঠতা ছিল না তাঁর।

সে কারণেই অত্যন্ত জনপ্রিয় হবার পরেও সঠিক জায়গায় পৌঁছোতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। নায়ক না হয়েও শুধু গায়ক হয়েও থাকলেও হতে পারতেন দেশের সেরা গায়ক। কিন্তু কোনোটাও পূর্ণভাবে হওয়া হয় নি তাঁর। না নায়ক, না গায়ক। অবশ্য এর জন্য কোনো আক্ষেপ তাঁর মনের মধ্যেও ছিল না বলেই মনে হয়।

চিরতরুণ নায়ক ছিলেন তিনি। অকাল মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল বিয়াল্লিশ বছর। বিয়াল্লিশ বছর বয়সেও সেই বাইশ বছরের তারুণ্য, সৌন্দর্যকে অবিকল ধরে রাখতে পেরেছিলেন তিনি।সে কারণে কিনা কে জানে, প্রকৃতি বুড়ো হবার আগেই তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পৃথিবী থেকে।

অনিন্দ্যসুন্দর রূপলাবন্যের কারণে তাঁকে রাজপুত্তুর বলে ডাকতো কেউ কেউ। মেয়েদের হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দিতেন বলে রোমিও বলেও ডাকতো কেউ কেউ। মৃত্যুর অনেকগুলো বছর পরে তিনি আজ ভুলে যাওয়া একজন। এমনই হয়, সময় বড় নিষ্ঠুর।

পিছনের কোনো কীর্তিকে, কীর্তিমানকে কিংবা কান্তিময়কে মনে রাখতে চায় না সহজে। কলার পাতায় ভাসিয়ে দেয় বিস্মৃতির স্রোতস্বিনীর স্রোতে।

ও হ্যাঁ, আরেকটা কথা বলা হয় নি। অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধও করেছেন তিনি।
শুভ জন্মদিন রাজপুত্তুর…….
লেখা ও ছবি : Luthful Kabir Rony

read more
চলচিত্র জগত

শোকের সাগরে ভাসছে চলচ্চিত্র জগত!

Capture

নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই। গতকাল সোমবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে সবচেয়ে উচ্চারিত বাক্য। শোকে মুহ্যমান পুরো জাতি। মৃত্যুর অমোঘ নিয়মে চিরদিনের মতো নিরব হয়ে গেলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় অভিনেতা রাজ্জাক।

শেষবারের মতো আজ তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছিলো তার প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে। এখানের ইট পাথরে মিশে আছে রাজ্জাকারে শরীরের ঘ্রান। এখানেই এক্সট্রা শিল্পী থেকে মাহানায়ক হয়ে উঠেছেন তিনি। শোকে তাই বুঝি নিথর সবকিছু। সকালে ছিলো বৃষ্টির ঝমঝমানি। পাঁচ যুগেরও বেশি সময়ের স্বজনকে হারিয়ে যেন কাঁদছে এফডিসিটাও। কিন্ত নায়করাজের মরদেহ এফডিসিতে পৌঁছাতেই রোদের আলোয় হেসে উঠলো প্রকৃতি। বুঝি বা এফডিসির সঙ্গে তার বোঝপড়া হলো, প্রিয় মানুষটির শেষ বিদায়ে একটু হাসিমুখে থাকার।

 

 

 

 

কিন্তু ভারি ছিলো এফডিসির প্রাঙ্গন, আকাশ-বাতাস। ঘরের বাইরে মরে যাওয়া মানুষের লাশটা যখন ঘরে ফিরিয়ে আনা হয় তখন প্রতীক্ষায় থাকা স্বজনেরা লাশের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেল আজ বেলা ১১টায়, এফডিসিতে। সকাল থেকেই ভিড় করছিলেন সবাই। বাড়ছিলো সেই ভিড়।

 

 

 

সবার চোখে মুখে উৎকণ্ঠা, কখন আসবেন নায়করাজ। তিনি এলেন, একেবারে শোকের পাথর ভাসিয়ে দিয়ে গেলেন কান্না আর আহাজারিতে। সবাই যেন একে অপরকে জড়িয়ে কেঁদে কেঁদে হালকা হবার চেষ্টা করলেন। কেউ নেই সান্ত্বনা দেয়ার। কে দেবে কাকে সান্ত্বনা?

 

 

 

তিনি কার প্রিয়জন ছিলেন না! জনপ্রিয়তা আর গ্রহণযোগ্যতার আকাশ ছোঁয়া মানুষটির মধ্যে অহংকার ছিলো না। সব প্রজন্মের চলচ্চিত্র অভিনয় শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছেই তিনি নন্দিত। সবাইকেই তিনি পিতৃতুল্য আশ্রয় দিয়েছেন ভালোবাসায়। তাই তার বিরহে কান্নার বৃষ্টি থামাতে পারেনি কেউ।

 

 

 

এফডিসিতে অ্যাম্বুলেন্সেই রাখা ছিলো রাজ্জাকের লাশ। লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে সবাই শেষ দেখাটা দেখে নিলেন। সবার চোখে জল। কাঁদছেন লুকিয়ে। কিন্তু চাপা সেই কান্না বুক ভেঙ্গে বেরিয়ে এলো যখন শাবনূর এলেন বাবার মতো শ্রদ্ধা করা রাজ্জাকে দেখতে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। তার কান্না সংক্রমিত হয়ে গেলো সবখানে।

 

 

 

 

দীর্ঘদিনের বন্ধুকে দেখতে এসে আবেগের বাঁধ ভাঙলেন ঢাকাই ছবির মিষ্টি নায়িকা কবরীও। হু হু করে কাঁদলেন ঢাকাই ছবির তিনকন্যা সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। ছিলেন দিলারা, মিনু রহমান, সুজাতা, রোজিনা, অঞ্জনা, নূতন, সৈয়দ হাসান ইমাম, আলমগীর, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, রুবেল, ওমর সানি, সাইমন, শাহনূর, জায়েদ খান, আলীরাজ, উজ্জ্বল, জাভেদ, আহমেদ শরীফ, শাকিব খান, অমৃতা, বুবলী, পপি, আমিন খান, ফেরদৌস, বদিউল আলম খোকন, আজাদ রহমান, ছটকু আহমেদ, মনতাজুর রহমান আকবর, শান আরাফ, কায়েস আরজু, ডি এ তায়েব, শিবা শানু, নাসরিন, তমা মির্জা, মাসুম বাবুল, দেবাশীষ বিশ্বাস, ড্যানিরাজ, হেলাল খানসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট পাঁচ শতাধিক মানুষ।

 

 

 

 

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্যসচিব, এফডিসির পরিচালকসহ আরও অনেক কর্মকর্তাবৃন্দ। আর রাজ্জাকের পরিবারের মধ্যে ছিলেন তার দুই পুত্র বাপ্পারাজ ও সম্রাট।

 

 

 

 

সেখানেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নায়করাজের প্রথম জানাজা। বলা হচ্ছে, স্মরণকালের মধ্যে এত বড় জানাজা আর কোনো অভিনেতার বেলাতে দেখা যায়নি। আর এজন্যই তিনি মহানায়ক, যার শেষযাত্রাও হলো মহা আয়োজনে।

 

 

 

 

যেখানেই থাকুন অদেখা ভুবনে, ভালো থাকুন আমাদের নায়করাজ। সর্বত্রই আজ উচ্চারিত হচ্ছে, ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ এই অভিনেতা। স্রষ্টা তাকে তার যোগ্য সম্মান দান করুন।

read more