close

ধর্ম ও জীবন

ধর্ম ও জীবন

বিপদে পড়লে মহানবী (সা) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন !

Untitled-1 copy

 

 

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন।

বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন।

১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন :

লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস)

অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)

২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’

অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)

৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন :

আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।

অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

read more
ধর্ম ও জীবন

তাদের দাড়িতে, টুপিতে দোষ। তারা শরীর দেখায় না, তাতেও দোষ

Untitled-2 copy

দুনিয়াজুড়ে এখন চলছে মুসলিম বিদ্বেষ আর নিপীড়নের উৎসব। হেন উপায় নেই যা প্রয়োগ করা হচ্ছে না মুসলমানদের বিরুদ্ধে। মুসলমানদের সব কিছুতেই দোষ। তাদের বেশভূষায় দোষ। তাদের দাড়িতে, টুপিতে দোষ। তারা শরীর দেখায় না, তাতেও দোষ। তাদের কিতাব, পুস্তক, পত্রিকার দোষ। মসজিদ-মক্তবের দোষ।

 

 

 

 

তাদের গরু খাওয়াতে দোষ, শুয়োর না খাওয়াতেও দোষ। শুধু ব্যক্তিই নয়, অনেক সরকারও এ ব্যাপারে বিশেষ নাখোশ। এদের ভাবটা যেন সবার উপরে গরুই সত্য তাহার উপর নাই। আর তাই গরুর সম্ভ্রম রক্ষায় মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলতেও তাদের বাধে না।

সব যুগের মানুষই গোশত খেত, এখনো খায়। কিন্তু খাওয়ার সময় কেউ চিন্তা করে না যে, কিভাবে পশু-পাখিগুলোকে মারা হলো, আর কিভাবেই-বা গোশত এলো টেবিল পর্যন্ত। সেই চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে মুসলমানদের কোরবানি দিতে দেখলেই।

 

 

এমন দুশ্চিন্তা বস্তুত প্রমাণ করে, মানুষের মধ্যে প্রাণীর প্রতি সত্যিকারের মমত্বসৃষ্টিতে নিজ হাতে পশু কোরবানির কোনো বিকল্প নেই। উপরন্তু কোরবানি মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, এই জীবনের অনিবার্য পরিণতি, মানুষ সুযোগ পায় নতুন করে ভাবার।

 

মুসলমানদের নামাজ রোজার মতো রুটিন ইবাদতগুলোও যেন অনেকের চক্ষুশূল। কারণ সেসবে উপাসনা করা হয় শুধু এক আল্লাহর। সেখানে মানা হয় না এক আল্লাহ ছাড়া শক্তির অন্য কোনো উৎসকে। এ কারণেই মুসলমানরা মানতে পারে না খেলাধুলার মধ্যে স্পিরিটের প্রতীক হিসেবে মশালকে, স্যালুট করতে পারে না আগুনের শিখাকে, মসজিদে রাখতে পারে না সরকারি ছবিও। আর তাই মুসলমানরা যা-ই করে সেটাই হয়ে যায় আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ। তারা যে ভাবেই চালাতে চায়, সেটাই হয়ে পড়ে বর্বরতা নয় তো অমানবিকতা।

 

অথচ মুসলমানেরা কখনো কোনো দেশ দখল করে রাখেনি। কোনো দেশ থেকে সেখানকার অধিবাসীদের অস্ত্রের মুখে উচ্ছেদ করে উদ্বাস্তু বানায়নি। কাউকে ধর্ম বদলে বাধ্য করেনি বরং সব সময়ই সুরক্ষা দিয়েছে অন্যদের ধর্ম ও আচারকে। তারা কোনো বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেনি। কোনো শহরকে তারা বোমা মেরে পলকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়নি। তাদের কারণে বিশ্বে কোনো আণবিক-পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটেনি। এমনকি আমেরিকার মতো নিত্য খুনোখুনির দেশেও পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুসলমানদের অপরাধের মাত্রা সব চেয়ে কম।

 

দুনিয়াতে এখনো এমন সমাজ আছে যেখানে নারীরা দিনশেষে ঘরে ফেরা স্বামীদের সেজদা করে অভ্যর্থনা জানিয়ে থাকে ধর্ম ও সমাজের কারণে। এমনও ধর্ম আছে যেখানে পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীর কোনো অধিকারই কখনো স্বীকৃতি ছিল না, এখনো নেই। সেসব ক্ষেত্রে সবাই চুপ, যেন সেগুলো সবই আইনসম্মত এবং মানবিকতায় পূর্ণ। শুধু মুসলমানদের সব কিছুতেই অপরাধ। মুসলিম ওলামা, মাওলানা মানেই নারীবিদ্বেষী, নারীলোলুপ। কিন্তু বাস্তবতা বলে, দেশের কঠোর নারী নির্যাতন আইনের আওতায় প্রতিদিনই জেলহাজত হচ্ছে যেসব পুরুষের সেখানে ইমাম, মাওলানা, মাদরাসা ছাত্রের সংখ্যা অতি নগণ্য, প্রায় শূন্য। ব্যাপারটা চোখে পড়ার মতো।

 

এটা প্রমাণ করে ইমাম, মাওলানাদের পরিবারে রয়েছে সেই শান্তি যা সমাজের অন্যত্র অনুপস্থিত। তারপরও এদের ঘাড়ে নারীবিদ্বেষের দায় চাপানো নিতান্তই ইসলামবিদ্বেষী পঙ্গু মানসিকতা ছাড়া কিছুই নয়। মুসলিমবিরোধী এ অবস্থা যে হঠাৎই শুরু হয়েছে তা বলা যাবে না। অনেক দিন ধরেই যেন চলছিল এর আয়োজন, চলছিল গ্রাউন্ড ওয়ার্ক।

 

পশ্চিমা মিডিয়াতে প্রায়ই দেখা গেছে, তার অনেক নমুনা। তেমনি একটা নমুনা চোখে পড়েছিল দুনিয়া সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার সময়। সময়টা ২০০৮-০৯ হবে। মিডিয়াতে সেই ফ্লুর ভয়াবহতা প্রচার হচ্ছিল ব্যাপকভাবে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে সময় হলো বাৎসরিক হজের। ফ্লুর কারণে ছিল বাড়তি সতর্কতা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাও কাজ করছিল একত্রে। খবরগুলো মিডিয়াতে আপডেট হচ্ছিল নিয়মিত। তারপরও প্রায় ৪০ লাখ লোকের ওই মহাসমাবেশের ব্যাপারে অতিমাত্রায় উদ্বিগ্ন ছিল পশ্চিমা দুনিয়া। সেই উদ্বেগের প্রকাশ দেখা গেল আমেরিকার এবিসি টেলিভিশনে।

 

বিষয়টার ওপর তারা একটা চুলচেরা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরল তাদের জনপ্রিয় সান্ধ্যকালীন ওয়ার্ল্ড নিউজে। তাদের তরুণী জীবাণু বিশেষজ্ঞ বললেন, হজ হতে পারে সোয়াইল ফ্লু ভাইরাসের জন্য একটা পেট্রি ডিশ বিশেষ। উল্লেখ্য, পেট্রি ডিশ হলো এক ধরনের প্লেট, যার মধ্যে জেলির মতো খাবার রেখে ইচ্ছা মতো জন্মানো যায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস। অর্থাৎ হজের মাঠে লাখ লাখ মানুষকে একত্রে পেয়ে সোয়াইন ফ্লুর জীবাণু পেয়ে যাবে অবাধ বংশবিস্তারের মোক্ষম সুযোগ। দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে একজন থেকে অন্যজনে এবং হজ শেষে দেশ থেকে দেশান্তরে ফেরা হাজীদের সাথে সোয়াইন ফ্লুর ভাইরাসও ছড়িয়ে পড়বে জগতজুড়ে। বিশ্ব আক্রান্ত হবে ফ্লুতে। হবে সোয়াইন ফ্লুর মহামারী। সভ্যতার জন্য সৃষ্টি হবে বাঁচা-মরার অবস্থা। সেই মহা দুর্যোগ ঠেকানো যাবে না কোনোভাবেই।

 

খুবই সহজ তাত্ত্বিক হিসাব। কোনো ভুল নেই ওই হিসাবে। ভাইরাসের যা জীবনচক্র তাতে ঠিক তা-ই হওয়ার কথা। কিন্তু হজ শেষে সেই হিসাব গেল পাল্টে। কিছুই হলো না কোথাও। এমনকি হজের মাঠেও কেউ মারা যাননি সোয়াইন ফ্লুতে। কী হলো, কিভাবে হলো এবং কেন এমন হলো তা আর কেউ বিশ্লেষণ করল না। আশায় ছিলাম, এবিসির একটা ফলোআপ প্রতিবেদন দেখার। কিন্তু সে বিষয়ে তাদের আর কথা বলতে দেখা গেল না। কথা নিশ্চয় বলত, যদি হাজীরা ফ্লুতে মারা যেতেন। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছিল যে, হজের প্রতি মমতা থেকে নয়; বরং হজকে বহুবিধ বৈশ্বিক সমস্যার উৎস প্রমাণ করাই ছিল ওই প্রচারণার উদ্দেশ্য। তারও বেশ কয়েক মাস আগে ওই এবিসি টিভিরই বিখ্যাত সাংবাদিক ডায়ান সয়্যার একটা প্রতিবেদন করেছিলেন তার সৌদি আরব সফরের ওপর। সফরের উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকানদের কাছে সৌদি জীবনধারা সহজ করে তুলে ধরা।

সফরের একপর্যায়ে ডায়ান সয়্যার কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের সাথে। এক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করা হয়, পাঠ্যপুস্তকের বর্ণিত একটা বিশেষ হাদিসের বিষয়ে। বিখ্যাত ওই হাদিসে বলা হয়েছে যে, কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না, যে পর্যন্ত ইহুদিদের সাথে মুসলমানদের একটা যুদ্ধ হবে; যে যুদ্ধের একপর্যায়ে যুদ্ধক্ষেত্রের গাছ-পাথর ও মুসলিম যোদ্ধাদের ডেকে ডেকে তাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইহুদিদের ধরিয়ে দেবে। সৌদি তরুণের কাছে প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল, স্কুলের বইতে এ ধরনের বিবরণী থাকায় তাদের মনে শিশুকাল থেকেই ইহুদি জাতির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হচ্ছে কি না এবং এ ধরনের পাঠ্যক্রমকে সে বিদ্বেষমূলক মনে করে কি না। সৌদি তরুণ শুরু করেছিল উত্তর দেয়া, কিন্তু সেই উত্তর শেষ অবদি প্রচার করা হয়নি, মাঝ পথে কথা কেটে দিয়ে হঠাৎ পাল্টে ফেলা হয়েছিল প্রসঙ্গ। যেন হাতে সময় নেই, তাই পুরো ব্যাখ্যা প্রচার করা গেল না। বুঝতে অসুবিধা হয়নি, সৌদিরা যে আসলে কতটা ইসলামিক এবং সেই ইসলামে পশ্চিমাদের ধারণায় কী কী ভুল বা বিদ্বেষ আছে সেটা তুলে ধরাই ছিল ওই আয়োজনের পেছনের উদ্দেশ্য, বিস্তারিত জানা বা বোঝার কোনো আগ্রহ তাদের ছিল না।

ওই তরুণের বক্তব্য পুরো প্রচার করা হলে নিশ্চিতভাবেই জানা যেত যে, নবীজি সা:-এর হাদিসগুলো যেনতেন কোনো কথামালা নয়। সেগুলো হলো প্রফেসি এবং কোনো প্রফেসিকেই কখনো পরিবর্তন করা যায় না। সেই সুযোগ কখনোই ছিল না, এখনো নেই। সেই ক্ষমতাও কারো নেই।

প্রফেসির ব্যাখ্যায় থাকতে পারে ভিন্নতা, বিশ্লেষণও হতে পারে বিভিন্ন। কিন্তু সেগুলো শেখার সময় প্রতিটি অক্ষর ঠিক রেখেই শিখতে হয়, সাথে জানতে হয় অসম্ভাব্য ব্যাংখ্যাগুলোও। এর অন্যথা হলে মানুষ হারাবে প্রকৃত তথ্য ও জ্ঞানের অপার্থিব ঐশ্বরিক সূত্র, আর তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মানুষ নিজেই। এসব কথা জানে পশ্চিমা দুনিয়া। তারা বরং অনেক মুসলমানের চেয়েও ভালো জানে। কারণ সব তথ্যভাণ্ডারই এখন তাদের হাতে এবং সব ধরনের গবেষণাতেই তারা এখন অগ্রগামী।

উল্লেখ্য, নবীজি সা:-এর পর যেহেতু আর কোনো নবী আসবেন না, তাই মানুষের কাছে দুনিয়ার শেষ অবস্থা খুলে বলা ছিল উনার দায়িত্বভুক্ত। দুষ্টের সাথে শিষ্টের সদা চলমান সঙ্ঘাত যে দিনে দিনে চরমে পৌঁছবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই পরিস্থিতির কথাই বলা হয়েছে উল্লিখিত হাদিসে। ওই সময়ের দুষ্টজন হবে ইহুদিরা। বস্তুত সব কারের ইহুদি নেতৃত্বই ছিল দুষ্টচক্রে আবদ্ধ। শেষ সময়ে তা পৌঁছবে চরমে এবং তাদের হাতে শোষণের শিকার হবে মুসলিম জনগোষ্ঠী। আর সব সঙ্ঘাতেই শেষ বিজয়ী হয়ে থাকে শোষিত জনগণ তা সেই জনগণ যত দুর্বল বা যত ছোটই হোক না কেন।

এটাই বিশ্ব স্রষ্টার চিরন্তন নীতি। কারণ তিনি নিজে সদা ন্যায়নিষ্ঠ তাই তিনি সহ্য করেন না কোনো অন্যায়, অনিষ্ঠ। সেটাই ঘটবে দুনিয়ার শেষ সময়ের জাতিগত সঙ্ঘাতেও এটাই ওই হাদিসের মূল বক্তব্য। পুরো ইহুদি জাতিকে ঘৃণা করার কোনো নির্দেশনা সেখানে নেই। তাই এর আলোচনায় ঘৃণা বিদ্বেষের প্রসঙ্গ টেনে আনা ছিল নিতান্তই অযৌক্তিক। উল্লেখ্য, কুরআন হাদিসের এমন খণ্ডিত প্রচারণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা ইসলামের শত্রুদের অতি পুরনো অভ্যাস। বস্তুত ওটাও ছিল তেমনই একটা অপপ্রয়াস, একটা অপচেষ্টাবিশেষ।

ঘটনা দুটো সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে তা ভাসমান হিমবাহের ছোট চূড়া মাত্র। একটি দুটো করে এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বিশ্বজুড়ে বহুদিন ধরে বিবিধ পদ্ধতিতে। আর সেটাই এখন পরিণত হয়েছে বিশ্বব্যাপী ইসলাম ও মুসলিমবিধ্বংসী উৎসবে। কিন্তু মুসলমানদের নামে ৯/১১-সহ আরো যা কিছু ঘটেছে বা ঘটছে বলে প্রচার করা হয়, তা ক্ষোভ আর আক্রোশের ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অবশ্য সেটাও নিশ্চিত নয় কারণ সেগুলো যে কোনো বিশেষ শক্তির বিশ্বজনীন কোনো মহাপরিকল্পনার অংশ নয় তা-ও সন্দেহাতীত নয়।

বিশেষ করে যে প্রক্রিয়ায় মুসলিম দেশগুলোতে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং যেভাবে ডা: জাকির নায়েকদের মতো বিদ্বানদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে তাতে ইসলামবিরোধী বহুজাতিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিন দিন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফেসবুক লাইকের কারণে কেউ অপরাধী সাব্যস্ত হলে দুনিয়ার বহু নেতা-নেত্রীরই এখন জেলে থাকার কথা। কারণ টরেন্টোর মসজিদ ম্যাসাকারে জড়িত যুবকসহ সব বর্ণবাদী উগ্রপন্থীরাই তাদের প্রকাশ্য ফ্যান, তাদের মতাদর্শে প্রত্যক্ষভাবে উজ্জীবিত।

উপরন্তু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আক্রোশ থেকে দুর্ঘটনা পৃথিবীতে কোনো বিরল বিষয় নয়, বিশ্বজুড়েই তা অতি সাধারণ। সহায়-সম্পদ, আত্মীয়-পরিজনসহ সর্বস্ব হারানো হতাশ ব্যক্তিদের এমন উন্মত্ততার সাথে পশ্চিমা দুনিয়া খুবই পরিচিত। কিন্তু এ জন্য কখনো অপরাধীর ধর্ম বা পুরো জাতিকে দায়ী করা হয় না। অথচ ঠিক সেটাই করা হচ্ছে মুসলমানদের ক্ষেত্রে। এটা যেন একটা অঘোষিত আন্তর্জাতিক আইন যার মূল কথা হচ্ছে দুনিয়াতে ঘটনা যাই ঘটুক, তার জন্য দায়ী মুসলমান আর তাদের ধর্ম ইসলাম। এই ধারা এখন এমনই চরমে পৌঁছেছে যে, পাবলিক প্লেসে ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ বলতেও ভাবতে হচ্ছে। অচিরেই হয়তো সালাম-কালাম করাও বন্ধ করতে বলা হবে।

লেখক ঃ শরিফুর রহমান গাজী

read more
ধর্ম ও জীবন

নামাজ আদায় করেও নামাজের জন্য শাস্তি ভোগ করবে যারা! কেন জানেন?

Untitled-1 copy

নামাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত। এ ইবাদত কবুল হওয়ার উপরেই অন্যান্য ইবাদত নির্ভর করে। অথচ অনেকেই নামাজ যথার্থ গুরুত্ব অনুধাবন না করে আদায় করে থাকে। এ ধরনের নামাজ আল্লাহর নিকট কবুল হবে না; বরং এমন নামাজ আদায়কারীর জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। নামাজ আদায় করার পরেও তিন শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহর শাস্তি পেতে হবে।

 

 

 

 

 

 

প্রথমতঃ যারা অলসতা বা অবহেলা বশতঃ সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করে না।তাদের নামাজ কবুল হবে না। তাদের জন্য পরকালে শাস্তি রয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, অতঃপর দুর্ভোগ ঐসব মুসল্লীর জন্য, যারা তাদের নামাজ থেকে উদাসীন’ (মাঊন:৪-৫)।

দ্বিতীয়তঃ নামাজ আদায় করেও শাস্তি পাবে ঐসব মুসল্লী যারা রাসূল (সা)-এর পদ্ধতিতে নামাজ আদায় না করে নিজেদের মনগড়া পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করে। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘তোমরা আমাকে যেভাবে নামাজ আদায় করতে দেখ, ঠিক সেভাবেই নামাজ আদায় কর’।[বুখারি]

 

 

 

 

 

 

 

 

তৃতীয়তঃ যারা লোক দেখানো নামাজ আদায় করে।মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে’ (মাঊন ১০৭/৬)। এটা হচ্ছে মুনাফিকদের নামাজ। যেমন মহান আল্লাহ অপর আয়াতে বলেছেন,‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দেয়, আর তিনিও তাদের ধোঁকায় ফেলেন। যখন ওরা নামাজে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায় লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে। আর তারা আল্লাহকে খুব কম সময় স্মরণ করে’ (নিসা ৪/১৪২)।মূলতঃ লোক দেখানো কোন আমল আল্লাহ কবুল করেন না। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি লোককে শুনানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তাকে দিয়েই তা শুনিয়ে দেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তার মাধ্যমে তা দেখিয়ে দেন’।

 

 

 

 

অর্থাৎ আল্লাহ তাকে লজ্জিত করেন এবং স্পষ্ট করে (বুখারি ও মুসলিম) সঠিক সময়ে খালেছ অন্তরে রাসূল (সা)-এর তরীকায় তথা শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করতে হবে। অন্যথা নামাজ আদায় করেও আল্লাহর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

 

 

 

 

নামাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত। এ ইবাদত কবুল হওয়ার উপরেই অন্যান্য ইবাদত নির্ভর করে। অথচ অনেকেই নামাজ যথার্থ গুরুত্ব অনুধাবন না করে আদায় করে থাকে। এ ধরনের নামাজ আল্লাহর নিকট কবুল হবে না; বরং এমন নামাজ আদায়কারীর জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। নামাজ আদায় করার পরেও তিন শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহর শাস্তি পেতে হবে।

প্রথমতঃ যারা অলসতা বা অবহেলা বশতঃ সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করে না।তাদের নামাজ কবুল হবে না। তাদের জন্য পরকালে শাস্তি রয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, অতঃপর দুর্ভোগ ঐসব মুসল্লীর জন্য, যারা তাদের নামাজ থেকে উদাসীন’ (মাঊন:৪-৫)।

দ্বিতীয়তঃ নামাজ আদায় করেও শাস্তি পাবে ঐসব মুসল্লী যারা রাসূল (সা)-এর পদ্ধতিতে নামাজ আদায় না করে নিজেদের মনগড়া পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করে। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘তোমরা আমাকে যেভাবে নামাজ আদায় করতে দেখ, ঠিক সেভাবেই নামাজ আদায় কর’।[বুখারি]

 

 

 

 

 

তৃতীয়তঃ যারা লোক দেখানো নামাজ আদায় করে।মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে’ (মাঊন ১০৭/৬)। এটা হচ্ছে মুনাফিকদের নামাজ। যেমন মহান আল্লাহ অপর আয়াতে বলেছেন,‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দেয়, আর তিনিও তাদের ধোঁকায় ফেলেন। যখন ওরা নামাজে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায় লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে। আর তারা আল্লাহকে খুব কম সময় স্মরণ করে’ (নিসা ৪/১৪২)।মূলতঃ লোক দেখানো কোন আমল আল্লাহ কবুল করেন না। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি লোককে শুনানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তাকে দিয়েই তা শুনিয়ে দেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তার মাধ্যমে তা দেখিয়ে দেন’।

অর্থাৎ আল্লাহ তাকে লজ্জিত করেন এবং স্পষ্ট করে (বুখারি ও মুসলিম) সঠিক সময়ে খালেছ অন্তরে রাসূল (সা)-এর তরীকায় তথা শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করতে হবে। অন্যথা নামাজ আদায় করেও আল্লাহর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

 

 

 

 

 

 

read more
ধর্ম ও জীবন

জানেন যে সাত শ্রেণির মানুষকে কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না !!!

Untitled-1 copy

যে সাত শ্রেণির মানুষকে কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না – প্রথমে আসবে শহিদদের নাম। রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শহিদদেরকে কবরে প্রশ্ন করা হবে না। কেননা মাথায় তরবারির আঘাত কবরের বিপদ হতে কম নয়।

 

 

 

 

যদি তার অমত্মরে আল্লাহর ভয় না থেকে মুনাফেকি থাকতো তাহলে সে তরবারির ভয়ে পালিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সে এমনটি করেনি। কাজেই প্রমাণিত হলো, সে তার ঈমানের ক্ষেত্রে সত্যিই মুখলিস বা নিষ্ঠাবান ছিলো।

দ্বিতীয় ব্যক্তি হলো, সীমান্তরক্ষী সৈনিক; যাকে প্রতিনিয়ত শত্রুদলের সঙ্গে সংগ্রাম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যেতে হয়। এ ব্যক্তির আলোচনা কুরআনে কারিমেও এসেছে, হাদিসে রাসুলের মাঝেও এসেছে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন,

 

 

 

يَاأَيُّهَاالَّذِينَآمَنُواْاصْبِرُواْوَصَابِرُواْوَرَابِطُواْ

তৃতীয় ব্যক্তি হলো, যিনি মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, কেননা সহিহ হাদিসের ভাষ্যমতে সেও শহিদদের মিছিলের একজন।

চতুর্থ ব্যক্তি হলো, আপাদমস্তক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর সত্যনিষ্ঠ আস্থা ও বিশ্বাসের অধিকারী সত্যবাদী সিদ্দিক। যাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কোথাও মিথ্যার লেশমাত্র নেই। নবিদের পরই তাঁদের স্থান। ইমাম তিরমিযি ও ইমাম কুরতুবি [রহ.] এভাবে সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে অকাট্যভাবে প্রতিভাত হয় যে, আল্লাহর প্রেরীত সকল নবি রাসুলও কবরে সুওয়াল জাওয়াবের সম্মুখীন হবেন না। কেননা তাঁদের স্থান তো সিদ্দিক থেকে কত সহস্র ঊর্ধ্বে।

 

 

 

পঞ্চম ব্যক্তি হলো, অপ্রাপ্ত বয়সে কোনো শিশু মারা গেলে তাকে সুওয়ালের সম্মুখীন হতে হবে না। প্রখ্যাত আকাইদবিদ আল্লামা নাসাফি [রহ.] দৃঢ়তার সঙ্গে বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন। ইমাম নববি [রহ.]ও অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইবনে সালাহ [রহ.] বলেন, শিশু মারা গেলে তাকে কালিমায়ে শাহাদাতের তালকিন করার দরকার নেই।

 

 

 

আর পাগল ও বোকা লোকদের কবরে সুওয়াল জওয়াব করা হবে কিনা এ বিষয়ে ইমাম ফাকেহানি [রহ.] মৌনতা অবলম্বন করেছেন। তদ্রুপ যে ব্যক্তি দুই নবির পৃথিবীতে আগমনের মধ্যবর্তী যুগে মারা গেছেন, তাকেও কবরে সুওয়াল করা হবে কিনা? এ বিষয়েও কোনো মত প্রকাশ করেননি। রওযা নামক কিতাবে এ বর্ণনা এসেছে, যে ব্যক্তি শরিয়তের দৃষ্টিতে মুকাল্লাফ [যার ওপর শরিয়তের হুকুম-আহকাম বর্তিত হয়] বা তার সমগোত্রীয়, একমাত্র তাকে সুওয়াল করা হবে। এছাড়া অন্য কাউকে নয়।

 

 

 

 

ষষ্ঠ ব্যক্তি হলো, ওই ব্যক্তি যে জুমার দিনে বা রাতে মারা যাবে তাকেও কবরে সুওয়াল করা হবে না। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার ফজিলত সম্পর্কিত একটি হাদিসে তা উল্লেখ করেছেন।উক্ত হাদিসটিকে ইমাম তিরমিযি ও ইমাম বাইহাকি [রহ.] হাসান স্তরের হাদিস রূপে অভিহিত করেছেন এবং বিভিন্ন সনদে তার স্বপ্ন শাহিদ রেওয়ায়েতও পেশ করেছেন।
সপ্তম ব্যক্তি হলো, যে প্রতি রাতে আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির প্রত্যাশায় সুরা তাবারাকাল্লাযি তিলাওয়াত করবে।

 

 

 

 

 

 

read more
ধর্ম ও জীবন

জাকির নায়েকের দম বন্ধ হয়ে যাবার মত এক কঠিন প্রশ্ন করলো মেয়েটি; কি উত্তর দিলেন তিনি?

Untitled-1 copy

জাকির নায়েক অনেক বৎসর যাবৎ পবিত্র ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন, আর ইসলাম সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণাগুলো পরিষ্কার করেন। পবিত্র কোরআন, সহীহ হাদিস ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে এবং সেই সাথে যুক্তি, উক্তি ও বিজ্ঞানের সাহায্যে। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাকে ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলে, তিনি বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ হতে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

 

 

 

 

 

এবার পিচটিভি এর একটি অনুষ্ঠানে তাকে একজন হিন্দু তরুণী প্রশ্ন করেন, বিভিন্ন জায়গায় সে দেখেছেন, যখন কোন মুসলমান ও হিন্দু ধর্মের দুইজন ব্যক্তির দেখা হয়, তখন মুসলমান ব্যক্তি হিন্দু ব্যক্তিকে মুসলমানে পরিবর্তন করতে চায় কিন্তু হিন্দু ব্যক্তি কখনও মুসলমান ব্যক্তিকে পরিবর্তন করতে চায় না। তারা নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাস করেন, কিন্তু মুসলমানেরা কেন হিন্দুদের মুসলমান করতে চায়?

 

 

 

 

 

 

জাকির নায়েকের উত্তর শুনে আপনিও অবাক হয়ে যাবেন। তিনি সেই তরুণীকে প্রশ্ন করেন, যখন ভার্সিটির একজন ছাত্রের সাথে স্কুলের একজন ছাত্রের দেখা হয়, তখন কে কাকে শিক্ষা দেন?

উত্তরে তরুণী বলেন, অবশ্যই ভার্সিটির ছাত্র স্কুলের ছাত্রটিকে শিক্ষা দিবে।

তখন জাকির নায়েক বলেন, মুসলমান ব্যক্তিরা নিজেদের সেই ভার্সিটির ছাত্র মনে করেন। তাই তারা সকলকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এখানে আসল কথা হচ্ছে, প্রতিটি ধর্মে একে-অপরকে সাহায্য করার কথা বলা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, তুমি সকলকে আল্লাহ্‌র পথে ডাকো। তাই তারা সকলকে জান্নাতের অংশীদার করার জন্য এই পথের আহ্বান করে। তারা সকলকে তাদের ধর্মের সা

 

 

 

 

 

এবার পিচটিভি এর একটি অনুষ্ঠানে তাকে একজন হিন্দু তরুণী প্রশ্ন করেন, বিভিন্ন জায়গায় সে দেখেছেন, যখন কোন মুসলমান ও হিন্দু ধর্মের দুইজন ব্যক্তির দেখা হয়, তখন মুসলমান ব্যক্তি হিন্দু ব্যক্তিকে মুসলমানে পরিবর্তন করতে চায় কিন্তু হিন্দু ব্যক্তি কখনও মুসলমান ব্যক্তিকে পরিবর্তন করতে চায় না। তারা নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাস করেন, কিন্তু মুসলমানেরা কেন হিন্দুদের মুসলমান করতে চায়?
জাকির নায়েকের উত্তর শুনে আপনিও অবাক হয়ে যাবেন। তিনি সেই তরুণীকে প্রশ্ন করেন, যখন ভার্সিটির একজন ছাত্রের সাথে স্কুলের একজন ছাত্রের দেখা হয়, তখন কে কাকে শিক্ষা দেন?

উত্তরে তরুণী বলেন, অবশ্যই ভার্সিটির ছাত্র স্কুলের ছাত্রটিকে শিক্ষা দিবে।

তখন জাকির নায়েক বলেন, মুসলমান ব্যক্তিরা নিজেদের সেই ভার্সিটির ছাত্র মনে করেন। তাই তারা সকলকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এখানে আসল কথা হচ্ছে, প্রতিটি ধর্মে একে-অপরকে সাহায্য করার কথা বলা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, তুমি সকলকে আল্লাহ্‌র পথে ডাকো। তাই তারা সকলকে জান্নাতের অংশীদার করার জন্য এই পথের আহ্বান করে। তারা সকলকে তাদের ধর্মের সা

 

 

 

 

 

 

 

read more
ধর্ম ও জীবন

যে লক্ষণগুলো দেখলে বুঝবেন ইমাম মেহেদী (আঃ) পৃথিবীতে আগমনের সময় হয়ে গেছে

Untitled-1 copy

মানবজাতির শেষ ত্রাণকর্তা হযরত ইমাম মাহদী (আ.)’র পবিত্র জন্মদিন হল ১৫ ই শাবান। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র পবিত্র আহলে বাইতের ১১ তম সদস্য ইমাম হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.)’র পুত্র হিসেবে (আজ হতে ১১৮১ চন্দ্রবছর আগে) তাঁর জন্ম হয়েছিল ২২৫ হিজরিতে ইরাকের (বর্তমান রাজধানী বাগদাদের উত্তরে) পবিত্র সামেরা শহরে।

 

 

 

 

তাঁর মায়ের নাম ছিল নার্গিস এবং তিনি মহান আল্লাহর আদেশে এক পর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে যান। তাঁর অদৃশ্য থাকার সময়ও দুই ভাগে বিভক্ত। স্বল্পকালীন সময়ের জন্য অদৃশ্য হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে অদৃশ্য থাকা। দীর্ঘ মেয়াদে অদৃশ্য থাকার পর উপযুক্ত সময়ে তিনি আবার আবির্ভূত হবেন (যেভাবে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আবারও ফিরে আসবেন ঈসা-আ.) এবং সব ধরনের জুলুম ও বৈষম্যের অবসান ঘাটিয়ে বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচার ও ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। অতীত যুগের সুন্নি মনীষী ও আলেম সমাজের অনেকেই এই মহান ইমামের জন্ম গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন।

 

 

 

ইমাম মাহদির (আ.) আবির্ভাবের যুগে পৃথিবী, বিশেষ করে যে অঞ্চলে ইমাম মাহদি (আ.) আবির্ভূত হবেন সেই অঞ্চল, যেমন ইয়েমেন, হিজায, ইরান, ইরাক, শাম (সিরিয়া, লেবানন ও জর্দান), ফিলিস্তিন, মিশর ও মাগরিবের (মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও লিবিয়া) যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছে তা ছোট-বড় অনেক ঘটনা এবং বহু ব্যক্তি ও স্থানের নামকে শামিল করে।

বেশ কিছু সংখ্যক রেওয়ায়েত ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই পবিত্র মক্কা নগরী থেকে হযরত ইমাম মাহদি (আ.)-এর আবির্ভাবের বিপ্লব ও আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে।

 

 

কিন্তু আঞ্চলিক পর্যায়ে ইমাম মাহদি (আ.)-এর সমর্থক দু’টি সরকার ও প্রশাসন ইরান আর ইয়েমেনে প্রতিষ্ঠিত হবে। মাহদি (আ.)-এর ইরানী সঙ্গী-সাথীরা তাঁর আবির্ভাবের বেশ কিছুকাল আগে নিজেদের একটি সরকার গঠন করে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। অবশেষে তারা ঐ যুদ্ধে বিজয়ী হবে।

 

 

 

ইমাম মাহদি (আ.)-এর আবির্ভাবের কিছুকাল আগে ইরানীদের মধ্যে দু’ব্যক্তি (একজন খোরাসানী সাইয়্যেদ তথা বিশ্বনবী-(সা.)’র বংশধর যিনি হবেন রাজনৈতিক নেতা এবং অপরজন শুআইব ইবনে সালিহ্ যিনি হবেন সামরিক নেতা) আবির্ভূত হবেন এবং এ দু’ব্যক্তির নেতৃত্বে ইরানী জাতি তাঁর আবির্ভাবের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কিন্তু ইমাম মাহদি (আ.)-এর আবির্ভাবের কয়েক মাস আগে তাঁর ইয়েমেনী সঙ্গী-সাথিগণের বিপ্লব ও অভ্যুত্থান বিজয় লাভ করবে এবং তারা বাহ্যত হিজাযে যে রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হবে তা পূরণ করার জন্য তাঁকে সাহায্য করবে।

 

 

হিজাযের এ রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার কারণ হচ্ছে হিজাযের কোন এক বংশের এক নির্বোধ ব্যক্তি যার নাম হলো আবদুল্লাহ্, সে দেশের সর্বশেষ বাদশাহ্ হিসেবে নিহত হবে এবং তার স্থলাভিষিক্ত কে হবে- এ বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন এক মতবিরোধের সৃষ্টি হবে যা ইমাম মাহদি (আ.)-এর আবির্ভাব পর্যন্ত চলতে থাকবে।

“যখন আবদুল্লাহর মৃত্যু হবে, তখন জনগণ কোন্ ব্যক্তি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে- এ ব্যাপারে কোন ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে না। আর এ অবস্থা ‘যুগের অধিপতি’র (ইমাম মাহদির) আবির্ভাব পর্যন্ত চলতে থাকবে। বহু বছর রাজত্ব করার দিন শেষ হয়ে কয়েক মাস বা কয়েক দিনের রাজত্ব করার অর্থাৎ ক্ষণস্থায়ী শাসনের পালা চলে আসবে।”

 

 

 

আবু বসীর বলেন : “আমি জিজ্ঞাসা করলাম : এ অবস্থা কি দীর্ঘকাল স্থায়ী হবে? তিনি বললেন : কখনই না। বাদশাহ (আবদুল্লাহর) হত্যাকাণ্ডের পরে এ দ্বন্দ্ব ও সংঘাত হিজাযের গোত্রগুলোর মধ্যকার সংঘাত ও কলহে পর্যবসিত হবে।”

“(ইমাম মাহদির) আবির্ভাবের নিদর্শনগুলোর অন্যতম হচ্ছে ঐ ঘটনা যা দু’হারামের (মক্কা ও মদিনা) মাঝখানে সংঘটিত হবে। আমি বললাম : কোন্ ঘটনা ঘটবে? তিনি বললেন : দু’হারামের মাঝে গোত্রীয় গোঁড়ামির উদ্ভব হবে এবং অমুকের বংশধরদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বিরোধী গোত্রের ১৫ জন নেতা ও ব্যক্তিত্বকে অথবা তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে।”

 

 

 

এ সময়ই ইমাম মাহদি (আ.)-এর আবির্ভাবের নিদর্শনগুলো স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং সম্ভবত এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় নিদর্শন হচ্ছে আসমানি আহ্বান বা ধ্বনি যা তাঁর নামে ২৩ রমজানে শোনা যাবে। বিভিন্ন ইসলামী বর্ণনা ও হাদিস অনুযায়ী দিনটি হবে শুক্রবার।

তাঁর শত্রুরা তাঁর আবির্ভাবের ব্যাপারে খুব ভীত হয়ে পড়বে এবং এ কারণে তারা তাঁকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করবে। জনগণের মাঝে ছড়িয়ে যাবে যে, তিনি মদিনায় অবস্থান করছেন।

বিদেশী সামরিক বাহিনী অথবা হিজায সরকার সে দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনয়ন এবং সরকারের সাথে গোত্রসমূহের দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসন করার জন্য সিরিয়াস্থ সুফিয়ানী সেনাবাহিনীর সাহায্য চাইবে।(হাদিস বা ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী সুফিয়ানী বাহিনীর নেতা সুফিয়ানী হবে মুয়াবিয়ার বংশধর)

 

 

 

এ সেনাবাহিনী মদিনায় প্রবেশ করে হাশেমী বংশীয় যাকে পাবে তাকেই গ্রেফতার করবে। তাদের অনেককে এবং তাদের অনুসারীদেরকে হত্যা করবে এবং অবশিষ্টদেরকে জেলখানায় বন্দী করে রাখবে।

“সুফিয়ানী তার একদল সৈন্যকে মদিনায় প্রেরণ করবে এবং তারা সেখানে এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে। মাহদি ও মানসূর সেখান থেকে পলায়ন করবেন। তারা মহানবীর (সা.) সকল বংশধরকে গ্রেফতার করবে। আর এর ফলে কোন ব্যক্তিই মুক্ত থাকবে না। সুফিয়ানী বাহিনী ঐ দু’ব্যক্তিকে ধরার জন্য মদিনা নগরীর বাইরে যাবে এবং ইমাম মাহদি (ফিরআউনের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যাপারে) হযরত মুসা (আ.)-এর মতো ভীত ও চিন্তিত অবস্থায় সেখান থেকে বের হয়ে মক্কাভিমুখে চলে যাবেন।”

অতঃপর ইমাম মাহদি (আ.) মক্কা নগরীতে তাঁর কতিপয় সঙ্গী-সাথীর সাথে যোগাযোগ করবেন যাতে করে তিনি পবিত্র হারাম থেকে এশার নামাযের পরে মুহররম মাসের দশম রাতে (আশুরার রাতে) তাঁর আন্দোলনের সূচনা করতে পারেন। তখন তিনি মক্কার জনগণের উদ্দেশে তাঁর প্রথম ভাষণ দান করবেন। এর ফলে তাঁর শত্রু রা তাঁকে হত্যার চেষ্টা করবে। কিন্তু তাঁর সঙ্গী-সাথীরা তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে এবং শত্রু দেরকে বিতাড়িত করে প্রথমে মসজিদুল হারাম ও তারপর পবিত্র মক্কা নগরীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।

মুহররম মাসের দশম দিবসের (আশুরার দিবস) প্রভাতে ইমাম মাহদি সমগ্র বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বিভিন্ন ভাষায় তাঁর বাণী প্রদান করে বিশ্বের জাতিগুলোকে আহ্বান জানাবেন যাতে করে তারা তাঁকে সাহায্য করে। তিনি ঘোষণা করবেন যে, যে মুজিযার প্রতিশ্র“তি তাঁর শ্রদ্ধেয় প্রপিতামহ হযরত মুহাম্মদ (সা.) দিয়েছিলেন তা ঘটা পর্যন্ত তিনি পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থান করবেন। আর উক্ত মুজিযা হবে ইমাম মাহদি (আ.)-এর আন্দোলন দমন করার জন্য পবিত্র মক্কাভিমুখে অগ্রসরমান সুফিয়ানী প্রেরিত বাহিনীর ভূ-গর্ভে প্রোথিত হওয়া।

 

 

 

 

এ মুজিযার পর ইমাম মাহদি (আ.) ১০ হাজারেরও বেশি সেনা নিয়ে মক্কা থেকে মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হবেন এবং শত্রু বাহিনীর সাথে যুদ্ধের পর সেখানে অবস্থান গ্রহণ এবং মদিনা শত্রু মুক্ত করবেন। এরপর তিনি দুই হারাম (মক্কা ও মদিনা) মুক্ত করার মাধ্যমে হিজায বিজয় এবং সমগ্র অঞ্চলের (আরব উপদ্বীপ) ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবেন।

এরপর তিনি ইরাককে তাঁর প্রশাসনের কেন্দ্র এবং কুফা নগরীকে রাজধানী হিসাবে মনোনীত করবেন। আর এভাবে ইয়েমেন, হিজায, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো সর্বতোভাবে তাঁর শাসনাধীনে চলে আসবে।

রেওয়ায়েতগুলো এ কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইরাক বিজয়ের পর ইমাম মাহদি (আ.) সর্বপ্রথম যে যুদ্ধের উদ্যোগ নেবেন তা হবে তুর্কীদের সাথে তাঁর যুদ্ধ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে :

أول لواء يعقده يبعثه إلى التّرك فيهزمهم

“প্রথম যে সেনাদল তিনি গঠন করবেন তা তিনি তুর্কদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করবেন। অতঃপর তা তাদেরকে পরাজিত করবে।”

বাহ্যত তুর্কী বলতে রুশদেরকেও বোঝানো হতে পারে যারা রোমানদের (পাশ্চাত্যের) সাথে যুদ্ধের পর দুর্বল হয়ে পড়বে।

ইমাম মাহদি (আ.) সেনাদল গঠন করার পর তাঁর বিশাল সেনাবাহিনীকে কুদসে (জেরুজালেম) প্রেরণ করবেন। এ সময় তাঁর সেনাবাহিনী দামেস্কের কাছে ‘মার্জ আযরা’ এলাকায় আগমন করা পর্যন্ত সুফিয়ানী পশ্চাদপসরণ করতে থাকবে এবং তাঁর ও সুফিয়ানীর মাঝে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইমাম মাহদি (আ.)-এর প্রতি জনসমর্থন বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তাঁর সামনে সুফিয়ানীর অবস্থান এতটা দুর্বল হয়ে পড়বে যে, রেওয়ায়েত থেকে প্রতীয়মান হয় সুফিয়ানী তাঁর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাইবে। কিন্তু এ কাজের জন্য তার ইহুদী-রোমান মিত্র ও পৃষ্ঠপোষক এবং তার সঙ্গী-সাথীরা তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করবে।

 

 

 

 

তারা তাদের সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পর ইমাম মাহদি (আ.) ও তাঁর সেনাবাহিনীর সাথে এক বিরাট যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এ যুদ্ধের উপকূলীয় অক্ষরেখাগুলো ফিলিস্তিনের আক্কা (عكّا) থেকে তুরস্কের আনতাকিয়াহ্ (انطاكية) পর্যন্ত এবং ভিতরের দিকে তাবারীয়াহ্ থেকে দামেস্ক ও কুদস পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। (তাবারীয়াহ্ শহর এবং এ শহরের প্রসিদ্ধ হ্রদটি জবর-দখলকৃত ফিলিস্তিনে তথা বর্তমান ইহুদিবাদী ইসরাইলে অবস্থিত)।

এ সময় সুফিয়ানী, ইহুদী এবং রোমান সেনাবাহিনী মহান আল্লাহর(ঐশী) ক্রোধে পতিত হবে এবং তারা মুসলমানদের হাতে এমনভাবে নিহত হতে থাকবে যে, তাদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তি যদি কোন প্রস্তরখণ্ডের পিছনেও লুকায় তখন ঐ প্রস্তরখণ্ড চিৎকার করে বলে উঠবে : “হে মুসলমান! এখানে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। তাকে হত্যা করো।”

 

 

 

 

এ সময় মহান আল্লাহর সাহায্য ইমাম মাহদি (আ.) ও মুসলমানদের কাছে আসবে এবং তাঁরা বিজয়ী বেশে আল কুদসে প্রবেশ করবেন।

খ্রিস্টান পাশ্চাত্য আকস্মিকভাবে ইমাম মাহদি (আ.)-এর হাতে ইহুদী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক শক্তিসমূহের পরাজয় বরণের কথা জানতে পারবে। তাদের ক্রোধাগ্নি প্রজ্বলিত হবে এবং তারা ইমাম মাহদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।

ঠিক একইভাবে আরো কিছু হাদিস থেকে জানা যায় যে, এ যুদ্ধের ফলে সংঘটিত জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও তার আগে ও পরে সমগ্র বিশ্বব্যাপী যে প্লেগ বা মহামারী দেখা দেবে তাতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হবে। তবে পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ব্যতীত মুসলমানগণ সরাসরি এ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হবে না।

 

 

সূত্র: রেডিও তেহরান

 

 

 

 

 

read more
ধর্মধর্ম ও জীবন

মুমিনের ৭টি মৌলিক গুণ

Untitled-2 copy

সফল মুমিনের নিজস্ব পরিচয় আছে। স্বকীয়তা আছে। আছে গুণাবলি। আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে সফল মুমিনের বিবরণ তুলে ধরেছেন। কোথাও সফল মুমিনের পরিচয় দিয়েছেন এক কথায়। ‘যে তার আত্মাকে পবিত্র করেছে সে সফলকাম হয়েছে’ (সূরা আ’লা : ১৪)। কোথাও আবার দীর্ঘ বর্ণনায় নানা গুণাবলি উল্লেখ করেছেন।

 

 

 

 

 

এরূপ একটি স্থান হলো সূরা মুমিনুনের প্রথম দিকের কতগুলো আয়াত। এসব আয়াতে একজন সফল মুমিনের সম্পূর্ণ গুণাগুণ উল্লেখ করেছেন। আরো স্পষ্ট করে বলা যায়, এসব আয়াতে আল্লাহ সফল ও সার্থক মুমিনের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এ আয়াতগুলো দ্বারা বিচার করা যাবে কে সফল, কে সফল নয়। আয়াতের শুরুতেই আল্লাহ বলে দিয়েছেন, ‘তারা, মুমিনরা সফলকাম হয়ে গেছে।’ এখানে ‘হয়ে গেছে’ অতীত ক্রিয়া ব্যবহার করেছেন। অতীতকালীন ক্রিয়া ব্যবহার কতটুকু সঙ্গত হয়েছে। অথচ এখনো তারা ওইসব গুণাবলির অধিকারি নয়। ব্যাখ্যাকারকেরা বলেন, সামনের গুণাবলির অধিকারী হলে অবশ্যই সব মানুষ সফলকাম হবে।

 

 

 

 

সেই নিশ্চয়তার দিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ অতীতকালীন শব্দ প্রয়োগ করেছেন। সার কথাÑ যদি কোনো মানুষ নি¤েœাক্ত গুণাবলির অধিকারী হতে পারেন, তাহলে তিনি অবশ্য সফল মুমিনে পরিণত হবেন। সেই নিশ্চয়তার দিকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ অতীতকালীন শব্দ প্রয়োগ করেছেন। ভবিষ্যতে নিশ্চিত বাস্তবায়িত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে অতীতকালীন শব্দ প্রয়োগ আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ রীতি। আয়াতগুলোতে সাতটি গুণ পাওয়া যায়।

 

 

 

 

প্রথম গুণ : ‘তারা তাদের নামাজে বিনয় নম্রতা অবলম্বন করেছে।’ প্রথম গুণ নামাজ সম্পর্কিত। নামাজে খুশু-খজু অবলম্বন করা। এর এক অর্থ হলো নামাজে স্থিরমানতা, নড়াচড়া না করা। নামাজে নড়াচড়া করা মাকরুহাতের অন্তর্ভুক্ত। কেউ কেউ আবার এ অর্থও নিয়েছেন যে, নামাজে কাপড় বা শরীর নিয়ে খেলা না করা, ইচ্ছাপূর্বক না নাড়া। বিনয় ও নম্র হওয়ার আরো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় হাদিস শরিফে। মুজাহিদ বলেন, দৃষ্টি নত রাখা ও আওয়াজকে ক্ষীণ করার নাম খুশু। নামাজে বিনয় নম্র হওয়ার গুরুত্ব সীমাহীন।

 

 

 

 

কেননা রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, ‘নামাজী ব্যক্তি যতক্ষণ অন্য কিছুতে ভ্রƒক্ষেপ না করে ততক্ষণ আল্লাহ তার দিকে দৃষ্টি রাখেন।’
দ্বিতীয় গুণ : ‘তারা নিজেদেরকে অনর্থ কাজ থেকে বিরত রাখেন।’ অনর্থ অর্থবিহীন কাজ বাস্তবেও ভদ্রতার পরিপন্থী। আরবি শব্দ ‘লাগব’-এর অর্থ হলো উপকারবিহীন কাজ করা। যে কাজে কোনো সওয়াব বা উপকার নেই। একবার জনৈক সাহাবি দেখলেন একজন বালক দূরে কোথাও কঙ্কর নিক্ষেপ করছে অনর্থ, অযথা। সাহাবি তাকে নিষেধ করলেন। সে বালক শোনেনি। অতঃপর সাহাবি রাগান্বিত হয়ে বললেন, ‘আল্লাহর কসম যদি তুমি এ অনর্থ কাজ হতে বিরত না হও, আমি তোমার জানাজায় উপস্থিত হবো না।’

 

 

 

ওলামায়ে কেরাম বলেন, ‘অনর্থ কাজ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। কখনো কখনো তা আমলকে নষ্ট করে দেয়। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘মানুষ যখন তার অনর্থ কাজ ছেড়ে দেয় তখন তার ইসলাম পূর্ণ হয়ে যায়।’ এ কারণে আয়াতে তা কামেল মুমিনের গুণ বলে উল্লেখ রয়েছে।

 

 

 

 

তৃতীয় গুণ : ‘তারা নিয়মিত জাকাত আদায় করে।’ জাকাত ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়।

সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি জাকাত আদায় না করে, তাহলে তার ইসলাম পূর্ণ হবে না। জাকাতের শাব্দিক অর্থ শুদ্ধিকরণ, পবিত্রকরণ। পরিভাষায় কিছু শর্তের মাধ্যমে সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ দান করা। আলোচ্য আয়াতে শরিয়তের জাকাত উদ্দেশ্য হতে পারে। কুরানুল কারিমেও জাকাতের তাগিদ এসেছে। এসেছে জাকাতের বিশাল বিবরণ। জাকাত আদায় করার দ্বারা মালের পবিত্রতা রক্ষা পায়, পবিত্রতা হাসিল হয়। এর সাথে সাথে মালের মালিকের আত্মশুদ্ধি হাসিল হয়। জাকাত আদায় না করার ক্ষেত্রে রয়েছে ভয়াবহ সতর্কবাণী। হাদিসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি কার্পণ্য করে অথবা দুনিয়ার মোহে পড়ে জাকাত আদায় না করে, কাল কিয়ামতের দিন ওই মাল সাপ বানিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে দেয়া হবে। সেই সাপ তাকে দংশন করবে আর বলবে, ‘আমি তোমার গচ্ছিত মাল।’ (বোখারি)

 

 

 

 

 

চতুর্থ গুণ :

‘তারা নিজেদের লজ্জস্থান হেফাজত করে।’ মানুষের পাপের বিশাল অংশ লজ্জাস্থানের কারণে হয়। লজ্জাস্থান ব্যবহার ব্যতীত পাপের মূল পর্যায়ে পৌঁছা যায় না। কামভাব চরিতার্থ করার জন্য প্রয়োজন পড়ে লজ্জাস্থানের। তাই মহান আল্লাহ সফল মুমিনের একটি গুণ নির্ধারণ করেছেন লজ্জাস্থান হেফাজত করা। এ ছাড়া রাসূল সা: থেকে সাহল ইবনে সাদ বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কাছে তার দু’চোয়ালের মধ্য অংশ (জিহ্বা) এবং দু’রানের মধ্যাংশ (লজ্জাস্থান) হেফাজতের ওয়াদা দেবে, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হবো।’

 

 

 

পঞ্চম গুণ :

‘তারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকে।’ আমানত রক্ষা করা মুমিনের জন্য ফরজ। আমানতের শাব্দিক অর্থ নিরাপদ ও হেফাজত করা। এর দ্বারা বুঝা যায় বান্দার কাছে গচ্ছিত সব বিষয়ে সে আমানত রক্ষা করা ফরজ। চাই তা হক্কুল্লাহ বা ইবাদুল্লাহ হোক। আল্লাহর হক বান্দার কাছে সব আদেশ-নিষেধ ফরজ ও ওয়াজিব। বান্দা যদি ফরজ ও ওয়াজিব পালন না করে তাহলে সে আল্লাহর দেয়া আমানত রক্ষা করল না। এমনভাবে যদি কারো গচ্ছিত মালের ব্যাপারে খিয়ানত করে। তা হলে সে আমানত রক্ষা করল না। হাদিস শরিফে আছে, যার আমানতদারি নেই তার ঈমান নেই। আরো আছে, কাল কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার আমানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ সা: মুনাফিকের তিনটি আলামতের কথা বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো আমানত রক্ষা না করা।

 

 

 

 

ষষ্ঠ গুণ :

‘তারা অঙ্গীকার রক্ষা করে।’ অঙ্গীকার বলতে প্রথমত, দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে বুঝায়, যা কোনো ব্যাপারে উভয়পক্ষ ওয়াজিব করে নেয়। এরূপ অঙ্গীকার আদায় করা ফরজ। না করলে কবিরাহ গুনাহ হবে। দ্বিতীয়ত, অঙ্গীকার ওয়াদাকে বলা হয়। অর্থাৎ কাউকে কিছু দেয়ার ওয়াদা করা বা কিছু করে দেয়ার ওয়াদা করা। এটা পালন করাও শরিয়ত জরুরি করেছে। যা ওয়াজিব। হাদিস শরিফে এসেছে ওয়াদা এক প্রকার ঋণ। আর তা আদায় করা জরুরি। সুতরাং ওয়াদা পালন করাও ওয়াজিব।

 

 

 

 

সপ্তম গুণ :

‘তারা তাদের নমাজে যতœবান হয়।’ নামাজে যতœবান হওয়া মুমিনের গুণ। নামাজে যতœবান হওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নামাজকে তারা মোস্তাহাব সময়ে আদায় করে। ফরজিয়্যাত ও ওয়াজিবাত আদায়ের সাথে সাথে সুন্নত মোস্তাহাবসহ আদায় করা।
চিন্তা করলে দেখা যাবে, উল্লিখিত গুণের মধ্যে যাবতীয় প্রকার আল্লাহর হক ও বান্দার হক হওয়ার সাথে অপরাপর বিধানাবলি প্রবিষ্ট হয়ে গেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

read more
ধর্ম ও জীবন

১৬ টি কুফরি বাক্য যা আমরা নিয়মিত বলে থাকি, জেনে রাখা উচিৎ প্রত্যেক মুসলিমের!!

Untitled-1 copy

১৬ টি কুফরি বাক্য যা আমরা নিয়মিত বলে থাকি, জেনে রাখা উচিৎ প্রত্যেক মুসলিমের!!- না জেনে বুঝে এসব সমাজে প্রচলিত বাক্য আমরা প্রায়ই বলে ফেলি , জেনে নিন সেগুলো …

 

 

 

 

 

 

১. আল্লাহর সাথে হিল্লাও লাগে।

২. তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক।

( ফুল চন্দন হিন্দুদের পুজা করার সামগ্রী)

৩. কস্ট করলে কেস্ট মেলে

( কেস্ট হিন্দু দেবির নাম, তাকে পাবার জণ্য কস্ট করছেন?)

৪. মহভারত কি অশুদ্ধ হয়ে গেল?

( মহাভারত একটি উপন্যাস, যা সবসময় অশুদ্ধ)

৫. মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।

( এটি ইসলামের নামে কটূক্তি করা)

৬. লক্ষী ছেলে, লক্ষী মেয়ে, লক্ষী স্ত্রী বলা।

( হিন্দুদের দেব-দেবির নাম লক্ষী তাই ইসলামে এটি হারাম)

৭. কোন ঔষধকে জীবন রক্ষকারী বলা।

( জন্ম- মৃত্য

একমাত্র আল্লাহর হাতে)

৮. দুনিয়াতে কাউকে শাহেনসা বলা।

( এর অর্থ রাজাদের রাজাধীকার)

 

 

 

 

 

 

৯. নির্মল চরিত্র বোঝাতে ধোয়া তুলশি পাতা বলা।

( এটি অনইসলামিক পরিভাষা যা হারাম)

১০. ইয়া খাজাবাবা, ইয়া গাঊস, ইয়া কুতুব ইত্যাদি বলা।

( এটি শির্ক, ইসলামের সবচেয়ে বড় পাপ)

১১. ইয়া আলি, ইয়া রাসুল (সাঃ) বলে ডাকা এবং সাহায্য প্রার্থনা করা (আল্লাহ ছাড়া পৃথীবির কাউকে ডাকা শির্ক)

১২. বিসমিল্লায় গলদ বলা।

( এটি সরাসরি কুফরি)

১৩. মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়া বলা।

( কুফরি বাক্য, সাবধান। )

১৪. মধ্যযুগি বর্বরতা বলা।

( মধ্যযুগ ইসলামের সর্ণযুগ)

১৫. মন ঠিক থাকলে পর্দা লাগে না।

( ইসলাম ধংসকারী মতবাদ)

১৬. নামাজ না পড়লে ঈমান ঠিক আছে বলা।

( ইসলাম থেকে বের করার মূলনিতী। )

এই গুলি অজ্ঞতার কারনে হয়ে থাকে। হে মুসলিম উম্মাহ আসুন আমরা নিজে অতপর নিজের পরিবারকে সচেতন করি, তাদের মাঝে এই গুলি প্রচার করি, আর কত দিন এই অজ্ঞতায় পড়ে থাকবো?

 

 

 

 

 

আসুন না একজন আরেকজন কে সচেতন করার জন্য উৎসাহ দেই,
এই বাক্য গুলি আপনি যে কোন ভাবে প্রচার করুন।

 

 

 

 

আপনার একটি শেয়ারে কত মানুষ এই কুফরি বাক্য জানতে পারবে তা কি ভাবা যায়?
জাজাকাল্লাহ খায়ের। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

read more
ধর্ম ও জীবন

নামাজে বিশ্বনবী যেভাবে সেজদায় যেতেন !!! জেনে নিন সেই সুন্নতি তরিকায় !!!

Untitled-8 copy

নামাজে বিশ্বনবী যেভাবে সেজদায় যেতেন !!! জেনে নিন সেই সুন্নতি তরিকায় !!!

নামাজে বিশ্বনবী যেভাবে সেজদায় যেতেন !!! জেনে নিন সেই সুন্নতি তরিকায় !!!

নামাজে বিশ্বনবী যেভাবে সেজদায় যেতেন !!! জেনে নিন সেই সুন্নতি তরিকায় !!!

 

 

 

আমাদের চলা-ফেরা, জীবন যাপন সবই হবে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর নিয়মনুযায়ী। ঠিক তেমনই নামাজের প্রতিটি কাজ হতে হবে তারই নিয়মানুযায়ী। কেননা তিনি বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় কর; যেভাবে আমাকে পড়তে দেখেছো।’ সুতরাং নামাজের প্রতিটি রুকন আদায় করতে হবে সুন্নত তরিকায়।

 

যখনই সঠিকভাবে মানুষ নামাজ আদায় করে তখন সে নামাজ নিঃসন্দেহে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিজদার পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-

 

যেভাবে সিজদায় যাবেন: হজরত ওয়ায়েল বিন হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘আমি দেখেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সিজদায় যেতেন তখন তিনি উভয় হাত (মাটিতে) রাখার আগে তাঁর হাঁটুদ্বয় রাখতেন। আর যখন সিজদাহ হতে উঠতেন তখন হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন। (আবুদাউদ, নাসাঈ ও তিরমিজি)

 

 

ইমাম খাত্তাবি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাত আগে রাখার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসের চেয়ে এই হাদিসটি অধিক বিশুদ্ধ। আর এই পদ্ধতিটি মুসাল্লীদের জন্য অধিক সহজ এবং দেখতেও অধিক সুন্দর।

 

নামাজে বিশ্বনবির রুকুর পদ্ধতি ও দোয়া-সিজদায় যাওয়ার সময় জমিনের অধিক নিকটবর্তী অঙ্গ প্রথমে জমিনে পড়বে। তারপর তুলনামূলক অধিক নিকটবর্তী অঙ্গ জমিনে রাখবে। আবার সিজদা থেকে উঠার সময় জমিন থেকে শরীরের সবচেয়ে উপরের অঙ্গটি অন্যগুলোর আগে উঠবে। অতঃপর তার পরেরটি। সুতরাং মাথা যেহেতু জমিন থেকে সবচেয়ে উপরে তাই সবার আগে মাথা উঠবে, অতঃপর উভয় হাত, তারপর উভয় হাঁটু।

 

 

যেভাবে সিজদায় আদায় করবেন-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কপাল ও নাকের ওপর সিজদাহ করতেন। সিজদাহ করার সময় তিনি কপাল ও নাক জমিনে ভালভাবে লাগাতেন। উভয় হাতের বাহুদ্বয়কে পার্শ্বদেশ হতে এমনভাবে আলাদা করে রাখতেন যে, তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখা যেত।

 

 

মাগরিব ও ইশা নামাজে বিশ্বনবির ক্বিরাআত-সিজদার সময় তিনি উভয় হাতকে তাঁর উভয় কাঁধ ওকান বরাবর রাখতেন এবং পিঠকে সোজা রাখতেন। উভয় পায়ের আঙ্গুল সমূহকে কিবলামুখী করে রাখতেন এবং উভয় হাতের তালু এবং আঙ্গুল সমূহকে ছড়িয়ে রাখতেন। আঙ্গুল সমূহের মাঝে বেশি ফাঁক রাখতেন না এবং একটিকে অন্যটির সাথে একেবারে মিলিয়েও রাখতেন না।

 

 

 

 

 

আ]ল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো নিয়মে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

read more
ধর্ম ও জীবন

শরীর ব্যাথায় যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ।

Capture

মাটি ও মানুষের থুথুর মাঝে আরোগ্য রয়েছে। হজরত মোল্লা আলি কারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘আমি চিকিৎসা শাস্ত্রের কিছু আলোচনায় দেখেছি পরিশুদ্ধ ও মেজাজ পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে থুথুর বিশেষ প্রভাব রয়েছে। আর মূল স্বভাব সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে মাটির বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। এমনিভাবে অসুস্থতার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব রয়েছে। (মিরকাত) এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস তুলে ধরা হলো-

 

 

 

 

 

 

হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কোনো ব্যথিত তার শরীরের কোনো অঙ্গে ব্যথা অনুভব করতো অথবা শরীরের কোনো স্থানে ফোড়া দেখা দিতো বা জখম হতো তখন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ঐ স্থানে) আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলতেন-

 

 

 

 

 

 

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদিনা বি-রিকাতি বা’দিনা লিইউশফা সাক্বিমুনা বিইনি রাব্বিনা।
অর্থ : আল্লাহর নামে আমাদের জমিনের মাটি এবং আমাদের কারো থুথু মিশিয়ে; যাতে আমাদের রবের আদেশে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যায়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

 

 

 

 

 

উল্লেখিত হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির সঙ্গে নিজের থুথু মিশাতেন। তিনি হাতের তর্জনীতে থুথু নিয়ে তা মাটির সঙ্গে মিশাতেন। অতঃপর ব্যথার জায়গায় মাটি মাখা আঙ্গুল বুলাতেন এবং এ শব্দগুলো উচ্চারণ করতেন।

 

 

 

 

 

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবির এ হাদিসের ওপর আমল করে ঘোষিত উপকারিতা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

 

 

 

 

 

 

read more
1 2 3
Page 1 of 3