close

রোহিঙ্গা রিপোর্ট

রোহিঙ্গা রিপোর্ট

আবারো রোহিঙ্গাদের জন্য যে সুখবর দিলো তুরস্ক

Untitled-1 copy

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেবে তুরস্ক।

এ বছরই দেশটি ৫৩ রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের ডেপুটি মিনিস্টার হাকান কাভুসগলু। খবর আনাদলু এজেন্সির।

বর্তমানে দেশটিতে ১৫ জন রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা কমিউনিকেশন, আইন, রাজনীতি এবং মানবাধিকার বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

 

 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে মুসলিমবিরোধী সেনা অভিযান শুরু করে।

 

 

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সেনা অভিযানে এক হাজারের বেশি নিরীহ রোহিঙ্গা মারা গেছে। আর প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেবে তুরস্ক।

এ বছরই দেশটি ৫৩ রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের ডেপুটি মিনিস্টার হাকান কাভুসগলু। খবর আনাদলু এজেন্সির।

বর্তমানে দেশটিতে ১৫ জন রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা কমিউনিকেশন, আইন, রাজনীতি এবং মানবাধিকার বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

 

 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে মুসলিমবিরোধী সেনা অভিযান শুরু করে।

 

 

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সেনা অভিযানে এক হাজারের বেশি নিরীহ রোহিঙ্গা মারা গেছে। আর প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

read more
রোহিঙ্গা রিপোর্ট

মিয়ানমার কেন কাউকে পাত্তা দেয় না????

Untitled-1 copy

 

 

ইচ্ছে ছিল হজব্যবস্থাপনা নিয়ে লিখব। এবারের হজযাত্রার দুর্ভোগ-দুর্গতি নিয়ে লেখার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে কথামালা গোছাচ্ছিলাম পবিত্র ভূমি মক্কা-মদিনা থেকেই। কারণ, পবিত্র হজব্রত নির্ভুল ও নিখুঁতভাবে পালনের জন্য আমি সবরকম মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম প্রায় মাস ছয়েক আগে থেকেই।

এই উদ্দেশ্যে আমি সংসারজীবনের নৈমিত্তিক কাজকর্মেও সাময়িক বিরতি দিয়েছিলাম। সম্প্রতি আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মগুলোর মধ্যে প্রধানতম কর্ম হলোÑ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত লেখালেখি। অন্যান্য সময় জরুরি প্রয়োজনে বিদেশে কিংবা অন্য কোথাও ভ্রমণের জন্য ঢাকা ত্যাগের আগে আমি আমার পাঠকদের কথা চিন্তা করে পত্রিকাগুলোকে অগ্রিম লেখা দিয়ে যাই। কিন্তু এবারের হজ উপলক্ষে লেখালিখিও বাদ দিয়েছিলাম।

হজ নিয়ে আমার যেরূপ মানসিক প্রস্তুতি ছিল সে রকম বাংলাদেশের অন্যান্য হজযাত্রীর প্রস্তুতিও কোনো অংশে কম ছিল না বলেই আমার বিশ্বাস। যে পবিত্র অনুভূতি, প্রগাঢ় ধর্মানুরাগ ও আল্লাহর কাছে প্রবলভাবে আত্মসমর্পণ করার দৃঢ়তা নিয়ে যারা মক্কার কাফেলার সাথে একীভূত হওয়ার বাসনায় সব কিছু বিসর্জন দেন সেই সম্মানিত হজযাত্রীরা যেসব মুনাফাখোর, ধান্দাবাজ ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা এবং টাউট রাজনীতিবিদদের নির্বিচারে লুটপাটের শিকারে পরিণত হন তার বাস্তব অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে সামান্য কিছু পাঠকদের জানানোর জন্য ইচ্ছে পোষণ করেছিলাম।

 

 

কাউকে হেয় করা বা কারো বাড়া ভাতে ছাই না দিয়ে কেবল আগামী দিনের হজযাত্রীদেরকে সতর্ক করার জন্যই এমনটি লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশে ফেরার পর রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা, পরিবেশ ও পরিস্থিতি দেখার পর মনে হলো বিষয়টি নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা দরকার।

 

 

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সমস্যা দীর্ঘ দিনের। সমস্যাটি রাষ্ট্রীয়পর্যায়ে প্রথম দৃশ্যপটে আসে ১৯৭৬-৭৭ সালে। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাথে একটি সমঝোতামূলক দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সমস্যাটির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়। পরবর্তীতে এরশাদ সরকারের আমলে দু’টি রাষ্ট্রের সম্পর্ক রীতিমতো উষ্ণ হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট এরশাদ রাষ্ট্রীয়ভাবে তৎকালীন বার্মা সফর করেন এবং ক্ষমতাসীন বার্মিজ সামরিক শাসক এবং তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দু’টি দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়ানোর ব্যাপারে উভয় পক্ষই আন্তরিকতা প্রদর্শন করে। এভাবেই চলে যায় বহু বছর।

 

বিএনপি সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে অর্থাৎ ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বার্মা ও ভারত উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশ সীমান্তে বিরোধ দেখা দেয়। রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য বাদ দিলে পত্রপত্রিকার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমরা জানতে পেরেছিলাম যে, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আমাদের তৎকালীন বিডিআর-এর হাতে ভয়ানকভাবে নাজেহাল হয়েছিল।

 

 

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর আমাদের সীমান্তের বীরত্বগাথার খবর আগের মতো পত্রপত্রিকায় আসছে না। অধিকন্তু সীমান্তে ভারতীয় বর্ডার গার্ড এবং সাবেক বার্মা বা ইদানীং মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনীর তাণ্ডব, হত্যাকাণ্ড এবং অপমানজনক আচরণের হাজারো সংবাদ পেতে পেতে আমরা ধরেই নিয়েছি যে, ওসব আমাদের নিয়তি অথবা নিত্যকার পুষ্পমাল্য, যা না পেলে আমাদের অনেকের সম্মান বাড়ে না।

 

 

ফলে ভারত ও মিয়ানমারের ওপার থেকে এসব দেশের কলকারখানার বর্জ্য, ওদের দেশে তৈরী মাদক, নি¤œমানের ভোগ্যপণ্য যেভাবে অবাধে আমাদের দেশের অভ্যন্তরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে মনে হচ্ছে সব কিছুর জোগান, বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ ওরাই করছে। ওরা ইচ্ছেমতো ইয়াবা, ফিনসিডিল, দুর্বল ও রোগাক্রান্ত গরু ইত্যাদি ঢুকিয়ে দিচ্ছে এবং আমাদের দেশ থেকে মূল্যবান স্বর্ণ, পেট্রল, ডলার, টাকা, আমদানি করা দামি ইলেকট্রনিক সামগ্রী নির্বিবাদে নিয়ে যাচ্ছে। তারা ইচ্ছেমতো তাদের দেশের লোকজন, অপরাধী পুশব্যাক অথবা পুশইন করাতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েছিল এমন খবর আমরা শুনিনি।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ হঠাৎ করে টর্নোডোর গতিতে ঘটলেও এমনতরো ঘটনার প্রেক্ষাপট রচনা হয়েছে বহু দিন আগে থেকেই। আমরা আবেগবশত কেবল শরণার্থী রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, তাদের পুনর্বাসন ইত্যাদি নিয়ে নিজেদের ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সেই দেশের রাজনৈতিক নেত্রী সু চির চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করছি। আমাদের মধ্যে কিছু আবেগপ্রবণ লোক সামাজিক মাধ্যম, পত্রপত্রিকা এবং টেলিভিশন টকশোগুলোতে মনগড়া তথ্য পরিবেশন করে আমাদের দেশের জনসাধারণকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করে তুলছি। এতে করে সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা, বরং উল্টো পরিস্থিতিকে জটিল ও কূটিল বানিয়ে ফেলছি।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামার শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন দল রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রচার-প্রপাগান্ডা চালিয়ে আসছিল। অন্য দিকে সরকারবিরোধীরা সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং পুনর্বাসনের জন্য দাবি করে আসছিল। তরুণ ও যুবক সম্প্রদায়সহ সাবেক কিছু সামরিক কর্মকর্তা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে জোর প্রচারণা শুরু করেছিল। এরই মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট-পত্নী ঝটিকা সফরে এসে কক্সবাজারের কয়েকটি শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করলেন। তিনি মানবিক আবেদন জানালেন বিশ্ববাসীর প্রতি অশ্রুসজল নয়নে, যাতে সবাই রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং বৃহত্তর পরিসরে ব্যাপকভাবে তুর্কি সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন।

তুর্কি ফার্স্টলেডির বাংলাদেশের রোহিঙ্গাশিবির সফর এবং অসহায় রোহিঙ্গাদের জড়িয়ে ধরে তার কান্নার ছবি দেশী-বিদেশী সব গণমাধ্যমের লিড নিউজে পরিণত হলো। বিদায়বেলায় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন। এর পর থেকেই রোহিঙ্গাদের প্রতি যেন বাংলাদেশ সরকারের সব সিদ্ধান্ত আল্লাহর রহমতস্বরূপ নাজিল হতে থাকল। প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনিও কক্সবাজারের রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শনে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সাথে সাথে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের রোহিঙ্গাসংক্রান্ত সুর পাল্টে গেল। তারা তাদের দলীয় প্রধানের মনোভাব আন্দাজ করার চেষ্টা করলেন।

রোহিঙ্গাশিবিরে গিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তুুর্কি ফার্স্টলেডির চেয়েও অধিক আন্তরিকতা নিয়ে শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বললেন, জড়িয়ে ধরলেন এবং আবেগাপ্লুত হয়ে অশ্রু বিসর্জন করলেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সেইসব আবেগঘন দৃশ্যের ছবি দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে ছাপল। রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং অসহায় শরণার্থীদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের জন্য তার সরকারের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করার আশ্বাস দিয়ে বললেন- যদি ১৬ কোটি লোককে খাওয়াতে পারি, তবে সাত লাখ রোহিঙ্গাকেও খাওয়াতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ফেরার পর তার মানবিকতা, উদারতা ও সাহসী নেতৃত্বের অনুপম গুণাবলির কথা কল্পনা করতে করতে সরকারসমর্থক লোকজন প্রবলভাবে আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন। তারা দশমুখে প্রচার শুরু করলেন, এবার নিশ্চয়ই নোবেল কমিটি প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দিয়ে রেহাই পাবে না। একদল সরকারসমর্থক আরো একটু আবেগপ্রবণ হয়ে বলতে শুরু করল, প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ, ব্যক্তিত্ব, সুনাম এবং মর্যাদা এমন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে, সেখানে তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হলে নোবেল কমিটি হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং তাদের পুরস্কারের মান ও শান বাড়ে।

উল্লিখিত টইটম্বুর ভাবাবেগের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশাল এক রাজকীয় বহর নিয়ে মার্কিন মুলুকের নিউ ইয়র্ক শহরে গেলেন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে যোগদানের জন্য। ইতোমধ্যে খবর বেরোল যে, মিয়ানমারের নেত্রী সু চি এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবারের জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে যোগদানের পূর্বসিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। আবেগপ্রবণ বাঙালি বলতে শুরু করল যে, তারা জনরোষের ভয়ে আমেরিকা যাননি। সরকারসমর্থকেরা বললেন- আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হওয়ার দুঃসাহস ও দুর্বুদ্ধি তাদের হয়নি। কারণ এবারকার অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই থাকবেন সব আলোচনা এবং আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

বাঙালির চিরায়ত ভাবাবেগ এবং চিত্তচাঞ্চল্যের অনুপম অভ্যাসের কবলে পড়ে রোহিঙ্গা সমস্যা কি বাড়ছে না কমছে তা দেখার মতো লোকের সংখ্যা এ দেশে যে খুব বেশি নেই তা বেশ দিব্যি করেই বলা চলে। সমস্যাটির সাথে কী কী আঞ্চলিক সমস্যা এবং কী কী আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক কূটচালের সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত রয়েছে তা যদি অবিলম্বে চিহ্নিত না করে শুধু আবেগ দিয়ে রাজ্যের সব ত্রাণ কক্সবাজারে জড়ো করা হয়, তবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

দেশ-বিদেশের খবর রাখেন এমন পাঠক নিশ্চয় লক্ষ করেছেন, মিয়ানমার সরকার কোনো কিছুকেই পাত্তা দিচ্ছেন না। তারা সুদীর্ঘকাল ধরে জাতিসঙ্ঘ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তির রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ মোকাবেলা করে এসেছে অনেকটা উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের মতো। কিন্তু কোনো অবরোধই তাদের টলাতে পারেনি। কারণ, আঞ্চলিক রাজনীতিতে শক্তিশালী প্রতিবেশীদের সঙ্গে সে এমন একটি কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে যার ফলে রাষ্ট্র চালাতে তাদের কোনো অসুবিধা হয়নি। ভারত, চীন, লাওস, থাইল্যান্ড, ভুটান এবং একটু দূরের ভিয়েতনামের সঙ্গে রয়েছে তাদের চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। যেসব দেশ সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি বিক্রয় করে সেসব দেশের সাথেও তাদের দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত।

তাদের নিয়মিত সেনাবাহিনীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এবং প্যারা মিলিটারি শক্তির সংখ্যা আরো তিন লাখ। বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান রয়েছে ২৪৯টি। ট্যাংক প্রায় ৬০০ এবং অন্যান্য যুদ্ধবাহনের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। অন্য দিকে নৌবাহিনীতে রয়েছে ১৫৫টি অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত যুদ্ধজাহাজ

 

মিয়ানমারের অর্থনীতি বিদেশনির্ভর নয়। অন্য দিকে তাদের যে দুর্লভ বনজ ও খনিজসম্পদের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যার জন্য পশ্চিমা বিশ্ব বিভিন্ন ছল ও ছুতোয় মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের পাঁয়তারা করে আসছে বহু দিন থেকে। পশ্চিমারা এক দিকে সু চিকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করেছে, অন্য দিকে সামরিক শাসকদের তাঁবেদারি করে গেছে সমানতালে। তারা নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে কোনো দিন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যেমন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তেমনি অনাগত দিনেও এমনটি হবে বলে আশা করার কোনো কারণ দেখছি না। যেসব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো পরস্পরের সাথে দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ, ঝগড়াঝাঁটি অথবা প্রতিনিয়ত যুদ্ধের হুমকি দিয়ে চলেছে তারাও মিয়ানমার প্রসঙ্গে সমস্বরে কথা বলছেন।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে অবশ্যই বিবেকের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ভাবতে হবে, কেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও পারস্পরিক শত্রু বলে বিবেচিত ভারত-পাকিস্তান, চীন-ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চীন, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া-জাপান প্রভৃৃতি রাষ্ট্রশক্তি একই ভাষায় কথা বলছে! বাংলাদেশের তথাকথিত বন্ধু বলে পরিচিত ভারত কেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। এমনকি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক বন্ধু ভুটান বাংলাদেশের ব্যাপারে একটুও নড়ছে না। এসব বিবেচনা করলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ভূত-ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই।

আমরা নিকট অতীতে কোনো দিন মিয়ানমারের সাথে বেয়াদবি করিনি। আমাদের বিজিবি সদস্যদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পরও আমরা আমাদের সীমানার গহিন অরণ্যে অনুপ্রবেশ করে পথ হারানো নাসাকা বাহিনীর সদস্যদের খুঁজে বের করে জামাই-আদরে তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছি। আমরা তাদের ইয়াবা অর্থনীতিকে সর্বশক্তি দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছি এবং তাদের দেশের প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পরও যাতে তারা রাগ না করে এ কারণে দুই লাখ টন পিঠা-পায়েস তৈরি করার উপযুক্ত অপ্রয়োজনীয় আতপ চাল আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছি। তারপরও কেন তারা সীমান্তের ওপারে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে- কেন তাদের সামরিক হেলিকপ্টার গত কয়েক দিনে ১৯ বার আকাশসীমা লঙ্ঘন করে আমাদের দেশে ঢুকে চোখরাঙিয়ে যাচ্ছে এবং কেন তারা আমাদেরকে একটু পাত্তা তো দূরের কথা- জিজ্ঞেসও করছে না?

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমার বারবার শুধু প্রয়াত সৈয়দ সামসুল হকের পরানের গহীন ভিতর কবিতার প্রথম তিনটি লাইন মনে পড়ছে। কবি বলেন-
‘আমি কার কাছে গিয়া জিগামু সে দুঃখ দ্যায় ক্যান,
ক্যান এতো তপ্ত কথা কয়, ক্যান পাশ ফিরা শোয়,
ঘরের বিছন নিয়া ক্যান অন্য খ্যাত রোয়’

read more
রোহিঙ্গা রিপোর্ট

নোয়াখালীর ভাষাণচরে ৫ লাখ রোহিঙ্গার অস্থায়ী আবাস্থল তৈরির কার্যক্রম শুরু- দেখুন ভিডিওতে..

Untitled-1 copy

 

ভিডিওতে..নোয়াখালীর ভাষাণচরে ৫ লাখ রোহিঙ্গার অস্থায়ী আবাস্থল তৈরির কার্যক্রম শুরু- দেখুন ভিডিওতে..

ভিডিওতে..নোয়াখালীর ভাষাণচরে ৫ লাখ রোহিঙ্গার অস্থায়ী আবাস্থল তৈরির কার্যক্রম শুরু- দেখুন ভিডিওতে..

ভাষাণচরে চলছে কর্মযজ্ঞআশ্রয় হবে ৫ লাখ রোহিঙ্গার ।।

Posted by R97 ফেসবুক পেইজ on Sonntag, 1. Oktober 2017

read more
রোহিঙ্গা রিপোর্ট

রোহিঙা হুজুরদের সেনাবাহিনী কি ভাবে মারছে ভিডিও ……><><

Untitled-1 copy

 

দেখুন গুলি আর জবাই করে রোহিঙ্গাদের মারছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ! (ভিডিও)

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আর ‘মারমা’ বা ‘মগ’ জনগোষ্ঠী মিলে রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

প্রথমে গ্রামগুলো ঘিরে ফেলা হচ্ছে। এরপর সেনারা নির্বিচারে গুলি করছে। গুলির পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে জবাই করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের।

আরিফুর রহমান আরাকান রাজ্যের তুমব্রু রাইট গ্রামে বসবাস করতেন।

ব্যবসা করে বাড়ি-গাড়ি সবই করেছিলেন। মিয়ানমার সেনারা গত ৬ জুলাই তুমব্রু গ্রাম জ্বালিয়ে দিলে আরিফের বাড়িও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তার প্রাইভেট কারটিও জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

read more
রোহিঙ্গা রিপোর্ট

আবারও রোহিঙ্গা আসা বেড়ে যাওয়ার কারণ কি?????

Untitled-1 copy

 

বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সর্বদক্ষিণ প্রান্ত টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। অনুপ্রবেশের ঘটনা সপ্তাহ-খানেক আগে কিছুটা কমে যাওয়ার পর গত ২৬শে সেপ্টেম্বর থেকে আবারো বেড়েছে।

এ ক’দিনে এখান দিয়ে প্রায় অর্ধ লক্ষ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলে একটা প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন।

 

তিনি বলেন, গত তিন চারদিনে চল্লিশ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে তারা ধারণা করছেন। এবং এই আসার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা পাঁচ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।

শাহপরীর দ্বীপের খোলাপাড়া নামে একটি জায়গা থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক জানান, কিছুক্ষণ আগেই সেখানে ২৭০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী গিয়ে পৌঁছেছে। এরা কয়েকটি নৌকায় করে পৌঁছেছে। এসব নৌকা মিয়ানমার থেকে এসে শরণার্থীদের নামিয়ে দিয়েই আবার ফিরে যায়। বার্মা থেকে নৌকাগুলো আসে। এখানে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। তারপর আরো কিছু রোহিঙ্গা নিয়ে আসে।

জানা যাচ্ছে, এখন বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী আসছেন তাদের প্রায় সবাই নৌকা দিয়ে এই শাহপরীর দ্বীপেই আসছেন। এখানে রয়েছেন কোস্ট গার্ড ও বিজিবির লোকজন। তারা এদের দেখভাল করছেন, এবং এখান থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কুতুপালং হোয়াইক্যাংসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এলাকাটি পড়েছে সাবরাং ইউনিয়নের ভেতরে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলছিলেন আগত শরণার্থীর সংখ্যা প্রতিদিনই সন্ধ্যের পর বেড়ে যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যে বেলায় অন্তত দুই তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শাহপরীর দ্বীপে এসে পৌঁছাচ্ছে বলে জানান তিনি।

মাঝখানে শরণার্থীদের আসার ঘটনা কমার পর আবার যে বেড়ে গেল, এর কারণ কি? তিনি কি জানতে পারছেন? “আমরা শুনেছি যে ওখানে মুসলমানদেরকে নাকি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্যে বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সেকারণে তারা বাংলাদেশে চলে আসছেন,” বলেন তিনি।

টেকনাফে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের মধ্যে নেতৃত্ব-স্থানীয় একজন মোহাম্মদ নূর, যিনি আগে থেকেই, বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন এবং কুতুপালং মেকশিফট সেটলমেন্ট ক্যাম্প ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি, তিনি বলছিলেন, ‘মিয়ানমারের সরকার মাঝখানে দু-চার-পাঁচ দিন তাদেরকে বিভিন্ন কথায় ভুলিয়ে রেখেছিল। মানুষ এপারে আসার জন্য রওয়ানা দিলে তাদের বাড়িঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এটা তারা করেছে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে।’

নূরের ভাষায়, ‘এটা এক ধরণের প্রতারণা তারা করেছে। দু’চারদিন পর এখন আবার তারা নির্যাতন শুরু করে দিয়েছে। রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সৈন্যরা এখন রীতিমত মাইকিং করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বলছে যে, জমিজমা ছেড়ে দিয়ে বাড়িঘর খালি করে তারা যেন বাংলাদেশে চলে যায়।

একই রকম বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলুল হকের কাছ থেকেও, যিনি প্রতিদিনই শাহপরীর দ্বীপে আগত শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন এবং তাদের নানা রকমের সহায়তা দিচ্ছেন। বিবিসি

read more
রোহিঙ্গা রিপোর্ট

রোহিঙ্গা মেয়েদের সাথে আসা যে অজ্ঞাত রোগ নিয়ে মহা ভয়ংকর খবর ! দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশংকা (ভিডিও)

Untitled-1 copy

 

রোহিঙ্গা মেয়েদের সাথে আসা যে অজ্ঞাত রোগ নিয়ে মহা ভয়ংকর খবর ! দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশংকা (ভিডিও)রোহিঙ্গা মেয়েদের সাথে আসা যে অজ্ঞাত রোগ নিয়ে মহা ভয়ংকর খবর ! দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশংকা (ভিডিও)

 

ভিডিও নিচে আসবে একটু অপেক্ষা করুন <<

 

 

বি: দ্র : ই্উটিউব থেকে প্রকাশিত সকল ভিডিওর দায় সম্পুর্ন ই্উটিউব চ্যানেল এর

এর সাথে আমরা কোন ভাবে সংশ্লিষ্ট নয় এবং আমাদের পেইজ কোন প্রকার দায় নিবেনা।
ভিডিওটির উপর কারও আপত্তি থাকলে তা অপসারন করা হবে। প্রতিদিন ঘটে যাওয়া নানা রকম ঘটনা আপনাদের মাঝে তুলে ধরা এবং সামাজিক সচেতনতা আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ।

আরোও পড়ূনঃ-

জেনে নিন যে ৩টি উপায়ে খাঁটি সোনা চিনতে পারবেন ??

বিয়ে, জন্মদিন কিংবা যেকোনো উৎসবে নিজেকে সাজাতে নারীদের প্রথম পছন্দ হলো সোনার গহনা। তবে শুধুমাত্র নারীর অঙ্গশোভা বাড়াতে নয়- আভিজাত্য এবং সম্পদ সংরক্ষণে যুগ যুগ ধরেই প্রাধান্য পায় সোনা। কিন্তু স্যাকরার দোকানে গিয়ে খাঁটি স্বর্ণ চিনতে না পারায় অনেক সময় ঠকতে হচ্ছে। আসলে সাধারণের পক্ষে খাঁটি স্বর্ণ চেনা কিন্তু সহজ কথা নয়।

জেনে নিন খাঁটি সোনা চেনার উপায়-

 

১। সোনা কিনুন ২৪ ক্যারটের– ২৪ ক্যারট সোনাই আসল খাঁটি সোনা। ২৪ ক্যারট সোনা মানে ৯৯.৯% শতাংশ খাঁটি সোনা। কিন্তু দোকানে সাধারণত ২৪ ক্যারট সোনা দিয়ে গয়না তৈরি হয় না। তাতে সেই সোনার অলঙ্কার বড্ড নরম হয়ে যাবে। তাই দোকানে সাধারণত ২২ ক্যারট সোনা দিয়েই অলঙ্কার তৈরি করা হয়। আপনি সেদিকটা খতিয়ে দেখে নেবেন যাতে ২২ ক্যারট সোনা দেওয়া হয়। ২২ ক্যারট সোনা মানে ৯১.৬% শতাংশ সোনা।

২। BIS চিহ্ন দেখে সোনা কিনুন – সাধারণত, সোনা কেনার আগে হলমার্ক দেখেই মানুষ কেনেন। এটাই নিয়ম খাঁটি সোনা চেনার ক্ষেত্রে। কিন্তু এছাড়াও BIS চিহ্ন দেখে সোনা কিনুন। তাতে আপনি নিশ্চিত থাকবেন যে, আপনার সোনা সত্যিই খাঁটি।

৩। ফ্লুরোসেন্স মেশিনে এক্স রে করিয়ে নিন। যদিও এই পদ্ধতিতে সোনা যাচাই করে নেওয়াটা একটু কঠিন। কারণ সব জায়গাতে সচরাচর এমন সূযোগ আপনি নাও পেতে পারেন। তবুও একবার চেষ্টা করে নেবেন, যাতে এই পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আপনি আপনার সোনাকে যাচাই করে নিতে পারেন।

read more
রোহিঙ্গা রিপোর্ট

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে যা বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ,বিস্তারিত

Untitled-1 copy

 

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরির্দশন শেষে তিনি এ কথা জানান।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থাসহ (আইএমও) সরকারি-বেসরকারি কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

পরে নির্যাতনের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ও স্বজনহারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় বার্নিকাটের সঙ্গে ছিলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধি।

 

 

মার্শা বার্নিকাট বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তার দেশ অত্যন্ত আন্তরিক। এ জন্য তিনি এবারসহ তিন বার ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন। খোঁজ-খবর নেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বতার শিকার হয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নারী-পুরুষ রোহিঙ্গাদের।

 

 

ইতিপূর্বে উখিয়ার কুতুপালং, সীমান্তের ঘুমধুম জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন করেছিলেন ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিদল। ওই সময় তারা মিয়ানমারে বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়ার দৃশ্য স্বচক্ষে অবলোকন করেন।

 

 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচআরের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শন শেষে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘সীমান্তের ওপারে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলিম চাপের মুখে আছে।

 

 

 

তারা স্থানচ্যুত হয়েছে। সহিংসতা বন্ধ না হলে আবারো তারা দলে দলে আসবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের কোথাও এত দ্রুততার সাথে শরণার্থী সঙ্কট প্রকট হয়ে ওঠেনি। তার মতে, এ মুহূর্তে মিয়ানমারের উচিত সহিংসতা বন্ধ করা। একই সাথে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া।’

read more
রোহিঙ্গা রিপোর্ট

সব নৃশংসতাকে হার মানায় মিয়ানমারের এই নারীর নির্যাতনের ভিডিওটি ! দেখুন ভিডিওসহ

Capture

 

সব নৃশংসতাকে হার মানায় মিয়ানমারের এই নারীর নির্যাতনের ভিডিওটি ! দেখুন ভিডিওসহ

 

 

বি: দ্র : ই্উটিউব থেকে প্রকাশিত সকল ভিডিওর দায় সম্পুর্ন ই্উটিউব চ্যানেল এর

এর সাথে আমরা কোন ভাবে সংশ্লিষ্ট নয় এবং আমাদের পেইজ কোন প্রকার দায় নিবেনা।
ভিডিওটির উপর কারও আপত্তি থাকলে তা অপসারন করা হবে। প্রতিদিন ঘটে যাওয়া নানা রকম ঘটনা আপনাদের মাঝে তুলে ধরা এবং সামাজিক সচেতনতা আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য

আরোও পড়ূনঃ-

 

অবশেষে ক্যান্সারের টিকা আবিষ্কার! সংবাদটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

অবশেষে আবিষ্কৃত হয়েছে ক্যান্সারের টিকা। এই টিকা শরীরের যেকোনো অংশে ছড়িয়ে থাকা ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংস করবে বলে দাবি গবেষকদের।

ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই টিকা এখনও পরীক্ষামূলক অবস্থাতেই রয়েছে। প্রথমবারের মতো এক রোগীর শরীরে এই টিকা প্রয়োগ করার পর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে, লন্ডনের বেকেনহ্যাম এলাকার বাসিন্দা কেলি পটার (৩৫) নামে এক নারীর শরীরে প্রথমবারের মতো ওই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছিল। জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তার শরীরে যখন ক্যান্সারের টিকা প্রয়োগ করা হয়েছিলো সে সময় তার ক্যান্সার চতুর্থ পর্যায়ে ছিলো।

তার লিভার ও ফুসফুসের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছিল ক্যান্সারের জীবাণু। টিকা দেওয়ার পর তার শরীরে ক্যান্সারের ব্যাপ্তি এখন অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে লিভার ও ফুসফুসের মধ্যে জীবাণু ছড়িয়ে পড়াও বন্ধ হয়েছে তার। আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কেলি।

বিশেষজ্ঞ জেমস স্পাইসার পরামর্শ দিয়েছেন, ক্যান্সার শরীর হতে পুরোপুরি নির্মূল করতে এই টিকার সঙ্গে কম মাত্রার কেমোথেরাপি দেওয়ার জন্য। এই টিকা শরীরে প্রবেশ করলে তা ভালো কোষগুলোকে অক্ষুণ্ণ রেখে ক্যান্সারের ক্ষতিকর কোষগুলোকে খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্যান্সারের অজানা লক্ষণগুলো

মানবদেহ এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলেই তা বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ করতে থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা কিছু লক্ষণ অগ্রাহ্য করার প্রবণতা প্রদর্শণ করি। এমন বিশেষ কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো সম্পর্কে আপনাকে আগে-ভাগেই সাবধান হতে হবে। সেজন্য সেই লক্ষণগুলো সম্পর্কেও জানা থাকতে হবে। আর সেসব লক্ষণ নিজের বা অন্য কারো মধ্যে দেখা মাত্রই ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দিতে হবে।

ক্যান্সারের অজানা লক্ষণগুলো

ক্যান্সার হলেও নানা ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়। কোথায় ক্যান্সার হয়েছে, সেটি কত বড় এবং দেহের অঙ্গ ও টিস্যুগুলোকে তা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তার ওপর ভিত্তি করেই উপসর্গগুলো সৃষ্টি হয়। আর ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে দেহের ভিন্ন ভিন্ন অংশে লক্ষণ দেখা দেয়। এখানে ক্যান্সারের শীর্ষ অজানা লক্ষণগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

১. ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

এটি স্তন ক্যান্সারের একটি অজানা লক্ষণ। শক্ত গিঁটের মতো স্তন বা বগলের নিচে এই লক্ষণ দেখা দেয়।

এতে প্রদাহ বা র‌্যাশ এবং আকার পরিবর্তন হয়।

২. স্থায়ী কাশি

দীর্ঘস্থায়ী কফ হলো ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ। এর পাশাপাশি ক্ষুধামান্দ্য এবং আকস্মিক ওজন হ্রাসের মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। শেষ পর্যায়ে এসে ফুসফুস ক্যান্সার থেকে কফের সঙ্গে রক্তপড়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এটি ক্যান্সারের শীর্ষ লক্ষণগুলোর একটি।

৩. ত্বকে চুলকানি

সব ধরনের ত্বকের চুলকানি টিউমারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। কিন্তু মূত্রাশয়ে ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে জননাঙ্গে চুলকানি হতে পারে। ব্রেন ক্যান্সার হলে নাকের ছিদ্রপথে চুলকানি হতে পারে।

৪. অন্ত্রের কার্যক্রম পরিবর্তিত হয়ে যায়

অন্ত্রে ক্যান্সার হলে পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়া, শ্লেষ্মা নিঃসরণ বা দূষিত স্রাব এবং হঠাৎ মলত্যাগের মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

৫. প্রস্রাব করার সময় তরল নিঃসরণ

এটি হতে পারে কিডনি ক্যান্সারের একটি লক্ষণ। যা প্রস্রাব করার সময় রক্তপড়ার মতো লক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। পাশাপাশি কিডনিতে হাইপারটেনশন ও ব্যাথা এবং দীর্ঘমেয়াদি দূর্বলতা এসব লক্ষণও থাকবে। ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি এটি।

৬. আকস্মিক ওজন হ্রাস

পাকস্থলীতে ক্যান্সার হলে এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পাকস্থলীতে ক্যান্সার হলে মাংসের প্রতি অরুচি, স্বল্প খাবারেই তৃপ্তি, রক্তশুন্যতা এবং অন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাবার চলাচলে সমস্যার মতো লক্ষণগুলোও দেখা দিতে পারে।

৭. স্থায়ী স্বরভঙ্গ বা গলাব্যাথা ও গলদাহ

শ্বাসনালীর ক্যান্সার হলে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে। এছাড়া গলার পেশির স্ফীতি ঘটে গলায় একটি মাংসপিণ্ড জমে যাওয়ার মতো অনুভূতিও হতে পারে। এটিও ক্যান্সারের একটি অজানা লক্ষণ।

সূত্র: বোল্ড স্কাই

 

read more
রোহিঙ্গা রিপোর্ট

রাখাইনে নারীদের ‘বীভৎস’ যৌন নির্যাতন……………

Untitled-1 copy

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারীরা ধারাবাহিকভাবে সে দেশের সেনাবাহিনীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বলে ক’দিন আগে প্রমাণ হাজির করেছিল জাতিসংঘের এক অনুসন্ধানী দল। এবার সংস্থাটির অভিবাসন দফতরের প্রধান বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীরা বীভৎস যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন লৈঙ্গিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক উইলিয়াম ল্যাসি সুইং জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় তিনি ‘ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন’। ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার অসংখ্য রোহিঙ্গা নারীকে মানসিক সহায়তা দিতে ইউনাইটেড নেশনস ফান্ড ফর পপুলেশন অ্যাকটিভিটিস- ইউইএনএফপি কক্সবাজরে রোহিঙ্গা শিবিরের কাছে উইমেন ফ্রেন্ডলি স্পেস নামে এক প্রকল্প চালু করেছে। যৌন নিপীড়নের ভয়াবহতা অনুধাবনের পর তারা এর পরিসর বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশের শীর্ষ স্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করা হল।

ক’দিন আগে রোহিঙ্গাদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে জাতিসংঘের এক অনুসন্ধানী দল। সেখানে গিয়ে তারা ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ আর ভারতের এনডিটিভিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ধারাবাহিকভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা তুলে আনে। জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা সেই সময় দাবি করেন, রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে ব্যবহার করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক উইলিয়াম ল্যাসি সুইং মন্তব্য করেন: পরিস্থিতিকে যখন অপেক্ষাকৃত কম সহিংস ও শান্ত মনে করা হচ্ছে, তখনও গুরুতর যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের খবর আসছে। মিয়ানমার সরকার যৌন নিপীড়ন ও লৈঙ্গিক সহিংসতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না।

গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মানবিক সহায়তার কাজ সমন্বয় করছে আইওএম। (আইওএম) মহাপরিচালক ল্যাসি সুইং বলেন, নারী ও কিশোরীরা নয় কেবল, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে পুরুষ ও কিশোররাও। লিঙ্গ, বয়স ও সামাজিক অবস্থানভেদে নিপীড়নের তারতম্য হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইওএমের চিকিৎসকরা কয়েক ডজন নারীকে চিকিৎসা করেছেন, যারা গত আগস্ট থেকে নির্মম যৌন নির্যাতনের শিকার
হয়েছেন। তবে যে বিশালসংখ্যক নারী এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে, চিকিৎসা পাওয়া নারীরা তার ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। সুইং বলেন, ‘এ ধরনের নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া
মানুষকে সাহায্য করছে আইওএম। কিন্তু কতটা ভয়াবহ হারে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা হয়েছে তা কিছুসংখ্যক ঘটনা জানার মাধ্যমে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব কিনা, আমি যথেষ্ট
জোর দিয়ে বলতে পারছি না।’

ধারণা করা হচ্ছে, গত এক মাসে এক লাখ ৬০ হাজার নারী ও কিশোরী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে দুই বোন আল-জাজিরাকে বলেছেন, মিয়ানমারের সেনারা তাদের ধর্ষণ করেছে। ২৫ বছর বয়সী মিনারা নামে এক বোন নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, ‘সেনারা আমাদের নির্যাতন করেছে। তারা আমাদের বাবা-মাকে হত্যা করেছে। তারা আমাদের ধরে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং মাটিতে চেপে ধরে।’ আরেক বোন ২২ বছরের আজিজা বলেন, দুই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। দুই বোনকে উদ্ধার করে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে সাহায্য করে অন্য শরণার্থীরা।

কক্সবাজারে ইউইএনএফপির উইমেন ফ্রেন্ডলি স্পেসে সেখানে মানসিক সাহায্য নিতে আসছেন মানবিক বিপর্যয়ের এই সময়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী। এখন পর্যন্ত এমন ৭ হাজার নারীকে চিকিৎসা দিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। বর্তমানে সেখানে পাঁচটি উইমেন ফ্রেন্ডলি স্পেস রয়েছে। চলতি বছরেই সেটির সংখ্যা ১৫-তে দাঁড়াবে বলে জানানো হয়। জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়েই যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

শাকিলা যখন সেখানে আসেন, তখন তিনি খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। তার চোখের সামনেই তার স্বামী সন্তানকে হত্যা করেছে মিয়ানমারে সেনাসদস্যরা। যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর মানসিক বিভীষিকা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনননি তিনি। ৩৬ বছর বয়সী এই রোহিঙ্গা নারীর মতোই আরও লাখ লাখ নারী রোহিঙ্গা শিবিরে সেই ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে বাস করছে। সেই বিভীষিকা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে ইউএনএফপিএ এর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. নাতালিয়া কানিম বলেন, ‘রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের দুর্দশার কথা বাড়িয়ে বলার কিছু নেই। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাদের সবার নিরাপত্তা জরুরি। কোনোরকম বৈষম্য না করে তাদের স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য সুবিধা দিতে হবে। যৌন নিপীড়নসহ সব ধরনের সহিংসতা থেকে তাদের রক্ষা করতে হবে।’

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত দল সম্প্রতি সরেজমিন কক্সবাজার পরিদর্শনে গিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও কন্যা শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের যে ভয়াবহ আলামত পায়, তা নিয়ে সংস্থার ওয়েবসাইটে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনেও উঠে আসে আয়েশাদের (ছদ্ম নাম) কথা। ২০ বছর বয়সী এই নারী এসেই লেডা শরণার্থী শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্রের শরণাপন্ন হন। তার গ্রামে যখন সেনাবাহিনী প্রবেশ করে গ্রামবাসী পালাতে শুরু করে। আয়শা এএফপিকে জানান, ‘সেনা পোশাক পড়ে ৫ জন এসেছিল তার বাড়িতে। এদের একজন তাকে ধর্ষণ করে আর বাকীরা তা চেয়ে চেয়ে দেখতে থাকে। যুদ্ধ-সংঘর্ষে যৌন সহিংসতার ব্যবহার সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন এই সপ্তাহে বলেছেন, রাখাইনের নিরাপত্তা অভিযান নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, যৌন নিপীড়নকে ‘সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর (রোহিঙ্গা) জীবিতদের তাড়িয়ে দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।’

এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নারীদের স্বামী কিংবা অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যখন বাড়িতে থাকেন না তখনই ঢুকে পড়ে মিয়ানমারের সেনারা। সন্তানদের সামনে ধর্ষণ করে তাদের মাকে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার লেডা শরণার্থী শিবিরের এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত নওরিন তাশনুপা বলেছেন, প্রায় সব নারীকেই ধর্ষণ করা হয় পেটানোর পর। নওরিন জানান, ধর্ষিতা নারীদের থেঁতলে যাওয়া শরীর আর বুক কিংবা যৌনাঙ্গে কামড়ের চিহ্ন দেখেছেন তিনি।

এবিসি রেডিও’র সাংবাদিক লিয়াম কোচরেনের রাখাইনে প্রবেশের সুযোগ হয়েছিল। মিয়ানমার কতৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সেখানে গেলেও এবিসি-তে তিনি প্রতিবেদন করেছেন ‘রাখাইনের ভয়ঙ্কর সব ধর্ষণের গল্প বলছেন নারীরা’ শিরোনামে। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ঘুরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজন সম্পন্ন মানুষ মোহাম্মদ কাশিমের চোখের সামনে তার মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে সেনারা।

জাতিসংঘ অভিবাসন সংস্থার যৌন সহিংসতা থেকে সুরক্ষা সংক্রান্ত কর্মকর্তা ইরিন লরিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী সবশেষ ধাপে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের যে আলামত পেয়েছেন, সেখানে ধর্ষণকে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদের বিরুদ্ধে ভীতি ছড়াতে। সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনাগুলো বিচার করে তার মনে হয়েছে, যতো দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেওয়াই এগুলোর উদ্দেশ্য। মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে জাতিসংঘ ইতোমধ্যে ‘জাতিগত নির্মূলের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত’ আখ্যা দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অক্টোবরে শুরু হওয়া সেই যৌন নিপীড়নকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কাঠামোগত সহিংসতা আখ্যা দিয়েছেন।

 

read more
রোহিঙ্গা রিপোর্ট

রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা সম্পত্তি দখল নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার সরকার !

Untitled-1 copy

 

রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পোড়ানো বাড়িঘর এবং জমির দখল নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য এসব জমি ও সম্পত্তি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মন্ত্রী উইন মায়াত আয়ে।

 

জাতিসংঘ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ঘরহারা রোহিঙ্গাদের পুনরায় বসতি স্থাপনের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার সরকার এ কথা জানায়।

মিয়ানমার সরকারের দাবি, যেসব ভূমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হবে সেগুলো ‘রোহিঙ্গা জঙ্গি’রাই পুড়িয়েছে। মায়াত আয়ে বলেন, মিয়ানমারের আইন অনুসারে, পুড়ে যাওয়া ভূমি সরকার অধিগৃহীত ভূমিতে পরিণত হয়। তাই আইন মোতাবেক এখন সেগুলো সরকারি জমি।

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যেতে চায়, সরকার তাদের ‘যাচাই’ করার জন্য তৈরি আছে। এজন্য মিয়ানমার ১৯৯৩ সালের প্রত্যাবর্তন প্রচেষ্টার সময় আসা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একটি ‘জাতীয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া’ শুরু করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তের দু’টি পয়েন্টে এই যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন কার্যক্রম চালাবে মিয়ানমার সরকার।

 

‘যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষে শরণার্থীদের বসতি স্থাপন করা হবে দারগাইজর গ্রামে। আপাতত এটাই আমাদের পরিকল্পনা,’ বলেন মায়াত আয়ে। তবে কতজন শরণার্থী মিয়ানমারে ফেরত যেতে চায় সেই ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম ছিল ৪শ’রও বেশি। তার প্রায় অর্ধেকই পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়েছে।

 

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করলেও মিয়ানমার সরকার বলছে এই সংখ্যা ৫শ’।

read more
1 2 3 13
Page 1 of 13