close

সৌদি আরব

সৌদি আরব

‘সৌদি ছেড়ে পালিয়েছিলাম যেভাবে’

news-press-5c3c248e960ef

এটা এমনই এক নাটকীয় ঘটনা যার মধ্য দিয়ে সৌদি আরবে নারীদের সমস্যার ওপর নতুন করে বিশ্বের নজর পড়েছে। আঠারো বছর বয়সী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনুন গত সপ্তাহে ব্যাংকক বিমানবন্দরের হোটেল কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করেন এবং আর বাড়ি ফিরে যাবেন না বলে ঘোষণা করে

 

বিশ্বব্যাপী বিতর্কের সূচনা করেন। খবর বিবিসি বাংলার। তিনি তার জন্মভূমি সৌদি আরব থেকে পালিয়েছেন। তাকে ঘিরে টুইটারে এক তীব্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ক্যানাডার সরকার রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনুনকে আশ্রয় দিয়েছে। সৌদি আরবে নারীদের অধিকার এবং মর্যাদা নিয়ে বিতর্ক যখন চলছে তখন রাহাফ আল-কুনুনের মতো আরও একজন নারী এর আগে দেশ থেকে পালিয়ে ক্যানাডায় আশ্রয় নিয়েছেন। তার নাম

 

সালওয়া। চব্বিশ-বছর বয়সী এই নারী তার এক বোনকে নিয়ে সৌদির আরব থেকে পালিয়ে ক্যানাডায় চলে যান। এখানে তার নিজের বর্ণনাতেই পড়ুন তার কাহিনী: ছয় বছর ধরে আমরা দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলাম। কিন্তু এটা করতে হলে আমাদের পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের

প্রয়োজন হতো। এই কাগজগুলো জোগাড় করতে হলে আমার অভিভাবকের সম্মতি লাগতো। (সৌদি আরবে নারীদের বহু কিছু পেতে হলে পরিবারের পুরুষ অভিভাবকের সম্মতির প্রয়োজন হয়)। সৌভাগ্যক্রমে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলাম তখন আমার একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা

 

হয়েছিল। আমার একটি পাসপোর্টও ছিল। কারণ একটি ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার জন্য পাসপোর্টের দরকার হতো। কিন্তু আমার পরিবার এগুলো আমার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তাই, যে কোনো উপায়ে আমাকে ঐ কাগজগুলো জোগাড় করা দরকার হয়ে পড়েছিল। তাই আমি আমার ভাইয়ের

বাড়ির চাবি চুরি করি। এরপর চাবি তৈরির দোকানে গিয়ে ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করি। আমি লুকিয়ে বাড়ি থেকে বের হই। কাজটা ছিল খুবই বিপজ্জনক। ধরা পড়লে বড় রকমের বিপদে পড়ার ভয় ছিল। নকল চাবি হাতে আসার পর আমার আর বোনের পাসপোর্ট দুটিও জোগাড় করে ফেলি

 

। একদিন আমার বাবা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন আমি তার মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করি এবং সেখানকার রেজিস্টার্ড ফোন নাম্বারটি বদলে আমার মোবাইল নাম্বার দিয়ে দেই। তার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই আমি দেশ ত্যাগের জন্য আমার বাবার অনুমতিপত্র জোগাড় করি। যেভাবে ছাড়তে হলো দেশ: একরাতে সবাই যখন ঘুমচ্ছিল তখন আমরা দুই বোন গোপনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে

পড়ি। আমরা গাড়ি চালাতে জানি না। সেজন্য ট্যাক্সি ডাকি। ঘটনাচক্রে সৌদি আরবে বেশিরভাগ ট্যাক্সি ড্রাইভার হলেন বিদেশি। ফলে, দুজন নারী নিজেরাই বিমানবন্দরে যাচ্ছেন, এটা নিয়ে ট্যাক্সি ড্রাইভারের মনে কোন প্রশ্নের উদয় হয়নি। আমরা রিয়াদে বাদশাহ খালেদ আন্তর্জাতিক

বিমানবন্দরের দিকে রওনা হলাম। কেউ যদি এটা লক্ষ্য করতো এবং যদি আমরা ধরা পড়তাম, তাহলে নির্ঘাত আমাদের মৃত্যু হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরটিতে আমি এক হাসপাতালে কাজ করে যে কিছু টাকা জমিয়েছিলাম। তা দিয়েই আমরা বিমানের টিকেট এবং জার্মানিতে ট্রানজিট ভিসা

 

জোগাড় করি। সৌদি বেকার ভাতার কিছু অর্থও আমি জমিয়ে রেখেছিলাম। যাহোক, আমার বোনকে সাথে নিয়ে আমি জার্মানগামী বিমানে উঠে বসি। এটা ছিল আমার প্রথম বিমান ভ্রমণ। সেই অভিজ্ঞতা ছিল অনন্য। একদিকে যেমন খুশি ছিলাম, অন্যদিকে বেশ ভয়ও লাগছিল। বাড়ির সবাই

সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন দেখলো আমরা দু’বোন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছি তখন আমার বাবা পুলিশে খবর দেন। কিন্তু যেহেতু আমি বাবার ফোন নাম্বার বদলে দিয়েছিলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যখনই বাবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল, সেই কলগুলো আমার ফোনে বেজে

 

উঠছিল। জার্মানিতে বিমান নামার পরও আমি তাদের কাছ থেকে টেক্সট মেসেজ পাচ্ছিলাম। এভাবে লুকিয়ে বিদেশ পাড়ি জমানোর কারণ সম্পর্কে সালওয়া বলেন, সৌদি আরবে আমাদের যেটা ছিল তাকে ঠিক জীবন বলা চলে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে আমি বাড়িতে বসে থাকতাম।

সারাদিন কিছুই করার ছিল না। এটা আমাকে খুব কষ্ট দিতো। আমাদের শেখানো হয়েছিল পুরুষরা মেয়েদের চেয়ে সব দিক থেকে ভাল। রমজান মাস এলে আমাকে রোজা রাখার জন্য জোরজবরদস্তি করা হতো। জার্মানিতে পৌঁছানোর পর আমি লিগাল এইড গ্রহণ করলাম এবং একজন আইনজীবী খুঁজে বের করলাম যিনি আমাকে রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে সাহায্য করেছিলেন। তার সাহায্যে আমি কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার আবেদনপত্র

 

পূরণ করলাম। আশ্রয় নেয়ার জন্য কানাডাকে বেছে নেয়ার কারণ তুলে ধরতে গিয়ে সালওয়া বলেন, এ দেশটির মানবাধিকার রক্ষার রেকর্ড খুবই ভাল। তার ভাষায়, ‘সিরিয়ার শরণার্থীদের যেভাবে কানাডা আশ্রয় দিয়েছিল, সেই খবর আমি আগ্রহ নিয়ে পড়েছিলাম। তাই আমি ভাবলাম কানাডাই হবে আমার থাকার জন্য সবচেয়ে ভাল জায়গা। আমার আবেদনপত্র গৃহীত হওয়ার পর আমি জার্মানি থেকে কানাডার টরন্টো শহরে চলে আসি।

যেদিন টরন্টোতে এসে নামলাম, বিমানবন্দরে কানাডার পতাকা দেখে মনটা ভরে গেল। এখন আমি আমার বোনকে নিয়ে মন্ট্রিল শহরে থাকি। এখানে আমার জীবনে কোন শঙ্কা নেই। কোনো কিছুর জন্য কেউ আর আমাকে আর চাপ দেয় না। সৌদি আরবে টাকা-পয়সা হয়তো অনেক বেশি, কিন্তু এখানে রয়েছে ব্যক্তি স্বাধীনতা। আমার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আমি যখন খুশি বাইরে যেতে পারি। কারও অনুমতি লাগে না। এখানকার জীবন নিয়ে

 

আমি সত্যি খুব খুশি। এখনকার প্রকৃতিতে হেমন্তের দৃশ্য আর বরফ পড়া দেখতে আমার খুব ভাল লাগে। আমি এখন ফরাসি ভাষা শিখছি, সাইকেল চালানো শিখছি, সাঁতার কাটা শিখছি। আইস স্কেটিং শিখছি। আমার মনে হচ্ছে জীবনটাকে নিয়ে সত্যি ভাল কিছু করছি। আমার পরিবারের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। আমার মনে হয়, একদিক থেকে সেটা দু’পক্ষের জন্যই ভাল হয়েছে। এখন আমার বাড়িঘর এখানেই। এই জীবনই আমার জন্য ভাল।

read more
সৌদি আরব

সৌদি তরুণীকে আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়াকে অনুরোধ করলো জাতিসংঘ

_105117222__105091613_rahafleaving-1

নিজের পরিবার ছেড়ে পালানো এক সৌদি তরুণীকে একজন ‘বৈধ শরণার্ধী’ বলে ঘোষণা করে জাতিসংঘ তাকে আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়াকে অনুরোধ করেছে। তাকে আশ্রয় দেয়া যায় কীনা, সেটি বিবেচনার জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা অস্ট্রেলিয়াকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর পর অস্ট্রেলিয়া

 

তা ‘বিবেচনার’ আশ্বাস দিয়েছে। রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুন নামের এই তরুণী ব্যাংককের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। তিনি দাবি করছেন, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করায় তাঁর জীবন এখন হুমকির মুখে। “আমার পরিবার অতি তুচ্ছ অপরাধেও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়” –

 

রয়টারকে বলেন তিনি। সৌদি আরবে ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। মিজ রাহাফ এখন হোটেল কক্ষ থেকে তার অবস্থা জানিয়ে নিয়মিত টুইট করছেন। জাতিসংঘের ঘোষণার পর তিনি লেখেন, কাউকে আপনার পাখা ভেঙে দিতে দেবেন না। আপনি স্বাধীন, লড়াই করে আপনার অধিকার আদায়

করুন।” অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, রাহাফ মোহাম্মদ আল কানুনকে আশ্রয় দেবার ব্যাপারটি তারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ীই বিবেচনা করবে। বিবিসি বাংলায় এ ঘটনা নিয়ে আরও পড়ুন: আশ্রয় চান ব্যাংককে আটকে পড়া সৌদি তরুণী পিতার অবাধ্য

 

হলেই কেন জেলে ঠাঁই হয় সৌদি নারীদের? ছবির কপিরাইটটুইটার Image caption রাহাফ মোহাম্মদ তার হোটেল কক্ষ থেকে টুইট করছেন সৌদি তরুণীটি থাইল্যান্ড হয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু থাই কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে

ব্যর্থ হন। রাহাফের ঘটনা নিয়ে অন্য সৌদি নারীরাও কথা বলতে শুরু করেছেন। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘সারা’ ছদ্মনামধারী এক সৌদি নারী বলেন, “রাহাফ এক অনুপ্রেরণা, কিন্তু সেই যে প্রথম এ কাজ করলো তা নয়, এবং নিশ্চিতভাবেই শেষ জনও নয়। ”

 

“আমরা কিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি তা অন্যেরা বুঝবে না। আমরা স্বাধীনতার স্বাদ কি তা জানি না। আমার পাসপোর্ট সবসময় তার নিজের কাছে রাখেন আমার বাবা। ঘুমানোর সময়ও তার পাশে রাখেন সেটা। আমরাআর অভিভাবকত্ব চাই না, আমরা বাড়ির বাইরে যেতে চাই, পরিবারকে ছাড়া

স্টারবাকসে কফি খেতে চাই” – বলেন এ নারী। ব্যাংকক থেকে বিবিসির জোনাথন হেড জানাচ্ছেন রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুনকে ঘিরে ব্যাংককে নাটকীয় উত্তেজনা চলছে গত কদিন ধরেই। বিবিসি বাংলায় আরো খবর: যুদ্ধাপরাধের জন্য জামায়াতের বিচারের উদ্যোগ টক-শো নিয়ে বিএনপি’র

 

নীতিমালায় কী থাকছে? নির্বাচন পরবর্তী ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কী? ছবির কপিরাইটGETTY IMAGES Image caption ব্যাংকক বিমানবন্দর এই সৌদি তরুণী নিজের হোটেল কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন, যাতে থাই কর্তৃপক্ষ তাকে ফেরত পাঠাতে না পারে। শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ

শরণার্থী সংস্থা এতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ তাকে শরণার্থীর স্বীকৃতি দেয়ায় এখন কোন না কোন দেশকে তাকে আশ্রয় দিতে হবে। এখন অস্ট্রেলিয়া সরকার এক বিবৃতিতে জানাচ্ছে, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা তাদের অনুরোধ জানিয়েছে, রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুনকে অস্ট্রেলিয়ায়

 

আশ্রয় দেয়ার কথা বিবেচনার জন্য । ছবির কপিরাইটGETTY IMAGES Image caption রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনুন থাই সরকার ইতোমধ্যে রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুনকে ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

 

তার সঙ্গে দেখা করতে ব্যাংককে ছুটে এসেছেন তার বাবা এবং ভাই। কিন্তু থাই কর্তৃপক্ষ বলছে, কেবল মাত্র জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষেই তার সঙ্গে দেখা করা যাবে। অন্যদিকে জাতিসংঘ বলছে, এই সিদ্ধান্ত আসলে পুরোপুরি মিস মোহাম্মদ আল-কানুনের ওপর।

read more
সৌদি আরব

পিতার অবাধ্য হলেই কেন জেলখানায় ঠাঁই হয় সৌদি নারীদের?

_102840607_gettyimages-140939290

নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর গত বছর বিশ্বজুড়ে সৌদি আরবের প্রশংসা করা হয়। কিন্তু দেশটিতে নারীদের ওপর এখনও অনেক ধরনের বিধিনিষেধ চালু আছে। এর অন্যতম হচ্ছে ‘পুরুষ অভিভাবকতন্ত্র’ যেখানে একজন নারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো

 

তিনি নিজে নিতে পারেন না। তার পক্ষ হয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন শুধুমাত্র তার বাবা, ভাই, স্বামী কিংবা ছেলে। চলতি বছরের শুরু থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় জোর আলোচনা, যখন এক সৌদি তরুণী বাড়ি থকে পালিয়ে ব্যাংককে গিয়ে সেখানকার বিমানবন্দরের এক হোটেলে নিজেকে

 

অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাকে যদি বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়, বলছেন তিনি, তাহলে তার জেল হতে পারে। একজন সৌদি নারীকে তার পাসপোর্টে আবেদনের জন্য, বিদেশে যাওয়ার জন্য, সরকারি বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়াশুনার জন্য, বিয়ে করার জন্য, এমনকি কারাগার ছেড়ে যাওয়ার জন্যও তার

পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়। ছবির কপিরাইটTWITTER/@MERIAM_AL3TEEBE Image caption মারিয়াম আল ওতাইবি বাড়ি ছেড়ে পালানোর পর তাকে ১০০ দিন জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। “এটা এমন একটা বিষয় যা প্রত্যেক সৌদি নারী এবং মেয়েকে জন্ম থেকে

 

আমৃত্যু ভোগায়,” বলছিলেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সাংবাদিক মোনা এলতাহাউই, “এর মাধ্যমে নারীকে মূলত একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে দেখা হয়।” সৌদি আরব নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সনদে সই করেছে। সৌদি সরকার বলে থাকে শরিয়া আইনে

লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরের এই রক্ষণশীল রাজতন্ত্র নারী ও মেয়ে শিশুদের খেলাধুলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। পাশাপাশি নারীদের স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল খেলা উপভোগেরও অনুমতি দিয়েছে। তবে নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য রোধে কোন আইন না থাকায় এবং

 

সৌদি সরকার বৈষম্যের কোন আইনগত সংজ্ঞা তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সৌদি পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থাকে সমাজ ও দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা । এই পুরুষ

অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা কোরানের আয়াত থেকে চালু করা হয়েছে বলে বলা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১৬ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে সৌদি আরবে স্পষ্ট এবং প্রত্যক্ষভাবে অভিভাবকত্ব আইন প্রয়োগ করা হয়।” এই আইনকে চ্যালেঞ্জ

 

করার জন্য বেশ ক’জন নারীকে বিচার করা হয়েছে এবং জেলে পোরা হয়েছে। ছবির কপিরাইটREUTERS Image caption বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বেশি কিছু সংষ্কার কর্মসূচি চালু করেছিলেন। আরও পড়তে পারেন: সাতক্ষীরায় মাটির নিচে শত বছরের পুরনো সিন্দুক নির্বাচন

পরবর্তী ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কী? ১৩ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব সৌদি মানবাধিকার কর্মী সামার বাদাউই তার বাবার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং এক আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেন। এরপর বাবার অভিভাবকত্ব বাতিলের

 

জন্য তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার বাবাও মেয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে বলে সামার বাবার অবাধ্য মেয়ে। এক সৌদি আদালত ২০১০ সালে সামার বাদাউইকে কারাদণ্ড দেয় এবং তিনি সাত মাস আটক ছিলেন। সৌদি মানবাধিকার কর্মীরা বিষয়টিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি

আকর্ষণ করলে মামলা প্রত্যাহার করা হয়। পিতার অবাধ্যতার অভিযোগে মারিয়াম আল ওতাইবি নামে আরেক সৌদি নারীকেও ২০১৭ সালে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সৌদি নারী অধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা বাতিল করার আবেদন জানিয়ে আসছিলেন।

 

“সৌদি নারীরা পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা চায় না” বলে টুইটারে বড় ধরনের এক আন্দোলন শুরু হয়। এই প্রথা বাতিলের দাবি করে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি বাদশাহর দরবারে ১৪,০০০ স্বাক্ষরসহ এক আবেদন পেশ করা হয়। কিন্তু সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুলআজিজ আল শেখ

ঐ আবেদনপত্রকে ‘ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সৌদি সমাজ ব্যবস্থার ওপর ‘মরণ আঘাত’ বলে বর্ণনা করেন। তবে পাঁচ মাস পর সৌদি বাদশাহ এক আদেশ জারি করেন যেখানে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকত্ব প্রথার প্রয়োজন হবে না বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু ২০১৮ সালে

 

নারীদের গাড়ি ড্রাইভিং-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবে নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের ধরপাকড় শুরু হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ‘বিদেশি শক্তির সন্দেহজনক যোগাযোগ’সহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়। বিচারে এদের দীর্ঘমেয়াদী সাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সরকারপন্থী গণমাধ্যম এদের ইতোমধ্যেই ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করতে শুরু করেছে।

read more
সৌদি আরব

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

Untitled-1-147

সৌদি আরবে আটক থাকা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। জেদ্দার শামাইসি কারাগার থেকে বিমানযোগে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য তাদেরকে রবিবার আলাদা স্থানে জড়ো করা হয়। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট-আই

 

এ খবর জানিয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অন্তত ৫০ জন রোহিঙ্গাকে জেদ্দা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সোমবার বিকালের ফ্লাইটে তাঁদের তুলে দেয়া হতে পারে বলে জানান জার্মানিতে নির্বাসিত

 

রোহিঙ্গা ব্লগার নেয় স্যান লুইন। এর আগে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন বন্দি শিবিরে কয়েক বছর আটকে রাখা হয় বলে টুইটারে লিখেছেন তিনি৷ তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন নেয় স্যান লুইন৷ এতে এক ব্যক্তির কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে৷ তিনি গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে

আছেন বলে জানান৷ এখন তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে ঐ ভিডিওতে দাবি করেন তিনি৷ ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করে ব্লগার নেয় স্যান লুইন ডয়চে ভেলেকে জানান, তিনি জেদ্দা বিমানবন্দরে থাকা একজনের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তাঁদেরকে স্থানীয় সময় বিকাল পাঁচটায় (বাংলাদেশে রাত

 

আটটা) সৌদি এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইটে বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে বলে ঐ ব্যক্তি তাঁকে জানিয়েছেন৷ নেয় স্যান লুইন বলেন, অতীতেও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ তিনি জানান, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে

ঢুকেছিলেন৷ পরে তাঁদের আটক করার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ ঐ দেশগুলোর দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা করে৷ এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া বাকি তিন দেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়, বলে দাবি তাঁর৷ নেয় স্যান লুইন বলেন, ‘‘আমি বাংলাদেশের অবস্থান বুঝি৷ সৌদি আরবে বাংলাদেশের

 

অনেক শ্রমিক কাজ করছেন৷ সেজন্য তারা কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা চান না৷’’ কিন্তু এমনিতেই বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন৷ ফলে নতুন করে যাওয়া এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি৷ ‘মিডল ইস্ট আই’ নামে সংবাদভিত্তিক

এক অনলাইন সংস্থা গত নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি শুরুর খবর প্রকাশ করেছিল৷ মধ্য অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফর শেষ হওয়ার কিছুদিন পর এই প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে দাবি করেছিল মিডল ইস্ট আই৷ সেই

 

সময় বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গা বিতাড়ন বন্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছিল৷ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র আমিনা যুবাইরি মিডল ইস্ট আই’কে সেই সময় বলেছিলেন, ‘‘আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম৷ তাঁরা বলেছে, রোহিঙ্গাদের

বিতাড়ন করা হচ্ছে না৷ বিতাড়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের লক্ষ্য করা হয়েছে, যাঁরা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে এবং যাঁরা রোহিঙ্গাদের সৌদি আরবে যে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়, সেটা পেতে নিজেদের রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে৷’’ এদিকে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য

 

বিষয়ক গবেষক অ্যাডাম কুগল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক আইনের পরোয়া না করে এমন সব স্থানে মানুষদের ফেরত যেতে বাধ্য করেছে, যেখানে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হয়৷ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে, যেখানে পর্যাপ্ত সেবার অভাব রয়েছে এবং পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনার বিষয়টি সৌদি আরবের রেকর্ডে আরেকটি কালো চিহ্ন৷

read more
সৌদি আরব

সৌদিতে নতুন অনেক ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ হচ্ছে, নিয়োগ হবে…

Untitled-10-19-852×400

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে সৌদি আরবে কর্মরতদের বেতন ৪.৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। সৌদি আরবের স্থানীয় এবং বিদেশি সাড়ে চারশ প্রতিষ্ঠানের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এ তথ্য তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। চলতি বছরে যেখানে জিডিপির হার এক দশমিক তিন শতাংশ, সেখানে ২০১৯ সালে জিডিপির

 

হার বেড়ে দাঁড়াবে তিন দশমিক ছয় শতাংশে। এছাড়া চাকরির নতুন অনেক ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিন্তাভাবনা করছে, পরের বছর তারা নারীকর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে।

 

আরও পড়ুন…

মন্টিনিগ্রোর সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে ভোটাভুটি বন্ধ করতে কসাভোর পার্লামেন্ট ভবনে টিয়ার গ্যাস ছুড়েছেন বিরোধী দলীয় সাংসদরা। বুধবার দেশটির সংসদেএ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের নেতারা যাতে পার্লামেন্ট কক্ষ ত্যাগ করেন সেজন্য তিন ক্যানিস্টার টিয়ার গ্যাস ছোড়েন সেল্ফ ডিটারমিনেশন মুভমেন্ট পার্টির এমপিরা।

read more