Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /var/sites/r/radioghumti.com/public_html/index.php:44) in /var/sites/r/radioghumti.com/public_html/wp-content/plugins/wp-super-cache/wp-cache-phase2.php on line 62
রাজনীতি – Radio Ghumi
close

রাজনীতি

রাজনীতি

বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ে যা বলল ফখরুল…

Untitled-1 copy

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও আহতের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বেতবনা সীমান্তে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন গ্রামবাসী নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আমি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কোন মানুষকেই বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা আইন সম্মত নয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অস্ত্র থাকলেই তা ত্বরিৎ প্রয়োগ করা সুশাসনের লক্ষণ হতে পারে না। বরং তা বেপরোয়া ও বেআইনী কর্মকান্ডেরই অংশ। মির্জা আলমগীর বলেন, সুদীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় বিএসএফ সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা করে আসছে।

এর সঙ্গে দেশের বিজিবি-ও যদি যুক্ত হয় তাহলে সীমান্তবর্তী মানুষজনের জীবনের আর কোন নিরাপত্তা রইল না। এখন জনগণ প্রশ্ন করছে, বিজিবি কার স্বার্থ রক্ষা করছে? বিএনপি মহাসচিব বলেন,

এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাংলাদেশে জঙ্গলের রাজত্ব স্থায়ীভাবে আসন লাভ করবে। গণসম্মতিহীন সরকার প্রতিষ্ঠিত থাকলেই কেবলমাত্র প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেআইনী কর্মকান্ড চালাতে উৎসাহী হয়। কারণ তাদের কোন জবাবদিহিতা করতে হয় না।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মধ্যরাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে মহাভোট ডাকাতির মহা আয়োজন অনুষ্ঠিত করার জন্যই দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনানুগ কাজে অনীহা প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।

গুম-খুন-অপহরণ-নারী শিশু নির্যাতন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে গিয়েই সামাজিক অপরাধীরা দেশব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সামাজিক অনাচার এখন ভয়াবহ মাত্রা লাভ করেছে। আতঙ্ক ও ভয় দেশের মানুষকে গ্রাস করে ফেলেছে।

দেশ এখন নৈরাজ্যের অন্ধকারে ডুবে গেছে। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী অঞ্চলেও রক্ত ঝরছে। ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে বলেই রক্তঝরার পরিমান দিনে দিনে বাড়ছে।

মির্জা আলমগীর বলেন, এই অরাজক পরিস্থিতি চলতে পারে না। অত্যাচারিত জনগণের অন্ত:রুদ্ধ ক্ষোভ যেকোনো মূহুর্তেই বিস্ফোরিত হবে। দেশের মানুষ সকল ভয়ভীতি অতিক্রম করে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবেই।

আমি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্তে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন গ্রামবাসীর নিহত ও অসংখ্য মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তির জোর দাবি করছি।

read more
রাজনীতি

হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর খবর শুনে আঁতকে উঠলেন রিজভী “!!

Drd8Ju_1550044384

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রকাশিত, অবসরে গ্রামের বাড়িতে অবকাশ কাটানোর সংবাদ শুনে আঁতকে উঠেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব খুব ভালো খবর। জনগণ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ গণনা শুরু করেছে। কবে আসবে সেই সুখবর যে,

আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন। আমরা সেই তারিখটা জানতে চাই। কারণ, এর আগে ১৯৯৬-২০০১ এ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আপনি ঘোষণা করেছিলেন ৫৭ বছর বয়সে আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আপনি ৭২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছেন।

আর এক মাস পরে আপনার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত হবে। রিজভী আরও বলেন, দেশের জনগণ আজ পর্যন্ত শেখ হাসিনার কোনো কথার সত্যতা খুঁজে পায়নি। মানুষ এখন মনে করে তিনি যা বলেন করেন সেটির উল্টোটা। আমরা দেখেছি তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রসিকতা করেন,

কখনো কাঁদেন, কখনো হাসেন, কখনো গান করেন, হরেক রকমের কথা বলেন। তিনি মানুষের বিশ্বাসের জায়গাটা পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা বিনীতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো আপনি অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্তটি দ্রুত কার্যকর করুন।

খুব তাড়াতাড়ি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তে মুক্তি দিন। খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক জনগোষ্ঠীর প্রাণশক্তি বেগম খালেদা জিয়াকে নির্মম মানসিক ও শারীরিকভাবে যন্ত্রণা দেয়া হচ্ছে অন্ধকার কারাগারে রেখে।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেগম জিয়াকে আদালতে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে কষ্ট দেয়ার জন্যই বসিয়ে রাখা। তার চিকিৎসা না দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করছে প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার। আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে।

জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার হীন চক্রান্ত চলছে নানাভাবে। রিজভী বলেন, গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্মতিতে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য প্রস্তাব এনেছেন মিডনাইট ইলেকশনের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান

চৌধুরী নওফেল। তার পরদিন নামফলক কালি দিয়ে মুছে দেয়া হয়েছে। বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দিলেও হৃদয়ের উপর কোনো হুকুম চলে না,

জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী দর্শন ও আদর্শের পিতা। জনগণের প্রেরণার উৎস। তার নাম বাংলাদেশি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে। কোনো ষড়যন্ত্র তাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারবে না।

read more
রাজনীতি

খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ বলে দিলেন তথ্যমন্ত্রী

Untitled-1 copy

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার কিংবা কোনো বন্দিকে মুক্তি দেয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই। এখতিয়ার একমাত্র আদালতের। তাই খলিদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য বিএনপির সামনে দুটি পথ খোলা।

হয় আইনিভাবে লড়তে হবে না হয় অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিভজী বার বার সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান

জানিয়ে আইন ও আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ও অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।’ সচিবালয়ে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কোনো বন্দি দোষ শিকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে মার্জনা চাইলে,

তিনি ক্ষমা করতে পারেন। এ ছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্তি পেতে হবে।’ খালেদা জিয়া দোষ শিকার করে ক্ষমা চাইলে রাষ্ট্রপতি মুক্তির ব্যবস্থা করতেও পারেন বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

read more
রাজনীতি

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ‘সফলতা এবং ভুলগুলো’

021526Kalerkantho_18-03-16-42

১৯৮১ সালের মে মাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যখন হত্যা করা হয়, খালেদা জিয়া তখন নিতান্তই একজন গৃহবধূ। রাজনীতি নিয়ে চিন্তাধারা তো দূরের কথা, রাজনৈতিক কোনো অনুষ্ঠানেও তাকে খুব একটা দেখা যেতো না। প্রেসিডেন্ট জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি

 

আবদুস সাত্তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এক পর্যায়ে মি. সাত্তারকে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একদিকে দলীয় কোন্দল, অন্যদিকে বিএনপির অনেক নেতার এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগদান- এই দুই পরিস্থিতিতে বিএনপি তখন

 

অনেকটা ছত্রভঙ্গ, বিপর্যস্ত এবং দিশাহারা। দল টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র কিছু নেতার পরামর্শ এবং অনুরোধে ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। বিএনপি নিয়ে গবেষণাধর্মী বই লিখেছেন মহিউদ্দিন আহমদ- তার মতে, সেই সময় থেকেই

খালেদা জিয়া হয়ে উঠেন বিএনপির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতার বলয়ের ভেতরে থেকে দল তৈরি করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে খালেদা জিয়া সে দলকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নেন। মি. আহমদ বলেন, ‘সেভাবে এটি রাজনৈতিক দল ছিল না, যেভাবে

 

রাজনৈতিক দল তৈরি হয় আমাদের দেশে। বিএনপির রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে উঠা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আজকে আমরা যে বিএনপি দেখি, যদিও সেটার আইকন জিয়াউর রহমান কিন্তু দলটাকে এ পর্যায়ে এনেছেন খালেদা জিয়া। সামরিক শাসক জেনারেল

এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের সময় রাস্তায় বেশ সক্রিয় ছিলেন খালেদা জিয়া। ওই আন্দোলন দেশব্যাপী তার ব্যাপক পরিচিতিও গড়ে তুলেছিল। জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে বিএনপি জয়লাভ করে। রাজনীতিতে আসার ১০ বছরের মধ্যেই

 

প্রধানমন্ত্রী হলেন খালেদা জিয়া। এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের সময় তাকে কয়েকবার আটক করা হলেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন। ওই সময় খালেদা জিয়াকে বেশ কাছ থেকে দেখেছেন বিএনপির বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। ‘তিনি সব সময় যেটা

বলতেন সেটা করতেন… কখনো ওনাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখিনি,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সেলিমা রহমান। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ‘সফলতা এবং ভুলগুলো’ ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিএনপির অধীনে একটি বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে খুব অল্প সময়ের জন্য

 

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা বাদ দিলে খালেদা জিয়া পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেছেন দুই বার। প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন দেশ পরিচালনায় তিনি ছিলেন একেবারেই অনভিজ্ঞ। এমনকি সংসদেও তিনি ছিলেন নতুন। কিন্তু জীবনের প্রথম নির্বাচনেই খালেদা জিয়া পাঁচটি আসন

থেকে লড়ে পাঁচটিতেই জয়লাভ করেন। তার রাজনৈতিক জীবনে যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তার কোনটিতেই পরাজিত হননি তিনি। খালেদা জিয়ার শাসন আমল, ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬- এই দুইভাগে ভাগ করেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। আমেরিকার পাবলিক ইউনিভার্সিটি

 

সিস্টেমের শিক্ষক ড. সাঈদ ইফতেখার আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে দুর্নীতি তেমন একটা বিস্তার লাভ করেনি। এছাড়া, ওই সময় তিনি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। মি. আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে অত্যন্ত রক্ষণশীল

একটি রাষ্ট্র। সেই রক্ষণশীল রাষ্ট্রে তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। নারীদের ঘিরে যে কিছু প্রচলিত সংস্কার ছিল, সে সংস্কারের ব্যারিয়ারগুলো উনি ভেঙে ফেলেছেন। বাংলাদেশের নারীর অগ্রযাত্রায় ওনার একটা বড় ভূমিকা রয়েছে বলে আমার সবসময় মনে হয়।’ কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি

 

ক্ষমতাসীন হবার পর প্রগতিশীল ধারা থেকে দলটি সরে আসে বলে তিনি মনে করেন। ‘ওনাকে যেন ক্রমশই আপস করতে দেখা গেছে ধর্ম-ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অতিমাত্রায় যোগাযোগ এবং আপসের ফলে আন্তর্জাতিক যে মহল- প্রাচ্য এবং

পাশ্চাত্য- এ দুই জায়গা থেকে তিনি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন,’ বলছিলেন মি. আহমেদ। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল এবং নির্বাচনের পর জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়েই সরকার গঠন করে। ২০০১ থেকে

 

২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অনেকের ধারণা। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও দলের ভেতরে নানা টানাপড়েন সপষ্ট হয়ে উঠে। সমপ্রতি খালেদা জিয়ার জীবন কাহিনী নিয়ে বই প্রকাশ করেছেন

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রের প্রতি খালেদা জিয়ার অবিচল আস্থা ছিল এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে তার ক্যারিশমা রয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ভুলগুলো কী?- এমন প্রশ্নে মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ নির্দলীয়

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলেছিল তখন খালেদা জিয়ার উচিত ছিল সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন দেয়া। এতে করে বিএনপি আরো বেশি জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসতো বলে তিনি মনে করেন। মাহফুজ উল্লাহর দৃষ্টিতে ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকারের কিছু

দুর্বলতা ছিল। তিনি বলেন, ‘এই সময়টিতে কিছু কিছু দুষ্টু লোক শাসন পদ্ধতিতে ঢুকে কিছু কিছু কাজকর্ম করেছে যেটার দায় গিয়ে তার ওপর পড়েছে। বিষয়টা তাই হয়। সে সময় যদি তিনি সরকারকে সুশাসনের পথে আরো আনতে পারতেন দৃঢ়তার সঙ্গে, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে,

 

সেগুলো ঐভাবে ঘটতো না।’ অন্য অনেক রাজনীতিবিদের মতো খালেদা জিয়ার সফলতা বা অবদান যেমন রয়েছে, তেমনি তিনি বিতর্ক বা ভুলের ঊর্ধ্বে নন বলে মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক। তবে এমন কিছু ভুল তিনি করেছিলেন যেগুলোর মাশুল তার দল বিএনপি এখনো দিচ্ছে- অনেকের

ধারণা। তবে খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় ভুলগুলো, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যেও মতভেদ আছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানকে অতি দ্রুততার সঙ্গে দলের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং ২১শে

 

অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার বিষয়টি বিএনপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় দলের সিনিয়র অনেক নেতার সঙ্গে খালেদা জিয়ার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তারই একটি ফলাফল হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল

অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। ক্ষমতার মেয়াদের একেবারে শেষের দিকে দল ছেড়ে গিয়েছিলেন অলি আহমদ, যিনি এক সময় খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে আনার জন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়া

 

গ্রেপ্তার হবার আগে মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। খালেদা জিয়া যখন রাজনৈতিকভাবে নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছিলেন, ওই একই সময়ে তার পারিবারিক ট্র্যাজেডিও ঘটে ২০১৫ সালে ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। ২০১৪ সালের ৫ই

জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপি রাজনৈতিকভাবে অনেকটা চাপে পড়ে যায়। খালেদা জিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এসে হাজির হয় তার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত এক বছর ধরে তিনি কারাগারে। তার কারাবাস এতটা

 

দীর্ঘ হবে সেটি অনেকেই ভাবেননি। দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার শরীরও ভালো যাচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। বিএনপি নেত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকে নানা রকম সমীকরণ করছেন।

তবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি নিয়ে এখনই কোনো উপসংহারে পৌঁছতে চান না সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। ‘১৯৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগ আজকের বিএনপির তুলনায় কম বিপর্যস্ত ছিল না। বিএনপির দু’জন নেতা (খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান) আজকে প্রকাশ্যে

 

অনুপস্থিত। এছাড়া গত আট-দশ বছরে বিএনপির মধ্যে কি কোনো ভাঙন হয়েছে? বিএনপি থেকে কি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ অন্য দলে চলে গেছেন? কাজেই আমি বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব শঙ্কিত নই,’ বলছিলেন মাহফুজ উল্লাহ। তবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কী হবে- সেটি এখন বেশ অনিশ্চয়তায় রয়েছে বলে মনে করেন সাঈদ ইফতেখার আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এই শিক্ষক এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার ‘খুব ভালো কোন’ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন না। কারণ তাকে মুক্ত করার জন্য বিএনপির তরফ থেকে কোনো কার্যকর রাজনৈতিক চাপ বা

 

আন্দোলন দেখেননি মি. আহমেদ। সাঈদ ইফতেখার আহমেদ মনে করেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তার অনেকটাই নির্ভর করছে বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠিত হয়ে সরকারের ওপর কতটা চাপ তৈরি করতে পারবে তার ওপর।

 

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যদি বিএনপি কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে, সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই বলে উল্লেখ করেন মি. আহমেদ।

তথ্য সূত্র- মানবজমিন

read more
রাজনীতি

অবশেষে মন্ত্রণালয়ে ঠাঁই হল মাশরাফির…!

TYD5BX_1549812913

একাদশ জাতীয় সংসদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশেন চীফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী

 

কমিটির সদস্যদের নাম প্রস্তাব করেন। এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের

 

সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, মাহবুব আরা গিনি, সাবেক ফুটবলার ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, জুয়েল আড়েং, সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য এ এন এম নাইমুর রহমান দুর্জয়। কমিটির সর্ব কনিষ্ট সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজাকে।

read more
রাজনীতি

খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে যা বললেন ওবায়দুল কাদের

BrqBJJ_1543421097

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি বিষয়, এতে সরকারের কোনো হাত নেই। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা

 

বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দী। তার জেলে থাকার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রসঙ্গত, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে হয়ে খালেদা জিয়া এখন কাবাবন্দী। আজ ৮ ফেব্রুয়ারি তার কারাবন্দী দশার বছর পূর্তি।

 

দুটি মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত হয়েছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। এদিকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে নানা মেরুকরণ হচ্ছে। ডাকসুতে মেরুকরণ অনুযায়ী সমীকরণ হবে। আমাদের প্রতিপক্ষ

 

ছাত্রসংগঠন যদি ঐক্যবদ্ধ-জোটবদ্ধ প্যানেল দেয় সেই অনুযায়ী আমরাও প্যানেল দেব। সেখানে প্রতিপক্ষের মেরুকরণ অনুযায়ী আমাদের সমীকরণ হবে।

read more
রাজনীতি

বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার নেপথ্যে ৩ কারণ

image-55215-1546014070

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানিয়েছেন তিনটি কারণে দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গতকাল সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়

 

আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, প্রথমত- কটা বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমরা নির্বাচনে গিয়েছিলাম। যদি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না যেতাম তাহলে আপনারাই বলতেন না গিয়ে ভুল করেছেন।

 

দ্বিতীয় কারণ হলো- নির্বাচনে গেলে আমাদের নেতাকর্মীরা বের হয়ে আসতে পারবে। মানুষের কাছে যেতে পারবে। দলটি আগের চেয়ে চাঙ্গা হবে। আরেকটা কারণ ড. কামাল হোসেনের ওপর অন্ধ বিশ্বাস ছিল। নির্বাচন এতোটা খারাপ অবস্থা হবে তা আমাদের কারো ধারণায় ছিল না। তিনি

 

বলেন, নির্বাচন এতোটাই খারাপ হয়েছে যে, আমাদের একজন প্রার্থীকেও ৯০ ভাগ সুষ্ঠুভাবে প্রচারণা চালাতে দেয়নি। একদিকে প্রার্থীদের ও নেতাকর্মীদের বাড়ির পাশে বোমা ফাটিয়েছে আওয়ামী লীগ। গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় ভয়ভীতি ছড়িয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে যেন তারা ভোটকেন্দ্রে না যায়। গ্রামের বয়বৃদ্ধা মহিলাদের বলেছে ভোট দিতে গেলে বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হবে। ছেলেদের জেলে পাঠানো

হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশনেত্রীর সঙ্গে গত সপ্তাহে দেখা হয়েছে। তিনি একেবারেই হাঁটতে পারেন না। দুই হাতেই প্রচণ্ড ব্যথা। শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক খারাপ। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলন আরো বেগবান করতে হবে।

 

এই আন্দোলন সফল করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আইনজীবী ও বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু আন্দোলন বললেই আন্দোলন হবে না। সারা দেশে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যাদের মা বোনদের ধর্ষণ করেছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। পুনর্বাসন করতে হবে। তাহলে

তারা আপনাদের জন্য বা খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করবে। দলকে তৃণমূল থেকে পুনর্গঠন করতে হবে। তরুণদের নেতৃত্বে আনতে হবে। তাহলে আন্দোলন করার মানুষ পাওয়া যাবে। আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল

 

আবেদীনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সুব্রত চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জগলুল হায়দার আফ্রিক, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মনির হোসেন, এসএম কামাল উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম মেহেদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

read more
রাজনীতি

ঠাঁই হলো হাসানুল হক ইনুর

enu-4-20190207200445

মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পাওয়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত কিছু এমপির মত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে ঠাঁই হলো সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এছাড়াও সরকারের শরিক দল জাতীয় পার্টি ও জাসদের ৩ জন সদস্যকে সভাপতি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে গঠিত ৬টি স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে শরিক দলের তিন জনকেই দায়িত্ব দেয়া হয়। জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে।

 

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মুজিবুল হক চুন্নুকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এর আগে তিনি এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয়

কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে শামসুল হক টুকুকে। আগে তিনি এই

 

মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নবগঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্যরা হলেন- রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, শফিকুল ইসলাম শিমুল, শফিকুল আজম খান, সাইফুজ্জামান শিখর, এইচ এম ইব্রাহিম, নাসিমুল আলম চৌধুরী ও গাজী মোহাম্মদ শাহ

নওয়াজ। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলেন- শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, শাহাজান খান, মো. কামরুল ইসলাম, শামীম ওসমান, ইসরাফিল আলম, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মানু মজুমদার ও মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তথ্য মন্ত্রণালয়

 

সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলেন- তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের, কাজী কেরামত আলী, সিমিন হোসেন রিমি, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সারোয়ার সাইমুন কমল, আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ও মো. ইবাদুল করিম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডা. আফসারুল আমিন, হাবিবুর রহমান, শামসুল আলম দুদু, কুজেন্দ্রনাথ ত্রিপুরা, ফরিদুল হক খান, পীর ফজলুর রহমান ও নূর মোহাম্মদ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্যরা হলেন-

 

মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, দবিরুল ইসলাম, বজলুল হক হারুন, জিল্লুল হক হাকিম, এ কে এম সেলিম ওসমান, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও আনোয়ারুল আশরাফ খান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলেন-

 

প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, অধ্যাপক আলী আশরাফ, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, মৃণাল কান্তি দাশ, দিদারুল আলম, আয়েশা ফেরদৌস, পংকজ দেবনাথ, সাদেক খান ও ইকবাল হোসেন অপু।

read more
রাজনীতি

এক ব্যক্তির ইশারায় চলছে দেশ

mthumb

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কথা ও কাজের কোন মিল নাই। তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশার) এত মিথ্যা কথা বলেন, তা হয়তো উনি নিজেও জানেন না।

 

সরকারের বাইরে উনি যাবে না কারণ তিনি সরকারের আজ্ঞাবহ। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মত উপজেলা নির্বাচনও একই রকম হবে বলে অভিযোগ করেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে এসে তিনি

 

এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুরো জাতির কাছে নির্বাচন ব্যবস্থাকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধই করেনি, যদি এক কথায় বলতে হয়, তবে বলতে হয় নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে শাসক গোষ্ঠী। দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে। এক ব্যক্তির ইশারায় চলছে বাংলাদেশ। আজ

প্রশ্নের মুখে প্রশাসন, আইন বিভাগ, আদালত, সকল প্রতিষ্ঠান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে কোন অনিয়ম হলে সঙ্গে সঙ্গে ঐ কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হবে আলোচকের করা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আস্থা রেখে একাদশ জাতীয়

 

সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল, কিন্তু কী দেখতে পেলাম? রাতের আঁধারে ২৯ ডিসেম্বর সরকারের সকল যন্ত্র এক হয়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করল। এরপর আর বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার যা বলেন, তার বেশির

ভাগ মিথ্যা। দলীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আর কোন নির্বাচনে যাবে না। হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গিয়ে আমরা প্রতারিত হয়েছি। দুঃখজনক হলেও সত্য কেউ ভোট দিতে পারেনি, নতুন প্রজন্মের ভোটারাও। এমন কী

 

শাসক দলের সমর্থকরাও ভোট দিতে পারেনি, কিন্তু সরকার দাবি করছে তারা নির্বাচিত। এটা প্রতারণা ছাড়া আর কী। আমার কষ্ট হয় আমি এক সময় ঐ দলের নেতা ছিলাম। এজন্য কী ৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি? বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার

বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকতে পছন্দ করে। তার প্রমাণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থেকেছে পূর্ণ মেয়াদে অথচ তাদের নেতা বলেছিল এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন, পরবর্তীতে আবার নির্বাচন দেয় হবে। কিন্তু তা রক্ষা করেনি শাসক দল আওয়ামী লীগ। তারা

 

কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক নির্বাচন চায় না। যার প্রমাণ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কয়জন প্রার্থী মাঠে থেকে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তাদের মধ্যে আমিও একজন। সারাদেশের মানুষ দেখেছে কীভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছিল। সময় মত আমার রক্তাক্ত

শরীর উদ্ধার করা হয়েছে বলেই আজ আমি বেঁচে আছি দাবি করেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি উল্টো আমাদের প্রার্থীদের নাজেহাল করল দেশেবাসী তা দেখেছে। সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিব বলেন, রাজপথের

 

আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। একটার পর একটা মামলা দেয়া হচ্ছে আমাদের নেত্রীকে। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় জামিন পাওয়ার পরও তিনি জেলখানায়। আপনি কি দেখেছেন ৭৪ বছর বয়সের একজন ভদ্র মহিলাকে পাঁচ বছর জেলে রাখার

 

পর আবারও পাঁচ বছরের জেল দেয়া হয়? এটা আসলে কোন ধরনের আইনের শাসন? বর্তমান সরকার দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

read more
রাজনীতি

‘আমার অবস্থা শেখ হাসিনার মতোই’

DnY2w1_1549542448

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের দুঃখের মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। ৪৩তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধনে রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।

 

এসময় ভারতরত্ন সম্মান প্রাপ্তির জন্য তাঁকে সংবর্ধনা জানায় পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড কর্তৃপক্ষ। এই অনুষ্ঠানেই ওই মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, কিছুদিন আগে ৮৪ বছর কমপ্লিট করেছি। এখনও সুস্থ আছি। প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরে

 

হিসেব করে দেখেছি গত দেড় বছরে প্রায় দুলক্ষ তেষট্টি হাজার কিলোমিটার ঘুরেছি ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায়। ভারতবর্ষের বাইরে একটি দেশেই গিয়েছি– সেটা বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম। কবি শঙ্খ ঘোষ এবার বাংলাদেশ বইমেলা উদ্বোধন করেছেন। সেদিন একটা লেখায় পড়ছিলাম,

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা৷ তাঁর সঙ্গে আমার দুঃখের মিল রয়েছে৷ তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন ‘এখন আর পারি না। সময় পাই না। নানা বাঁধা৷ কিন্তু মনটা চলে যায় ছোটবেলার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর দিকে। যখন সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত বইমেলায় ঘুরতাম। পাতা

 

উলটে দেখতাম। সারাটা দিন বইমেলায় ঘুরতাম। প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, সরকারি কাজে আটকে না গেলে আমার মনে পড়ে না, এমন কোনও বইমেলা হয়নি যে আমি আসিনি। শুধুমাত্র কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়, বইমেলার আনন্দে অংশ নিতেই আমি বইমেলায় আসতাম। এভাবেই

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত প্রিয়জন প্রণববাবু তাঁর আবেগ ছড়িয়ে দিলেন বইমেলায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ, সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার এবং দশটি দেশের দশজন অতিথি-সাহিত্যিক। কবি শঙ্খ ঘোষ এবার বাংলাদেশ বইমেলা উদ্বোধন করেছেন। অনুষ্ঠানের স্বাগত

 

ভাষণে গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, মাননীয় প্রণব মুখোপাধ্যায় শুধু আজ নয়, গত চল্লিশ বছর ধরে কলকাতা বইমেলার আপনজন। সত্তর দশকের শেষ থেকে যখনই একটু সময় পেয়েছেন, চলে এসেছেন বইমেলায়। ঘুরেছেন বিভিন্ন স্টলে। সেইসব ছবি আমাদের

 

কাছে সম্পদ হয়ে আছে। রাষ্ট্রপতি হবার কিছুদিন আগেও তিনি বইমেলায় এসেছিলেন, গিল্ড প্রবর্তিত পুরস্কার প্রদান করতে। সেবার পুরস্কার পেয়েছিলেন নবনীতা দেবসেন। যখনই কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা বিপন্ন হয়েছে তখনই পাশে থেকেছেন প্রণবদা। কারণ তিনি বইবন্ধু।

সূত্র: কলকাতা২৪।

read more
1 2 3 37
Page 1 of 37